হাসনাত আবদুল্লাহ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৯ পিএম
শেখ হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জীবিত রাখেন বলে মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখে ফেরার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যে কারণে বিএনপির চেয়ারপার্সনের আজকের এই অবস্থা—তিনি নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছেন, আল্লাহ যেন তাকে হাসিনার ফাঁসির দৃশ্য দেখা পর্যন্ত জীবিত রাখেন। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া যেন দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথটি দেখে যেতে পারেন—এটাই তার কামনা।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, হাসিনা সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো চিকিৎসক এগিয়ে এলে তাকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হতো।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, দলমত সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠেই সব সময় যুদ্ধ করেছেন খালেদা জিয়া, রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, দোয়া চাওয়া ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।
এর আগে, সকাল ১০টায় এনসিপির শীর্ষ এই তিন নেতা অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদাকে জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া, এর সঙ্গে রয়েছে- কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। পরিস্থিতি এমন—একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলেন দলের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতারা বলছেন, গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভব হলে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছেন।