গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৬ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
সংসদীয় আসন-১১৩, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) এর অস্থায়ী কার্যালয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দশমিনা থেকে বৃহস্পতিবার এ নোটিস জারি করা হয়।
নোটিসে স্বাক্ষর করেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য (সিভিল জজ, বরিশাল) সাব্বির মো. খালিদ। যা প্রকশ্যে আসে শুক্রবার রাতে।
নোটিস সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট এনামুল হক কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) বিধি লঙ্ঘনের উল্লেখ করা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনি অফিসে নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায় এবং তার কর্মী-সমর্থকদের আহত করে। বিষয়টি আচরণবিধিমালার ৬(ক) বিধির পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না- তা জানতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কারণ দর্শানোর নোটিসটি দ্রুত জারি করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানোর জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে জোটগত সমঝোতার কারণে নুরুল হক নুর প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে বিএনপি আলাদা প্রার্থী দেয়নি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় থাকেন হাসান মামুন।