খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:৪০ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামী নির্বাচনে খুনি, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের সঙ্গে নতুন ভোটারদের লড়াই হবে। যারা ফ্যাসিবাদকে বিদায় দিয়েছে সেই তরুণরা এবার ভুল করবে না। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বেই ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে গড়ে উঠবে নতুন মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া স্বাধীনতা চত্বরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখতার হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রশীদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। সন্মানিত অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন, জামায়াতের হিন্দু কমিটির ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি কৃষ্ণনন্দী, সহ-সভাপতি ডা. হরিদাস মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মুহা. নোমান হোসেন নয়ন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু ইউসুফ ফকির, খুলনা জেলা যুববিভাগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ঢাকাস্থ খুলনা ক্লাবের সভাপতি সরদার আব্দুল ওয়াদুদ, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর গাজী মো. সাইফুল্যাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতারা। অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম ফয়সাল ও আহমদ আতাউল্লাহ সালমান।
ডুমুরিয়া-ফুলতলার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এর মূল কারণ বিল ডাকাতিয়া। তিনি আশ্বাস দেন, বিল ডাকাতিয়াকে কেন্দ্র করে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং ডুমুরিয়াকে একটি ব্যবসায়িক হাবে রূপান্তরিত করা হবে।
তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আমূল পরিবর্তন আনা হবে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করেই চাকরির সুযোগ পাবে, যাদের চাকরি দেওয়া সম্ভব হবে না তাদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে, কারিগরি শিক্ষাকে প্রসারিত করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শুধু মুসলিম নয়, সকল ধর্মের মানুষ এমনকি নারীরাও সর্বোচ্চ মর্যাদা পাবেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়া যায়। তরুণরা আর কোনো ফ্যাসিবাদকে জায়গা দেবে না।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ দাবি করেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে অপপ্রচারকারীরা ছাত্র-যুবকদের হাতে শিক্ষা পাবে।