মজুমদার ইমরান
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৫৯ এএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:০২ এএম
যেদিকেই যাচ্ছেন, ঘরের বাইরে পা রাখলেই জনসমুদ্রে ভাসতে হচ্ছে তারেক রহমানকে। শনিবারও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি বের হন। প্রায় সারা পথেই ঘটে বিপুল জনসমাগম। আগারগাঁও এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো
তারেক রহমান। কোনো বিশেষণের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন পড়ে না কোনো পদ-পদবি উল্লেখেরÑ এক নামেই সুপরিচিত তিনি সারা দেশে। ১৭ বছরের বেশি সময় ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত। আর নির্বাসনে থাকার সময়েই ২০১৮ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তিনি। তার পর থেকে যত দিন গেছে, ততই দেশবাসী দেখতে পেয়েছে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও একনিষ্ঠতা; তার ফলে যতই দিন গেছে, ততই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার তিনি সপরিবারে দেশে ফিরেছেন। পেয়েছেন ইতিহাসের স্মরণীয় সংবর্ধনা। লাখ লাখ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজধানীতে এসে তার মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের দিনটিকে ঐতিহাসিক করে তুলেছেন, তাকে মাতৃভূমিতে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এখন যেখানে যাচ্ছেন, সেখানেই দেখা দিচ্ছে জনস্রোত।
দেশের মাটি স্পর্শ করে আপ্লুত তারেক রহমান। রাজধানীর পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে সংবর্ধনায় অনুষ্ঠানে তিনি ১৭ মিনিট বক্তৃতা করেছেন। তার বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবেই মূল্যায়ন করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নিরাপদ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার প্রতিটি কথা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। দেশে ফিরেছেন তিন দিন হয়, যেদিকে যাচ্ছেন, সেদিকেই মানুষের ঢল নামছে। কেবল মানুষ আর মানুষ। তাকে প্রতিটি গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে জনসমুদ্রে ভেসে। মানুষের প্রবল আস্থা তার প্রতি। জনগণের অপরিমেয় ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। দেশ শেষ হয়ে গেছেÑ তাই বেশিরভাগ মানুষ ভাবছেন, এ দেশ আবার গড়তে হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিকল্প নেই এ মুহূর্তে। তারা দেশের নেতৃত্ব গ্রহণে প্রণোদিত করতে চান তারেক রহমানকে। তারা যে তাকে চান, সেটিরই তারা প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন তাকে ঘিরে জনারণ্য রচনার মধ্য দিয়ে। প্রত্যাবর্তনের দিন ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দর থেকে তিনশ ফিটের মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্ব তারেক রহমানকে অতিক্রম করতে হয়েছে সাড়ে ৪ ঘণ্টায়। তার গাড়িবহর ঘিরে ছড়িয়েছিল জনতার উত্তাল ঢেউ। একইভাবে গত শুক্রবার সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যেতে তার সময় লেগেছে পাঁচ ঘণ্টা। বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়েও তাকে পেরুতে হয়েছে ভিড়। এত মানুষের ভিড়ে তার নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
বলার অপেক্ষা রাখে না, দীর্ঘদিন পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ঢাকায় তার সংবর্ধনা সমাবেশে জনতার অভূতপূর্ব উপস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীতে বিশাল গণজমায়েতের প্রভাব মাঠপর্যায়েও পড়েছে। এর প্রভাবে বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে গণসংবর্ধনার প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। বিএনপির নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের ফেরার মধ্য দিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রধান নেতৃত্বের সরাসরি অনুপস্থিতিজনিত যে শূন্যতা তৃণমূলে অনুভূত হচ্ছিল, সেটিও কেটে গেছে। ঢাকা থেকে উজ্জীবিত হয়ে তারা এলাকায় ফিরেছেন। নেতাকর্মীদের এই উদ্দীপনা ভোটের মাঠে বড় সহায়ক ভূমিকা রাখবেÑ এমন প্রত্যাশাই জোরালো হয়ে উঠেছে বিএনপিতে।
এই বিশাল গণজমায়েতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপি দলীয় প্রার্থীরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। ইতোমধ্যেই প্রার্থীদের বেশিরভাগ যার যার নির্বাচনী এলাকায় ফিরে গেছেন। শিগগিরই তারেক রহমানের বগুড়া ও সিলেটে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। তার শ্বশুরবাড়িও সিলেটে। অন্যদিকে বগুড়া তার নির্বাচনী এলাকা। তিন দিনের জন্য তিনি বগুড়ায় যেতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ জানা যায়নি। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির ভেতরে নতুন করে গতি এনেছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বেড়েছে, ভোটের প্রচারেও নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দলটির নজর নির্বাচনের দিকে। এই প্রত্যাবর্তন ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।