নাগরিক সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা দেখছি না। নির্বাচন ক্রমান্বয়ে অনিবার্য ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বরিশালের একটি হোটেলে নাগরিক প্লাটফর্মের প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় এ কথা বলেন তিনি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রত্যাশা পূরণের পদ্ধতি নিয়ে এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করা হয়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা নির্বাচনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে চাই। এলক্ষ্যে সংস্কারের ধারা অব্যাহত থাকুক। যে দলগুলো প্রতিশ্রুতি দেবে, সে প্রতিশ্রুতি তাদের রক্ষা করতে হবে। মানুষ কথা বলবে নেতাদের তা শুনতে হবে। সেজন্য আমাদের কথাগুলো আমাদের বলতে হবে। আমরা নারীর বিষয়ে কী চাই; শিশুদের বিষয়ে কী চাই; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, সুশাসনের বিষয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে আমাদের ভাবনা তুলে ধরতেই এই আয়োজন। ইতোমধ্যে রাজশাহীতে তিস্তা ও ফারাক্কা নিয়ে প্রভাব তাদের সংলাপে উঠে এসেছে। আপনাদের এখানের বিশেষ সমস্যা রাজনৈতিক দলের ম্যানিফেস্টোতে যাতে উঠে আসেÑ সে কারণেই এই সংলাপ।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ইতিপূর্বে ব্যবসায়ী আমলা, রাজনীতিবিদদের ত্রিধারা দেশে অলিগার্ক সৃষ্টি করেছিল। এটা এমন একটি অর্থনীতি সৃষ্টি করেছিল যাকে আমরা অভিহিত করি চামচা পুঁজিবাদ। সেখানে রাষ্ট্রতন্ত্র ব্যবহার করে চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংস্কার দিয়ে চোরতন্ত্রকে ভাঙতে হবে। আমাদের এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কেউ পিছনে না থাকে।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু তার উপদেষ্টামন্ডলী ও আমলাদের মধ্যে নিরুৎসাহ দেখা গেছে। বাকি সংস্কার সম্পন্ন করতে হলে নাগরিক সমাজকেই চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচনের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতবিনিময় সভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাসদ, এনসিপি, গণধিকার পরিষদসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন, বরিশালে কর্মসংস্থানের জন্য প্রধান দরকার গ্যাস। ভোলার সাথে পাইপলাইনের মাধ্যমে যদি গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি গতি পাবে। বাসদ নেত্রী ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মূলত কৃষিভিত্তিক শিল্প ও পর্যটনের মাধ্যমে দারিদ্র্য প্রবণ এই এলাকার উন্নয়ন জরুরি।
সংলাপে অংশ নেওয়া সব বক্তাই বাজেট বরাদ্দে জনসংখ্যা ভিত্তিক না হয়ে, দারিদ্রতা ভিত্তিক বা উন্নয়নবঞ্চিত এলাকা দেখে বরাদ্দের বিষয়ে দাবি তোলেন। এছাড়া নিরাপত্তা ও দুর্নীতি ইস্যু ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ভূমি হারানোর আশঙ্কা ব্যক্তের পাশাপাশি কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। এক রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, প্রশাসন দলীয়করণে আক্রান্ত, এমনকি পুলিশ কর্মকর্তারাও রাজনৈতিক পরিচয়ে আচরণ করেন।
অধিকাংশ বক্তা উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, কৃষি ও শিল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি কৌশল প্রণয়নের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বক্তারা ঢাকামুখী কর্মসংস্থানের বদলে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।