প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৩৩ এএম
কাজী ইরাদত আলী। রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। মাইজা ভাই হিসেবে এলাকায় পরিচিত তিনি। আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছরের শাসনামলে তিনিই ছিলেন রাজবাড়ীর ‘রাজা’। গোটা রাজ্যেই চালিয়েছেন তার খবরদারি। ৯ ভাইবোনের মধ্যে কাজী ইরাদত আলী দ্বিতীয়। তার বড় ভাই কাজী কেরামত আলী রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
বড় ভাইয়ের হাত ধরেই রাজনীতিতে পদার্পণ কাজী ইরাদত আলীর। শেষে তার কাছেই কোণঠাসা হয়ে পড়েন সাবেক এমপি কেরামত আলী। ২০১৮ সালের নির্বাচনের ৬ মাস আগে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা কাজী কেরামত আলীকে একপ্রকার জোর করেই পদত্যাগ করতে বাধ্য করান ইরাদত আলী। ওই সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে পদত্যাগ করার কথা লিখে দেন কাজী কেরামত আলী। মূলত সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার হুমকি দিয়ে ইরাদত আলী ভাইয়ের ওপর চাপ তৈরি করেছিলেন। ইরাদত তখন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
দলীয় মনোনয়নে ছোট ভাই যাতে বাগড়া দিতে না পারেন, সেজন্য নিজের পদ লিখে দেন কাজী কেরামত আলী। এমনকি কাজী কেরামত আলীকে শহরের স্বজ্জনকান্দা এলাকায় নিজেদের পৈতৃকবাড়ি থেকেও বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কাজী ইরাদতের বিরুদ্ধে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কেউই কখনই মুখ খোলেনি। শুরু থেকে সবাই এক বাড়িতে থাকলেও পৈতৃকবাড়ি থেকে কিছু দূরে নুরু কন্ট্রাক্টরের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন কাজী কেরামত আলী। তিনি এ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য। কাজী কেরামত আলী পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন কাজী ইরাদত আলী। মূলত এ সময় থেকে সবকিছুতেই ‘নাক গলানো’ শুরু করেন তিনি। পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন কাজী ইরাদত। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ইরাদত আলী জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি, জেলা সার ডিলার মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া দায়িত্বে রয়েছেন অনেক সংগঠন ও সমিতির। বলতে গেলে পুরো জেলাই কাজী ইরাদত আলীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
নানা অপকর্ম, জোর-জবরদস্তি করে নিজের কব্জায় নিয়েছেন অন্যের বাড়ি, দোকান ও জমি। কাজী ইরাদতের ইশারা ছাড়া রাজবাড়ীতে কিছুই ‘নড়ত’ না। তার দাপটে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ছিলেন কোণঠাসা। কেউ কেউ অপমানে, অভিমানে রাজনীতি ছেড়ে দেন। আর যারা আছেন তারা দুই ভাগে বিভক্ত। বিভিন্ন টেন্ডার বাণিজ্য, চাকরি বাণিজ্য, বালুমহাল, রেজিস্ট্রি অফিস, দৌলতদিয়া ঘাট, বিভিন্ন ধরনের সেটেলমেন্ট, এমনকি মসজিদ কমিটিও ছিল কাজী ইরাদত আলীর নিয়ন্ত্রণে। এসবের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ইরাদত আলীর সংস্পর্শে অনেকেই জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। কামিয়েছেন দুই হাত ভরে। গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি, গাড়ি ও নগদ টাকা।
কাজী ইরাদত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগÑ শুরুতে বাসের মালিক না হয়েও বাস মালিক সমিতির সভাপতি হন। রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়া ঘাট এলাকায় ফসলি জমির ইজারা ছাড়াই হাজার বিঘা জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মাটি কেটে নেওয়া জমিগুলোতে বেশিরভাগ অংশেই বাদামের চাষ করেছিলেন স্থানীয়রা। আর মাটি লোড করা প্রতি ট্রাক থেকে ১৪০০ টাকা করে নিত ইরাদত আলীর ক্যাডাররা। ওই এলাকায় মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার গাড়ি মাটি বহন করে নিয়ে যায়। এ ঘাটে বালু নিতে আসা প্রতিটি ১০ চাকার ট্রাক থেকে এক হাজার আর ৬ চাকার ট্রাক থেকে ৬০০ টাকা চাঁদা নিত কাজী ইরাদতের লোকজন। আর ট্রলি থেকে নেওয়া হতো তিনশ টাকা। বালু নেওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার ট্রাক ঘাটে আসত। এসবের জন্য কোনো ইজারা নেওয়া হতো না। রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে চাঁদা আদায় করত ইরাদতের নিজস্ব বাহিনীর সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাদের কোনো বাধা দেওয়া হতো না। এখান থেকে বালু তুলে খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুরে নেওয়া হতো। এ ঘাটের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বালি উত্তোলন করে রাখা হতো স্তূপ করে। এ ছাড়া বালুমহাল থেকে প্রতি ঘনফুট বালু থেকে ৩ টাকা ইরাদতের সিন্ডিকেটকে দিতে হতো। ইরাদতের পক্ষে বালুঘাট নিয়ন্ত্রণ করতেন সাবেক রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী দীপক কুণ্ড। তার নামে বালুঘাটের ডাক হতো। মূলত দীপক কুণ্ডই ইরাদত আলীকে বালু ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করেন। বালু তোলার কারণে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এলাকা বিলীন হয়েছে পদ্মা নদীতে। এখানে বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করা হতো। ইরাদত আলীর ‘ম্যানেজার’ ছিলেন নুরুজ্জামান মিয়া সোহেল। তিনি পরে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হন।
বালু তোলার কারণে ওইসব এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ ছিল না। এলাকাবাসী অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় তাদের মারধর করেন ইরাদতের ছোট ভাই কাজী টিটু। পরে ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে। স্থানীয়রা বলে, রাজবাড়ীর মানুষ সব সময় কাজী ইরাদত আলীর আতঙ্কে থাকত। কোনো কিছু হলেই তার লোকজন এসে হাজির হতো। সবকিছু তারাই নিয়ন্ত্রণ করত। এদের বাইরে কেউ কথা বললেই বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি, মারধর এমনকি মামলাও দেওয়া হতো। কাজী ইরাদতের সব লেনদেনের দেখাশোনা করত শরিফুল ইসলাম শরীফ নামের এক ব্যবসায়ী। ইরাদতের আরেক ঘনিষ্ঠজন আলমগীর শেখ তিতু। তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র। ইরাদতের অবর্তমানে রাজবাড়ী পৌর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিতু।
রাজবাড়ীর দুটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকেও মাসিক চাঁদা নিত কাজী ইরাদতের লোকজন। সেখানে তার একটি সিন্ডিকেট ছিল। রেজিস্ট্রি অফিসে যে কেউ চাইলেই কোনো দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারত না। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি করতে হতো। প্রতি দলিলে শতকরা ৭ টাকা কমিশন দিতে হতো ইরাদতের সিন্ডিকেটকে। এর মধ্যে স্থানীয় নেতারা পেত শতকরা ৩ টাকা আর বাকি ৪ টাকা নিত কাজী ইরাদত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলে, একটি জায়গা কিনে দলিল করতে গেলে অফিসের কেউই রেজিস্ট্রি করতে রাজি হয় না। জানতে পারলাম এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করতে হবে। পরে বাধ্য হয়ে তাদের মাধ্যমে কাজটা করলাম। এ জমি রেজিস্ট্রি করতে নির্ধারিত সরকারি খরচ ৩০ হাজার টাকা লাগলেও গুনতে হয় ৬০ হাজার টাকা। প্রতিটি দলিল গ্রহীতাই এভাবে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হতো।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম-প্রহরী নিয়োগ, পুলিশে নিয়োগ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় নিয়োগ দেওয়ার জন্যও ছিল কাজী ইরাদত আলীর আলাদা সিন্ডিকেট। একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, প্রাইমারি স্কুলের চাকরির জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়েছিলাম মাইজা ভাইয়ের কাছের একজনকে। কিন্তু চাকরি না পেয়ে তার কাছে গেলে টালবাহানা করেন। বিষয়টি মাইজা ভাইকে জানালে প্রথমে দেখবেন বলে আশস্থ করলেও পরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। পরে এ টাকার আশা ছেড়ে দিই।
কাজী ইরাদত আলীর আরেক হাতিয়ার ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ রাজীব। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। বাড়ি গোপালগঞ্জ হলেও বাবার রাজবাড়ীতে পুলিশে চাকরির সুবাদে এখানেই বাড়ি করে আস্তানা গাড়েন। পরে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হয়ে যান ইরাদত-জিল্লুলের আশীর্বাদে। রাজীব পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৎস্য দপ্তর, এলজিইডির খাল খননকাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কাউকে কাজ পেতে হলে তাকে ১০ পারসেন্ট দিতে হতো। এর থেকে মোটা অঙ্কের ভাগ চলে যেত ইরাদত আলীর পকেটে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডার নিয়ে গোলাম মোস্তফা নামে একজনের সঙ্গে বিরোধ হয় ইরাদতের লোকজনের। পরে গোলাম মোস্তফাকে নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। পরে ওই মামলা থেকে খালাস পান গোলাম মোস্তফা।
একজন ঠিকাদার বলেন, আমার তিনটি ঠিকাদারি লাইসেন্স ছিল। সবগুলোই বাতিল করেছি। নিজের দল ক্ষমতায় থাকতে কাউকে চাঁদা দিয়ে ঠিকাদারি করতে হবে? বিরোধী দল যখন ছিল তখনই তো আমি কাউকে চাঁদা দিইনি। এখানে ইরাদতই সব ছিল। সে যা চাইত, তা-ই হতো। দলের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগ করেছি, এখন অবসরে আছি। টেন্ডারবাজি ও নানা অপকর্ম করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট যারা করেছে, তাদের আইনের মাধ্যমে কঠোর বিচার হওয়া দরকার।
রাজবাড়ী শহরের মোনাক্কা টাওয়ার, সোনালী ব্যাংক ভবন, খলিফাপট্টি ভবন, অগ্রণী ব্যাংক ভবনের মালিক ইরাদতের পরিবার। তবে এসব তিনিই নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগেও এসব জায়গায় তেমন কিছুই ছিল না। এখন রয়েছে বড় বড় ভবন। ভবন বড় করার জন্য অনেকের জমি দখল করারও অভিযোগ রয়েছে ইরাদতের বিরুদ্ধে। রামকান্তপুরে জমি দখল করে গোল্ডেশিয়া মিল তৈরি করেন। ৫ আগস্টে বিক্ষুদ্ধ জনতা মিলটি পুড়িয়ে দেয়। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকেও বিপুল অঙ্কের চাঁদা পেতেন কাজী ইরাদত আলী। গোয়ালন্দের সাবেক পৌর মেয়র নজরুল মণ্ডলও ছিলেন তারই লোক।
জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, পদ পাওয়ার পর ইরাদত আলীর চেহারা পাল্টে যায়। কোনো নির্বাচনে নিজের লোকের বাইরে কেউ দলীয় মনোনয়ন পেলে তার বিপক্ষে প্রার্থী দাঁড় করাতেন কাজী ইরাদত। একবার কালুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম। কিন্তু তাকে সমর্থন না করে ইরাদত ও জিল্লুল হাকিম বিরোধিতা করেন। ভোটে দাঁড় করান আলীউজ্জামান চৌধুরী টিটুকে। শৃঙ্খলাবিরোধী এ কাজের জন্য দল থেকে বহিষ্কৃত হন আলীউজ্জামান। এ ছাড়া বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন আবুল কালাম আজাদ। সেখানে এহসানুল হাকিম সাধন নামের জিল্লুলের চাচাতো ভাইকে প্রার্থী করেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতা বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নেওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন কাজী ইরাদত আলী। এরপর দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের বিতাড়িত করতে থাকেন। জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটি গঠনের পর জেলার সর্বস্তরে ‘পকেট কমিটি’ করেছেন তিনি। ইরাদত রাজবাড়ী আওয়ামী লীগকে নিজের পারিবারিক সম্পদে পরিণত করেন।
ইরাদতের এসব একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেও অভিযোগ করেন বড় ভাই কাজী কেরামত আলী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইরাদত আলী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি লিখে নেওয়ার পর থেকে জেলায় দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি জিল্লুল হাকিমের দিকনির্দেশনায় যাকে তাকে দলের পদ ও মনোনয়ন দেওয়া, বিরোধিতাকারীদের শারীরিক নির্যাতন এবং দল থেকে বহিষ্কার করে তারা একক অবস্থান সৃষ্টি করেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সপরিবারে এলাকা ত্যাগ করেন মাইজা ভাই কাজী ইরাদত আলী ও সাঙ্গপাঙ্গরা। উত্তেজিত জনতা তার গোল্ডেশিয়া জুট মিল ও বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। বেশ কিছু দিন তার শহরের দুটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকলেও এখন চালু হয়েছে।