দোহার (ঢাকা) প্রতিবেদক:
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫০ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এ দেশকে ভয় ও আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছিলেন। তার পালিত পুলিশ বাহিনীর ভয়ে বিগত ১৫ বছর বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারেননি।,
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বেলা দুইটায় ঢাকার দোহারের জয়পাড়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথাগুলো বলেন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা
আজীবন বাংলাদেশের সম্রাজ্ঞী মহারানী হয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি তার মত করেই
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাজিয়েছিলেন।,
রিজভী বলেছেন, জনগণ, নির্বাচন ও ভোটের
দরকার ছিল না হাসিনার। তিনি জনগণের মতামতকে তোয়াক্কা না করেই মেম্বার, চেয়ারম্যান অথবা
এমপি বানাতেন। দেশকে দুর্বৃত্ত ও দাজ্জালের দেশে পরিণত করেছিলেন তিনি।
ভারত শেখ হাসিনার প্রিয় দেশ ছিল। তিনি
বলেছিলেন, ভারতকে আমি যা দিয়েছি তা চিরদিন মনে রাখবে। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনা
ভারতকে কি দিয়েছে, যে ভারত শেখ হাসিনার প্রেমে এতটা বিগলিত? শেখ হাসিনার
দুইটি পাসপোর্ট বাতিল হয়ে গেছে। তারপরও কোন পার্সপোর্টের ভিত্তিতে তার ভিসার মেয়াদ
বাড়ালো ভারত?
বিএনপির এই নেতা আরও বলেছেন, ‘যখন বাংলাদেশের
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে চিঠি দেয় ভারতকে, সে সময় তারা এই খুনির
ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে পুরস্কৃত করে। এতেই বোঝা যায়, গত ১৫ বছরে ভারতকে কতটা স্বার্থ দিয়েছে
শেখ হাসিনা।’
তিনি আরও বলেছেন, যাারা শেখ হাসিনার
অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে তাদের পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। তাদের কারও লাশ পাওয়া গেছে নদীর
ধারে, কারও লাশ খালের ধারে আবার কারও লাশ আবর্জনার মধ্যে।
শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় নেতা ছিলেন
এটা সত্য। তবে তিনি যুদ্ধের পরে দেশে গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন। সব রাজনৈতিক দল বন্ধ
করে বাকশাল কায়েম করেছিলেন। শেখ হাসিনা তার পিতার পথেই হেটেছেন। তিনি তার বাপের বাকশালকে
নতুন আঙ্গিকে তৈরি করেছিলেন। এত কিছুর পরও শেখ হাসিনা বাংলার মাটিতে টিকতে পারলেন না।
ছাত্র-জনতা আন্দোলনে শেখ হাসিনার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এ সময় তিনি শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ
সিদ্দিকেরও কঠোর সমালোচনা করেন।
জয়পাড়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি
সৌমিক ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস আহমেদ, জাসাস কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন মোল্লা, কেন্দ্রীয়
ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক
শফিকুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ বিএনপির নেতা খন্দকার আবুল কালাম, দোহার থানা বিএনপির সভাপতি
নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।