চট্টগ্রাম-২
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৯ পিএম
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। ছবি গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত তার প্রার্থিতা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
আদালতে সারোয়ারের রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির।
সরোয়ার আলমগীর এর আগে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে পেতে। গত ১৮ জানুয়ারি চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছিল। এরপর ২২ জানুয়ারি ঋণ পুনঃতফসিলের কারণে তার নাম ঋণখেলাপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আদেশ চেম্বার আদালত বহাল রাখে।
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেয়। আদালতে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মলয় কুমার রায়।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সারোয়ারের করা রিট আবেদনের ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক রেখেছিল হাইকোর্ট, যা আদালতের এদিনের কার্যতালিকায় ৮৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে সারোয়ারের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের আপিল প্রথম দফা নামঞ্জুর করেছিল ইসি। কিন্তু ওইদিন বিকাল ৫টায় সারোয়ারের মালিকানাধীন এএনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের একটি স্থিতাদেশ জমা দেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী। এরপর ইসি একতরফাভাবে সারোয়ারের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছিল ।
ইসির ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সারোয়ার গত ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে রিট আবেদনটি করেন।
বিএনপির প্রার্থী সারোয়ারকে নির্বাচনের মাঠের বাইরে রাখতে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন ৬টি সিভিল পিটিশন করেন।
এরপর ২২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজের সর্বশেষ আদেশে বলা হয় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছিলেন।
সারোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন বলে ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম হয় । চেম্বার জজ তার আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় হাইকোর্টের ওই রায় কার্যকর রাখে।
প্রিমিয়ার লিজিংয়ের সঙ্গে সারোয়ার আলমগীরের ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয় নিয়ে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে রিট আবেদনের শুনানিতে যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সারোয়ার আলমগীরের খেলাপি ঋণ রয়েছে মর্মে অভিযোগ করেন জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা।
তবে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ কাদেরের বেঞ্চে মঙ্গলবার দেওয়া রায়ে প্রতিপক্ষের সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলো।
আদেশের
পর সারোয়ার আলমগীরের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, “মনোনয়ন
বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত
করে হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরকে দলীয় প্রতীক (ধানের
শীষ) বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফলে তার নির্বাচনে অংশ
নিতে আইনগত বাধা নেই।”