প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৫ ২১:১৪ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার শাসনামলে যারা গুম হয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে বিএনপি থাকবে যতদিন না তারা ন্যায়বিচার পান।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’-এর আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধ আর হতে পারে না। এটি মানবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী অপরাধ এবং এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। আমার দলের পক্ষ থেকে আমরা এই আন্দোলনে ছিলাম, আছি এবং গুম হওয়া ভিকটিম পরিবারের পাশে থাকব, যতদিন না আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারি।’
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং এ ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের নাম প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধী যারা-ই হোক না কেন, যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদেরকে প্রকাশ্যে আনতেই হবে। যেসব শিশু তাদের বাবাকে হারিয়েছে, বোনরা ভাইকে হারিয়েছে, মায়েরা সন্তান হারিয়েছে-তাদের সম্পর্কিত পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে আনতেই হবে।’
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে ফখরুল বলেন, ‘এখন প্রমাণিত হয়েছে হাসিনাই এসব হত্যা ও গুমের জন্য দায়ী। তাকে অবশ্যই এ দেশে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হবে।’
গুম হওয়া পরিবারের প্রতি সাহস না হারানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কারও মন খারাপ করার কিছু নেই। জনগণের আন্দোলন কখনও ব্যর্থ হয় না। তরুণ প্রজন্ম ও শিশুরা তাদের বাবার ও ভাইদের জন্য ন্যায়বিচার দেখতে পাবে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম কমিশনকে জনগণের সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, পাবলিক শুনানি করা এবং গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কান্না বন্ধ করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। এর জন্য সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
যাদের মাধ্যমে গুম ও হত্যা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল।
মানববন্ধন শেষে ‘মেমোরিজ অব ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব। মায়ের ডাকের সংগঠক সানজিদা ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সমন্বয়ক মঞ্জুর হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।