প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৭ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৬ পিএম
ঢাকার পুরানা পল্টনে বুধবার বিকাল পৌনে তিনটার দিকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। ছবি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে ফেইসবুক থেকে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সেখানে অনেক বিষয়ের পাশাপাশি ক্ষমতায় এলে শরিয়াহ বা ইসলামি আইনের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছে তারা।
ঢাকার পুরানা পল্টনে বুধবার বিকাল পৌনে তিনটার দিকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
ইশতেহারে বলা হয়, দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
৩০ দফা মৌলিক ইশতেহার
৩০ দফার মৌলিক ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনায় শরীয়াহর প্রাধান্য, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূরীকরণ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা, সার্বজনীন কর্মসংস্থান, পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার এবং জনমতের যথার্থ প্রতিফলনের জন্য আনুপতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) নির্বাচন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, কওমি মাদরাসার ডিগ্রিধারী ওলামাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
আরও যা রয়েছে-
১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।
২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহর প্রাধান্য।
৫. কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ গঠন।
৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ, কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।
৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ।
৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।
৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।
১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সকল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা।
১২. রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।
১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ।
১৬. শুধু দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন নয়, নির্মূলকরণ কর্মসূচি গ্রহণ।
১৭. শুধু আইনের শাসন নয়, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠায় পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।
২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।
২১. খুন, গুম, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের অবসান।
২২. জনগণের বাক্স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়, অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা।
২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু।
২৫. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ।
২৬. কওমি মাদরাসার ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামায়ে কিরামকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা।
২৭. সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ।
২৮. বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।
২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩০. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
বিশেষ কর্মসূচিতে যা যা রয়েছে
ইশতেহারের ১২টি বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একবেলা পুষ্টিকর খাবার, যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণ, সার্বজনীন স্বাস্থ্যকার্ড চালু, ন্যাশনাল জব পোর্টাল চালু, কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র, সরকার নিয়ন্ত্রিত বাস ব্যবস্থা এবং নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য আবাসন সুবিধা।
১. হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা।
২. প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা পুষ্টিকর খাবার।
৩. ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণ।
৪. সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড চালু, ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষিকার্ড প্রবর্তন।
৫. ন্যাশনাল জব পোর্টাল, যেখানে দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের সুবিধা থাকবে।
৬. কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন।
৭. ঢাকাসহ সকল নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা।
৮. সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা চালু।
৯. সকলের জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ।
১০. নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
১১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
১২. কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়ন।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।