আসাদুজ্জামান সম্রাট
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫৮ এএম
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৫ এএম
সংসদ ভবন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির নেতৃত্বে এসে দলকে সংগঠিত করে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তিনবার সরকার গঠন করেছেন। খালেদা জিয়া-উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে এখন তারই পুত্র তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নয়া সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার পর বিকালেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার।
বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডে জনগণের আস্থার সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারেক রহমানের সঙ্গী হচ্ছেন কারা তা দেখার জন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার দিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।
আজ সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই দিনে দুটি শপথ নেবেন। একটি শপথ নেবেন সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে সকালে প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন নির্বাচিতরা। এরপর আলাদাভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘অনেকগুলো হয়-এর পরে’ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ হলে হতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হয়Ñ এতগুলো হয়-এর পরে তারপরে হলে হতে পারে।’
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই দিন বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা।
সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর শপথ বইয়ে সই করেন। শপথ নেওয়ার নির্ধারিত ফরম আছে। এগুলো আসনভিত্তিক প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের তফসিলে আছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার ফরম। সেটি অনুসারে সংসদ সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ নেবেনÑ এমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুটি শপথ নেবেন। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিয়ে ভিন্নমত আছে বিএনপির। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রায় সব বিষয়ে একমত। তারা জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেগুলো নিয়ে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সম্পর্কিত, এগুলো বাস্তবায়নে গণভোট হয়েছে। তাতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে তিনটি স্তর। ইতোমধ্যে দুটি স্তর পার হয়েছে। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। বাস্তবায়নের দ্বিতীয় স্তরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় তৃতীয় স্তর শুরু হওয়ার কথা। এই স্তরে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা আছে আদেশে।
প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমানো, কিছু নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পদ্ধতি সরাসরি সংবিধানে যুক্ত করার মতো বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে। অবশ্য উচ্চকক্ষের গঠন পদ্ধতিসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়েছিল বিএনপি। দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নিজেদের সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবগুলো রেখেছিল।
শপথ পড়াতে সিইসিকে চিঠি : নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত আগের সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গত ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি।
সংবিধানের ৭৪ (৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদে বহাল রয়েছেন বলে গণ্য করা হবে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প সাংবিধানিক বিধান কার্যকর হচ্ছে। সংবিধানের ১৪৮ (১) ও ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ পাঠের বিধান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হচ্ছে ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ।
এতে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত কেউ শপথ পড়াতে না পারলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন। এ ছাড়া সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়েই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ানোর ক্ষমতা রাখেন।
মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি : মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী, পরে মন্ত্রী, পরে প্রতিমন্ত্রী এবং পরে উপমন্ত্রীদের (যদি থাকে) শপথবাক্য পাঠ করাবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর শনিবার থেকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
নিয়ম অনুসারে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আজ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভায় নির্বাচিত দলনেতা রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন।
কেমন হবে মন্ত্রিসভা : এবারের মন্ত্রিসভায় কারা ডাক পাচ্ছেন তা নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, নবীন ও প্রবীণের মেলবন্ধনে গঠিত হবে মন্ত্রিসভা। যাতে স্থান পাবে আঞ্চলিক ভারসাম্য ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরাও। নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি গতকাল সোমবার বিকালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম দিয়েছেনÑ যাদেরকে ফোন করে বিকালে শপথ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন।
ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে নাসিমুল গণি সাংবাদিকদের জানান, হবু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শপথ অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় শপথ আয়োজনের কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যে চাহিদা জানানো হয়েছে তা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাসিমুল গণি বলেন, ‘সংসদের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এ ছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
নতুন মন্ত্রিসভায় দুই ডজনের মতো পূর্ণমন্ত্রী থাকতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এর বাইরে, এক ডজনের মতো উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাখা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও বেশ কয়েক জনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
নারীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নামও আলোচনায় রয়েছে। তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে যারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন, তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেনÑ লক্ষ্মীপুর সদর আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল-৫ থেকে নির্বাচিত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-৬ আসনে জয়লাভ করা ইশরাক হোসেন, খুলনা-১ থেকে নির্বাচিত রকিবুল ইসলাম বকুলের নাম আলোচনায় আছে। ঢাকা-১৩ আসনের ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন সেলিম দল বিলুপ্তির পুরস্কার পেতে পারেন।
বিগত সময় বিএনপির সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরুকেও রাখা হতে পারে মন্ত্রিসভায়। আলোচনায় আছেন হুমায়ুন কবীর, মাহদী আমিন ও সাবেক সচিব ইসমাঈল জাবিউল্লাহও।
এদিকে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা এবারের মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জায়গা পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে। আবার মন্ত্রিসভায় আলোচিত কারও স্থান হতে পারে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও। আলোচনায় যাদের নামই থাকুক না কেন আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম না জানানোর আগে সবই একটি ধারণাপ্রসূত বিষয়।
১৩ দেশের প্রতিনিধি থাকছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি। গতকাল সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১,২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মোট ১৩ দেশের প্রতিনিধি। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসার মতো উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি থাকবেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা আজ রাত ১০টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। তার সঙ্গে থাকবেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা। নেপাল সরকার জানিয়েছে, এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার এবং সহযোগিতার বন্ধন গভীর করার প্রতিশ্রুতি বহন করছে। এর আগে শুক্রবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশিলা কার্কি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচনী জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের আশা প্রকাশ করেছেন।
নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইসহ এই ১৩ দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতি বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক গুরুত্বের প্রমাণ বহন করছে।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নির্দেশনা : সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে। একইভাবে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম হওয়ায় রাস্তা চলাচলের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে নানা নির্দেশনা।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন খেজুর বাগান ক্রসিং হতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) হতে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যান চলাচল সীমিত করা হবে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন প্রতিরক্ষা গ্যাপ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে গমনের নির্দেশনা দিয়েছে। ধানমন্ডি ২৭ হতে আগত যানবাহন আসাদগেট-প্রতিরক্ষা গ্যাপ দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে গমনাগমন করবে। আসাদগেট-বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিং (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-প্রতিরক্ষা গ্যাপ-ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে গমন করবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ইন্দিরা রোড হতে আগত যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বামে মোড় নিয়ে প্রতিরক্ষা গ্যাপ-বামে মোড় নিয়ে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন যানজট/দুর্ভোগ এড়াতে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প সচল থাকবে। সকল প্রকার যানবাহন চালকদের মঙ্গলবার সকাল ৮টা হতে সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেকরোড এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্মানিত নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।