× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঠাকুরগাঁও-৩

বিএনপির মনোনয়ন পেতে প্রবীণ-তরুণের লড়াই

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫১ এএম

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫ ২০:২০ পিএম

বিএনপির মনোনয়ন পেতে প্রবীণ-তরুণের লড়াই

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের নেতারা। দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ, মাঠের আন্দোলনে সক্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ- এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন।

মনোনয়ন দৌড়ে পুরনো, পরীক্ষিত নেতৃত্বের পাশাপাশি তরুণ ও উদীয়মান নেতারাও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন। রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জ উপজেলার দু’টি পৌরসভা এবং ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসন। ভোটার তিন লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন। জেলার প্রতিটি আসনই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসন রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি বিগত সময়ের থেকে বর্তমানে যথেষ্ট শক্তিশালী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দেখেই বোঝা যায়, প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে দলের জন্য অবদান রেখেছেন এবং দলের সংকটকালে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে জোটের হিসাব-নিকাশে বরাবরই জাতীয় পার্টি বা ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছাড় দেয় দলটি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের ২৭ বছর পর ২০১৮ সালে আসনটি দখলে নিয়েছিল বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান।

তবে আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপি থেকে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। এজন্য দলটি থেকে প্রার্থী চূড়ান্তে জটিলতা রয়েছে। আর জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো একক প্রার্থী ঘোষণা করে রয়েছে স্বস্তিতে।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে উঠে এসেছে কয়েকজন নতুন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ঠাকুরগাঁও বারের সভাপতি, জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যন জিয়াউল ইসলাম জিয়া, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ, রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ এবং সুপ্রীম কোর্ট জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান।

এরমধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান এই আসনের রাজনীতিতে সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ এক নাম। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যা তার জনপ্রিয়তা ও জন-আস্থার প্রমাণ বহন করে। পীরগঞ্জে বিএনপির যে শক্তিশালী ভিত্তি এখনো টিকে আছে, তার পেছনে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও নেতৃত্বের বড় ভূমিকা রয়েছে।

দলটির নেতাকর্মীরা জানান, নতুনদের মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও পীরগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। জিয়াউর রহমান জিয়া আওয়ামী লীগের সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনসাধারণের কিছু কাজ করেছেন। দলের আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়গুলোতে তারা রাজপথে থেকেছেন, কর্মীদের সংগঠিত করেছেন এবং নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। দলেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা যথেষ্ট।

অন্যদিকে, সাবেক যুবদল নেতা কামাল আনোয়ার আহমেদ এবার মনোনয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তার বিরুদ্ধে ৭৯টি রাজনৈতিক মামলা করা হয়েছিল। তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন। ত্যাগ ও আদর্শের এমন উদাহরণ মাঠের কর্মীদের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তরুণ নেতা কামাল আনোয়ার আহমেদ নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পারেন।

এছাড়া আইনজীবী সমাজ থেকে আসা জয়নাল আবেদিন ও ব্যারিস্টার রোকনুজ্জামান বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের প্রতীক হতে পারেন, যারা নীতিগতভাবে দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

আইনজীবী জয়নাল আবেদীন ফ্যাসিস্ট আমলের ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি-জামায়াত নেতাদের মামলা মোকদ্দমা বিনা পয়সায় চালিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। ভালো মানুষ হিসেবে তার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুকুনুজ্জামান রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জকে আধুনিক ও উন্নত  জীবনযাত্রার উপযোগী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি জেলার প্রথম ব্যারিস্টার।

একইভাবে, রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এবং সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছেন। ছাত্রাবস্থা থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

এখন ভোটাদের প্রশ্নÑ এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন কে পাবেন?

তারা বলেন, বিএনপি দল হিসেবে গত ১৫ বছর কঠিন সময় পার করেছে। তাই মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ত্যাগ, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা এবং মাঠে লড়াই করার সক্ষমতা’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত নেতা জাহিদুর রহমানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। তবে বিএনপির ভেতরে এখন একটি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বও শক্তভাবে আত্মপ্রকাশ করছে। সেই তরুণ ও উদ্যমী নেতাদের মধ্যে যদি কেউ মাঠপর্যায়ে কর্মীদের আরও সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন, তবে তার পক্ষে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তালিকায় অল্প কিছু আসনে দুইয়ের অধিক প্রার্থীকে রাখা হয়েছে। এর বাইরে অধিকাংশ আসনেই একক প্রার্থী বাছাই করতে সক্ষম হয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বাছাই করা এসব প্রার্থীর ব্যাপারে মনোনয়ন বোর্ডের মতামত নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জানানো হতে পারে।

জানা গেছে, মনোনয়ন বোর্ডে উত্থাপিত তালিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারপরও প্রতিটি আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন বোর্ডের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ একক মতামতের ভিত্তিতে কাউকেই এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

সূত্র জানায়, দলের পক্ষ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়া নেতাদের বিষয়েও স্থায়ী কমিটি বা মনোনয়ন বোর্ড মতামত দিতে পারবে এবং সেই মতামতের ভিত্তিতে বাছাই করা প্রার্থীর মনোনয়নও পরিবর্তন করা হতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা