আকরাম হোসেন
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৫ ১০:৪৪ এএম
প্রবা গ্রাফিক্স
সাংগঠনিক কাজে মনোনিবেশ করতে শুরু করেছে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যদিও রোজার মধ্যে বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাবে না তারা। এই সময়টায় ইফতার মাহফিল ও স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে তাদের কর্মকাণ্ড। সাংগঠনিক ভিত্তি পাকাপোক্ত করার প্রয়োজনীয় কাজগুলোও এগিয়ে নেওয়া হবে। দলের নিবন্ধন পাওয়ার শর্ত পূরণের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে। নিজেদের মধ্যে বসে দলের অভ্যন্তরীণ কর্মপন্থা ঠিক করবেন শীর্ষ নেতারা। পুরোদমে মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে রোজার ঠিক পরপর অর্থাৎ এপ্রিলে। সামনের দিনগুলোতে রাজনীতির মাঠে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও সামর্থ্যের জানান দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সারা দেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে। বিভাগীয় সমাবেশ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিয়ে জোরেশোরে মাঠে নামার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দলটির একাধিক নেতা এসব কথা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এনসিপির বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে তা মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। ভারতীয় ‘আধিপত্যবাদ’বিরোধী ও পতিত আওয়ামী লীগের নানা অপকর্ম জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। আওয়ামী লীগের পতনের পর চাঁদাবাজ ও দখলদারত্বে জড়িয়ে পড়াদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, নতুন দেশ গড়ার বন্দোবস্ত নিয়ে গত শুক্রবার যাত্রা শুরু করে এনসিপি। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা একঝাঁক তরুণ। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর সময় ১৫১ সদস্যের কমিটির কথা বলা হয়। তবে গতকাল ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনের পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। কমিটির আকার আরও বাড়তে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পার্টি হয়ে গেছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। এর জন্য যা যা করা দরকার তা করা হবে। রোজার পর বিভাগীয় সমাবেশ ও লংমার্চের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন দল, এটা এখনই আশা করা যায় না যে সবাই চিনবে। সবার কাছে পৌঁছাতে অনেক ধরনের কর্মসূচি নিতে হবে। আমরা সেভাবে কর্মসূচি নেব। আগে থেকেই আমাদের সাংগঠনিক কাজের বিস্তৃতি চলছিল। সেটা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় নাগরিক কমিটিকে পুনর্গঠিত করা হবে।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রোজার মধ্যে আমরা বড় কর্মসূচি দেব না। ইফতার পার্টি দেব। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করব। ঈদের পর আমরা কাজ শুরু করব। এই মাসে অভ্যন্তরীণ কাজগুলো সেরে নেব। দলের নিবন্ধন পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা রয়েছে। এর জন্য ২১টি জেলায় অফিস থাকতে হয়। পাশাপাশি নিবন্ধনের জন্য আরও যে কাজগুলো রয়েছে, রোজার মাসে সেগুলো ঠিক করে নেব।
তিনি আরও বলেন, রোজার পর বিভাগীয় সমাবেশ, লংমার্চসহ বেশ কিছু কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। তখনই পুরোদমে সাংগঠনিক কাজ শুরু হবে। রোজার কারণে অনেক নেতা এলাকায় চলে গেছেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় ইফতারের আয়োজন করবেন। জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবেন।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ২১৭ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছি। উক্ত আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) আগামী ১ বছরের মধ্যে এই রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সেকেন্ড রিপাবলিক ও গণপরিষদ নির্বাচন
এনসিপির আত্মপ্রকাশের ঘোষণাপত্রে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে আমাদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই কেবল আমরা একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারব।
সেকেন্ড রিপাবলিক বা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠা হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যথেষ্ট আলোচনা চলছে। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, প্রথম প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পর প্রণীত সংবিধানে কাঠামোগত ত্রুটির কারণে সরকারপ্রধান কর্তৃত্বপরায়ণ ও ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছেন। তা স্থায়ীভাবে রুখতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে। এটিই দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র।
তরুণদের কাছে প্রত্যাশা অনেক
তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন এই রাজনৈতিক দল ঘিরে আগ্রহ ছিল সর্বমহলেই। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের নেতৃত্বে গঠিত এই দলের কাছে বিপুল প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রত্যাশা আরও বেশি। ছাত্রদের নতুন দল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সেদিন মানুষের ঢল নামে। খুলনা থেকে আগত ষাটোর্ধ্ব আহমাদ উল্লাহ বলেন, আমরা বিগত সরকারের কাছ থেকে নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছি। আশা করি আমাদের সেই বঞ্চনার জায়গাগুলো আর থাকবে না। আমাদের অধিকারের বিষয়গুলো এই তরুণ প্রজন্ম ফিরিয়ে দেবে।
আশুলিয়ার বাইপাইলে শহীদ হন আশরাফুল। একমাত্র ভাই হত্যার বিচার চেয়ে বোন সৈয়দা আক্তার বলেন, এই দলের নেতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমার ভাই শহীদ হয়েছে। সারা দেশে হাজার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। এ দেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন ওদের।