প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৭ পিএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে এবার এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হয়েছে। এ নিয়ে রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে যোগ দিয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের মুখ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি)। এর ফলে এই জোটের মোট দলের সংখ্যা হয়েছে দশটি।
জাতীয় প্রেসক্লাবে রবিবার বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এনসিপি ও এলডিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে।
এই
সংবাদ সম্মেলনে আটটি দলের শীর্ষ
নেতাসহ কর্নেল অলি আহমেদও উপস্থিত
ছিলেন। তবে এনসিপির কোনো
নেতা সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না।
“এনসিপির সাথে কিছুক্ষণ আগেই আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে
তারা আমাদের সাথে এই সমঝোতা
বা জোটে যুক্ত হয়েছে।
তারা আজ রাতের মধ্যেই
সংবাদ সম্মেলনে সেই ঘোষণা দিবেন,” বলেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, “এটা আমাদের মজবুত
নির্বাচনী সমঝোতা। সারাদেশে তিনশো আসনের বিভিন্ন আসনে আমাদের মধ্যে
প্রার্থী নির্ধারণ করেছি। যেহেতু দুই দল শেষ
পর্যায়ে এসেছে। খুবই দুরূহ হয়ে
গেছে। শেষে এসে কোনো কোনো দলের আগ্রহ থাকা
সত্ত্বেও আমরা তাদের যুক্ত
করতে পারিনি।”
জামায়াতের
সঙ্গে জোটে অংশ নেওয়ার
আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত দুইদিনে এনসিপির
পরপর শীর্ষ পর্যায়ের দুইজন নেতা তাসনিম জারা
ও তাসনূভা জাবীন পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া ত্রিশ জন
নেতা এনসিপির নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির যোগ
দেওয়া নির্বাচনি সমঝোতা বলে উল্লেখ করেন
জামায়াতের আমির বলেন, “আমরা কিসের ভিত্তিতে
একত্রিত হয়েছি? আমাদের লক্ষ্যের কথা আমরা বলেছি,
এটা আমাদের একটি মজবুত নির্বাচনি
সমঝোতা। সারা বাংলাদেশের তিনশ
আসনে আমরা বসে নিজেদের
মধ্যে আলাপ-আলোচনার মধ্য
দিয়ে বিভিন্ন আসন নিজেদের মধ্যে
আমরা নির্ধারণ করেছি।
“আমাদের সমঝোতা অলমোস্ট কম্পিলিট। কয়েকটি জায়গায় মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও সেটি
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর
চূড়ান্ত করা হবে। এটি
নিয়ে কোনো সমস্যা হবে
না।”
সুষ্ঠু
নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়ে শফিকুর রহমান
বলেন, “আমাদের হাতে দেড় মাসের
কম সময় আছে। আমরা
সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন
করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভোটের তারিখ যেন হেরফের না
হয়। এ জন্য আমরা
সহযোগিতা চাই।
“এখনো সকলের জন্য
সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। আমরা আশা করি
সুষ্ঠু নির্বাচন। এর ব্যতিক্রম জাতি
মানবে না।”
গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)—এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে। পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। জামায়াতসহ এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল।
নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সংখ্যা দাঁড়াল ১০–এ।
তবে
কোন দল কতগুলো আসনে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সেটি ঘোষণা
দেওয়া হয়নি এই সংবাদ
সম্মেলনে।