নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫২ পিএম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৭ পিএম
বরিশালে বুধবার আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ মানুষকে অপদস্থ করত, গুণিজনকে অপদস্থ করত—আমরা আশা করেছিলাম ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে এটা থাকবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটা দল—জনগণ যাদেরকে গুপ্ত নামে চেনে—এখনও এটা করেই যাচ্ছে।
বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক ময়দানে বুধবার দুপুরে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে এমন কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “দুঃখের সাথে আমরা খেয়াল করলাম যে এই রীতি বন্ধ হয় নাই। একটি রাজনৈতিক দল, যাদের একটি অন্য পরিচয় আছে, জনগণ যাদেরকে একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদের কি পরিচয়ে চেনে? গুপ্ত পরিচয়ে চেনে, গুপ্ত পরিচয়ে।”
জনসভায় উপস্থিত শ্রোতা ও নেতাকর্মী উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন– “আপনারা চেনেন কারা তারা? বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত? চেনেন আপনারা?
এ সময় জনসভা থেকে ধ্বনিত হতে থাকে ‘জামায়াত, জামায়াত’।
এরপর তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই বোনেরা, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে।”
তাদের জালেম বলার ব্যাখ্যায় বাংলাদেশের সমাজে, সংস্কৃতি, অর্থনীতিতে নারীর অবদান তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আজ আমরা অত্যন্ত কষ্টের সাথে দেখছি, অত্যন্ত ঘৃণার সাথে দেখছি, এই যে নতুন জালেম, যাদেরকে মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে, এই জালেমদের নেতা, সে দুইদিন আগে প্রকাশ্যে বলেছে… বাংলাদেশের নারীদের জন্য সে একটি অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছে।
“দেশের মা-বোনদের প্রতি যে ব্যক্তি বা যেই দলের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই; দেশের মা-বোনদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশ কখনও অগ্রগতি আশা করতে পারে না। তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশের মানুষ সম্মানজনক কোনো মর্যাদাপূর্ণ আচরণ আশা করতে পারে না।”
বরিশালের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক বলেন, “এইসব গুপ্তদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। যারা দেশের মানুষকে সম্মান করতে জানে না, যারা পরিকল্পনা করে রাখে যে ১২ তারিখের পর থেকে তারা জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে, তাদেরকে উচিত শিক্ষা আপনাদেরকে দিতে হবে।”
তিনি বলেন, তাদের নেতা প্রকাশ্যে মা-বোনদের অপমান করার পর বলছে আইডি হ্যাক হয়েছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছে, আইডি হ্যাক হয়নি।
দেশের অর্থনীতিতে নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যে নারীদের কাঁধে ভর করে আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর তথা অর্থনীতির চাকা চলমান। সেই নারীদেরকে একটি দল—ওই যে বললাম গুপ্ত সংগঠন তারা নারীদের অপমান করেছে।
পলাতক আওয়ামী লীগের এদেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছর যারা মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার নিয়ে কথা বলেছে তাদেরকে গুম-খুন করেছে তারা।
সৎ মানুষের শাসন চায়, কিন্তু তাদের গোড়াতেই মিথ্যা
যারা আমি-ডামি নির্বাচন করেছে, নিশিরাতের নির্বাচন করেছে তাদেরকে এদেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এই বাংলাদেশে আর আমি-ডামি নির্বাচন চলবে না। এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ; চলবেও জনগণের রায়ের ভিত্তিতে, জনগণের প্রতিনিধির মাধ্যমে বলেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই গুপ্ত সংগঠনের কুমিল্লার একজন নেতা তাদের দলের নারী কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত জনগণের পা ধরেন, এরপর জনগন আপনাদের পা ধরবে।
তারা বলছে সৎ মানুষের শাসন চায়। কিন্তু তাদের গোড়াতেই মিথ্যা, মা-বোনদের অপমান করার পর তারা অপরাধ ঢাকতে আইডি হ্যাকের কথা বলেছে। তারা বিকাশ নাম্বার চাচ্ছে, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে—কিন্তু তারাই বলছে সৎ লোকের শাসনের কথা।
বিএনপি চেয়ারম্যান জনগণের পা ধরার প্রসঙ্গে বলেন, “প্রিয় ভাইবোনেরা ওই গুপ্ত সংঠনের নেতা যেমন বলেছে ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরতে আমরা তার উল্টোটা বলি-আমি আমার নেতাদেরকে আমি আমার কর্মীদের বলি ১২ তারিখ থেকে না আপনারা ১৩ তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকবেন।
“কারণ, কারণ আমরা দেখেছি জনগণের শক্তি যার পেছনে না থাকে, জনগণের সমর্থন যার পেছনে না থাকে তার পরিণতি কী হতে পারে পাঁচ তারিখ পাঁচ আগস্ট আমরা সমগ্র দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।”
জনগনই আসল ক্ষমতার উৎস
আমরা যারা বিএপি করি, আমরা বিশ্বাস করি জনগনই আসল ক্ষমতার উৎস। এবং সেজন্যই আমরা যেসব পরিকল্পনা করি আমরা চেষ্টা করি জনগণের জীবনযাত্রা কীভাবে ভালো করা যায়, একইসঙ্গে কীভাবে জনগণের ভাগ্য ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়।
জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মী ও শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনরা ১২ তারিখে যে অধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে জুলাইয়ে যে শহিদরা প্রাণ দিয়েছে। এই শহিদদের আত্মত্যাগের যদি মর্যাদা দিতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশকে পুণর্গঠন করতে হবে এবং অবশ্যই গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে।
“যদি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হয় তাহলে তা জনগণের সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া সেটি সম্ভব নয়।”