রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৩ পিএম
‘চাঁদাবাজ, মাফিয়া ও সংস্কারবিরোধী’ কারও সঙ্গে এনসিপি জোট করবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তবে যারা সংস্কারের পক্ষে থেকে জোট করতে চায় তাদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা আছে বলেও জানান এনসিপির এই নেতা।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি জেলা শহরের কে কে রায় সড়ক কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়ামে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আদেশ জারি করতে হবে উল্লেখ করে এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গণভোটের আদেশ প্রধান উপদেষ্টাকে জারি করতে হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর হাত থেকে গণভোটের আদেশ ও জুলাই সার্টিফিকেট নেওয়া যাবে না। তার চেয়ে ভালো বিষ খেয়ে মরে যাওয়া। একইসঙ্গে জুলাই সনদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেই স্বাক্ষর করতে হবে।’
আগামী দশ বছরের মধ্যে সরকার গঠন করতে না পারলে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কারে যারা বাধা দিয়েছে, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে; আমরা সেগুলোর বিচার অবশ্যই করব এবং জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখান করার প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে নিয়ে নিয়েছে। শুধুমাত্র ব্যালটের অপেক্ষা, কিন্তু আমরা এখন দেখছি ব্যালেটকে উল্টে দিতে বুলেট প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। যারা ব্যালটের প্রস্তুতি না নিয়ে বুলেটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মনে রাখবেন— বাংলাদেশের জনগণ যখন জেগে উঠবে তখন কেউ আটকাতে পারবে না।’
রাজনীতিতে বিএনপি-জামাতের লোকদের ত্যাগ ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা গ্রাম দেখাতে পারবেন না যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা ছিল না। এই মানুষগুলোকে উদ্ধার করা এখন আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, আপনাদের রক্ত, ত্যাগ, শ্রম, জেল-জুলুম বিক্রি করে একটা পক্ষ হয়েছে; যারা চাঁদাবাজি ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। যারা রাতে ঘুমাতে পারেন নাই বছরের পর বছর জেল খেটেছেন, গণতন্ত্র ভোটের অধিকারের জন্য আমরা তাদের সম্মান জানাই। এ বিষয়টাকে আমরা ধারণ করি। কিন্তু আপনি যে পার্টি করছেন, তারা তা ধারণ করে না। আপনি চলে আসেন আমাদের কাছে, আমরা আপনাকে সম্মান দেব। বাংলাদেশে আর কেউ আওয়ামী লীগ হইতে পারবে না। আমরা হতে দেব না।’
সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মনজিলা ঝুমা বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে যে ইস্যুগুলো নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে, সেখানে এনসিপি তাদের অবস্থান, নৈতিকতা, ভবিষ্যৎ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে জানান দিতে পেরেছে। আমরা মধ্যপন্থার একটি রাজনৈতিক দল। আমরা চেষ্টা করছি এখানকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে নিয়ে চলার জন্য। দল যদি চায় আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি খাগড়াছড়ি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হবো।’
সমন্বয় সভায় এনসিপির রাঙামাটি জেলার প্রধান সমন্বয়কারী বিপিন জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম সুজা উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জোবায়ের আরিফ, ইমন সৈয়দ, কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং খাগড়াছড়ির প্রধান সমন্বয়কারী মনজিলা ঝুমা, বান্দরবান জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুর রহমান সোহেল, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাজমুল হক, শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহবায়ক কলিন চাকমা প্রমুখ।