প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০২ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৫ পিএম
ঢাকার পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে দেশের ও ইসলামের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছেন।
ঢাকার পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “যেখানে নিজেদের নিজেদের ভেতরে সৌহার্দ্য না থাকে, তাদের সাথে থাকলে সেখানে জাতি ধোঁকা খাবে। বাংলাদেশের মানুষ ধোঁকায় পড়বে এবং বাংলাদেশ সুন্দর হওয়ার পরিবর্তে একটা অসুন্দর দেশ হবে। এরপরে আমরা দেখেছি তারা কী চায়। বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি, আমেরিকার সাথে তারা গোপনে বৈঠক করে সেখানে আমাদেরকে উগ্রবাদী হিসেবে তারা উপস্থাপন করেছে। আমাদের বাংলাদেশের কোনো দলীয় নেতা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, উগ্রবাদী আছে—এমন কথা কোনো নেতা বলছেন, এরকম ইতিহাস বাংলাদেশে নাই। কারণ, বাংলাদেশকে কেউ কলঙ্কিত করতে চায় নাই।
“কিন্তু আমাদের দুঃখের সাথে বলতে হয়, জামাতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাহেব আমেরিকার দূতাবাসে আমাদেরকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন”।
তিনি বলেন, “সবাই এ কথা অকপটে স্বীকার করতে বাধ্য যে, বিভিন্ন সংস্থা আমাদের নিয়ে যে জরিপ করেছে, সেখানে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকা একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক দল হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কিন্তু সেখানে আমাদেরকে উগ্রবাদী-জঙ্গিবাদী হিসেবে উপস্থাপন করায় আমরা ঘৃণাভরে এটাকে ধিক্কার জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করছি”।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যেহেতু ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে তাই জামায়াতের জোটে থাকতে পারেনি বলে দাবি করেছেন চরমোনাই পীর।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রেজাউল করীম বলেন, “আমরা যখন দেখছি যেখানে ইসলামের স্বার্থ নাই, ইসলামের বাক্স নাই, মানবতার এবং দেশের কোনো স্বার্থ নাই। আমেরিকার সঙ্গে গোপনে বৈঠক, ভারতের সঙ্গে গোপনে বৈঠক; বৈঠক হতেই পারে, কিন্তু সেখানে গোপন কেন? এবং ভারত থেকে তো পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, এটা ধারাবাহিকতার অংশ। তাহলে বোঝা গেল, তাদের বৈঠক আরো আগে থেকেই চলছে। এই দিক থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যেহেতু ইসলামের জন্য, দেশের জন্য এবং মানবতার কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে, তাই আমরা ওখানে থাকতে পারি নাই। আমরা এককভাবে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন এখন ২৫৮টি আসনে নির্বাচন করছি”।