মির্জা ফখরুল-সুইস রাষ্ট্রদূত বৈঠক
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৪ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪ ২১:৪২ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি। বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। ছবি : সংগৃহিত
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৌনে এক ঘণ্টার বৈঠক হয়।
বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে সুইস ব্যাংকে পাচার করা অর্থ ফেরত আনাসহ সাংবিধানিক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে সুইস অ্যাম্বেসেডর এসেছেন দেখা করতে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রোডম্যাপ কোন দিকে যাচ্ছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সার্বিক বিবেচনায় আমাদের দেশ কোন দিকে যাচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের মতামত জানতে চেয়েছেন। ভবিষ্যতে বিএনপির চিন্তা-ভাবনা কী জানতে চেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ যেসব রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে গেছে এবং এটি যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে সেখান থেকে বের হওয়ার পথ কী, আমরা কি চিন্তা করছি, আর তারা (সুইজারল্যান্ড) কী করতে পারে এই ব্যাপারে জানতে চেয়েছে।’
আমীর খসরু বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার হয় সেটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এগুলো ভেঙে গেছে, খুব খারাপ অবস্থায় আছে, এগুলোকে কিভাবে আগের জায়গায় আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। আর্থিক খাত, রাজনীতি, নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটা কার্য্কর অবস্থানে নিয়ে আসা যায়? এগুলোর বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভবিষ্যতে রাজনীতি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে, গণতন্ত্রকে সঠিক অর্ডারে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যে কাজগুলো করা দরকার, যে প্রতিষ্ঠানগুলো দরকার সেগুলোতে তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পাচার করা অর্থ ফেরাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আমরা বার বার বলেছি , ১০০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পাচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার এত টাকা পাচার করেছে যে, দেশের রিজার্ভ একেবারে তলানিতে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে যে টাকা পাচার হয়েছে; তা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড তাদের আগের অবস্থানে আছে। তারা বলেছে, এই টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ গর্ভামেন্টের যেকোনো উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাবে এবং তারা সহযোগিতা করবে। এটা হচ্ছে একটা ভালো খবর।’
এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। একথা আমরা ১৬/১৭ বছর ধরে বলে আসছি। অর্থা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছে জবাবদিহি থাকবে। এটা হচ্ছে গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র। এই জায়গায় কোনো দ্বিমত থাকার সুযোগ নাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, এটা একটা অন্তর্বতীকালীন সরকার যারা এই কাজগুলো করবে। আমরা কোনো সময়সীমা তাদেরকে বেধে দেইনি। তবে একটা যৌক্তিক সময় দিয়েছি। এই যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন হবে। এটা সকলে প্রত্যাশা করে এবং যারা অন্তর্বতীকালীন সরকারে আছেন তারাও কিন্তু এটা বিশ্বাস করেন। এখানে আমাদের সঙ্গে তাদের কোনো দ্বিমত নেই। আমরা এই অন্তর্বতীকালীন সরকরকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং দিয়ে যাব। কারণ দিনের শেষ তো জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’