প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:০৪ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:১০ পিএম
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বত্র শেখ হাসিনার ভূতরা সক্রিয় রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তারা এ সরকারকে পদে পদে ব্যাহত করছে। ঘাপটি মেরে থাকা শেখ হাসিনার দোসররা’ প্রশাসনে, পুলিশে প্রত্যেকটি জায়গায় বিভ্রান্ত তৈরির চেষ্টা করছে।’ এছাড়া প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অতি দ্রুত নির্বাচন দিতে সরকারকে তাগিদ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ সমাবেশে রিজভী এসব কথা বলেন। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আমার দেশ পত্রিকা খুলে দেওয়ার দাবিতে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন হবে না মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ আর নাৎসিদের কখনোই রাজনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসন হতে পারে না। ইতালিতে মুসলিনী আবার ফিরে আসেনি, জার্মানিতে হিটলার পুনর্বাসিত হয়নি। সুতরাং কোনোভাবেই মাফিয়া-নাৎসি-ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন বাংলাদেশে হবে না।’
প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে অতি দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার তাগিদ দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি বৈপ্লবিক বাংলাদেশ, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি আইনের শাসনের বাংলাদেশ, একটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বাংলাদেশ, সুন্দর স্বপ্নময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে; সে দিকেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। তার জন্য অতি শিগগিরই অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। যেটা প্রয়োজনীয় সংস্কার সেই সংস্কার শেষ করে অতি দ্রুত জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে দিলেই সেই বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডগুলো খুব দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।’
অন্তবর্তী সরকারকে জনগণের সরকারের মতো কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের এতো আত্মত্যাগ, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ওপর এই বিপ্লব রচিত হলো। তাহলে এর টোন এর ভাষা, এর কার্য্ক্রম সব কিছু তো বৈপ্লবিক হবে। আজকে ঘাপটি মেরে থাকা শেখ হাসিনার যেসব দোসররা প্রশাসনে, পুলিশে প্রত্যেকটি জায়গায়, তারা বিভ্রান্ত তৈরি করার চেষ্টা করছে। আপনার পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে.. পুলিশের সামনে মাডার কি করে? তাহলে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ওপর এর দায়িত্ব বর্তায়। চট্টগ্রামের ডিসি মোনাজাত করছে কাদেরকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ইউনিয়নে পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর এটা কি হয় কি?’
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় প্রশ্ন তোলে তিনি বলেন, ‘বিপ্লবী সরকারের কর্মকাণ্ড হবে বৈপ্লবিক। আইনের কথা বলছেন…আইন উপদেষ্টা সাহেব নিশ্চয়ই একজন গুনি মানুষ। কিন্তু বিপ্লবী সরকারের দায়িত্ব তো প্রচলিত কোনো আইনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করা নয়।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রচলিত আইন ব্যবহার করেছে শেখ হাসিনা। একটা মাফিয়া সিন্ডিকেটের সরকার, একটা দুর্বৃত্ত নাৎসি, সে এই কাজটা করেছে। ফৌজদারি আইনে এক বছরের বেশি সাজা হলে তাকে কারাগারে যেতে হয়। এই আইন এখন মানা হবে কেন? আইন তো ধর্মীয় গ্রন্থ নয় যে, এটা পরিবর্তন করা যাবে না।’
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিলম্ব হওয়া ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন রিজভী। বলেন, ‘এতো দিন হয়ে গেল, দুই মাস... তারেক রহমান কেন দেশে আসলেন না? কি আইনি প্রক্রিয়া আছে? এই আইন তো মানবতাবিরোধী আইন, এই আইন স্বার্থ রক্ষা করা হয় মাফিয়াদের, স্বৈরাচারের, খুনীদের…. এই আইন তো একটা নির্বাহী আদেশের একটা খোঁচায় পরিবর্তন হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে কি আপনারা (অন্তবর্তী সরকার) ভয় পাচ্ছেন? নাকি আপনাদেরকে কেউ নির্দেশ দিচ্ছে কোনো জায়গা থেকে যে, আপনারা এর বাইরে যাওয়া যাবে না, এইভাবে কাজ করবেন, দেশ নায়েক তারেক রহমান যেন ফিরতে না পারেন সেই ব্যবস্থার জন্য আপনারা এই কাজগুলো করুন, এগুলো পরিবর্তন করা যাবে না। যেভাবে মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো। এই পরিস্থিতি আমরা এই সরকারের কাছ থেকে আশা করতে পারি না।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমরা একটা বিপ্লবী সরকার দেখতে চাই, যে সরকার জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে কাজ করবে। আমরা শেখ হাসিনার সরকারের মতো সরকার চাই না। এই ধরনের সরকার চায় না বলেই তো এতো রক্তপাত, এতো কিছু হলো। এটা এই সরকারকে বুঝতে হবে।’
সমাবেশে বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের খুব দুঃখ লাগে যে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিপ্লবের পরে আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হয়েছে দাবি নিয়ে। আমরা এই সমাবেশ থেকে সব বন্ধ সংবাদপত্রসহ মিডিয়া খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। খুনি হাসিনা যত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃ্বৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে সেই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কেন মাহমুদুর রহমানকে জেলে যেতে হলো আইন উপদেষ্টাকে বলতে হবে, মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে আমাদের সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ভাইকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হলো। তিনি এক বছর ৭ মাস কারাবরণ করেছেন এই মিথ্যা মামলায়। তিনি দেখে যেতে পারেননি তার মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে গত ৭ আগস্ট। কোথায় আমাদের সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন হলো?’
বিএফইউজে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, বিএফইউজের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, একেএম মহসিন, রাশেদুল হক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মুরসালীন নোমানী, মহিউদ্দিনসহ দুই ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।