হাসনাত শাহীন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:০৩ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৩:১৭ পিএম
টানা বৃষ্টির মধ্যেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটে শিক্ষার্থীরা সাড়া দিচ্ছেন নিয়মিতভাবেই।

বৃষ্টির মধ্যেই ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা বলছেন— জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এটাই প্রকৃত প্রকৃতি। এখানে রোদ উপভোগ যোগ্য, বৃষ্টিতে ভেসের যাওয়ার লীলাভূমি। এর মধ্যে দিয়ে আমাদের নিত্য চলাচল। এসবে আমরা অভ্যস্থ। আর ভোট যেহেতু হলে হচ্ছে, রুম থেকে নেমে ভোট দিচ্ছি, বৃষ্টি বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।

ভোট দিয়ে কেমন লাগছে— জানতে চাই শেখ হাসিনা হলের শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ভোট হচ্ছে। প্রথমবার ভোট দিচ্ছি, অনুভূতিটা দারুণ। উপভোগ করছি।
একই অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টা হলের অন্যান্য ভোট কেন্দ্রগুলোতেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ভোট কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদকরা এমনটিই জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যেই চলছে ভোটগ্রহণ। হলে কেন্দ্র হওয়ায় ভোট দিতে আসতে শিক্ষার্থীরা কেউ বৃষ্টির বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন না। সবাই বৃষ্টি উপভোগ করছে।

উপভোগ করার মতোই বৃষ্টি। যে বৃষ্টি শুধু ভাদ্রের সকালের গরমকে বিতাড়িতই শুধু করেনি, প্রকৃতি বুলিয়ে দিচ্ছে স্নিগ্ধ ছোঁয়াও।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ঘড়ির কাটা ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলের মধ্যে মীর মশাররফ হল বাদে সব হলের ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

উল্লেখ্য মীর মশাররফ হলে ৩৫ মিনিট দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ভোট শুরুর পরে ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে— ভোটকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচনী কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রসঙ্গত, জাকসুতে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। একই সঙ্গে ২১টি হল সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।

সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী ৯ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একেকটি হলে পদসংখ্যা ১৫টি। ২১টি হল সংসদে মোট পদ ৩১৫টি। এতে ৪৭৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী নেই। একজন করে প্রার্থী রয়েছে ৬৭টি পদে। সে হিসেবে মাত্র ২৪টি পদে ভোট হবে।
জাকসুতে মোট আটটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে চারটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ও তিনটি আংশিক প্যানেল রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্যানেলগুলো হলো ছাত্রদল সমর্থিত পূর্ণাঙ্গ প্যানেল, ছাত্রশিবির সমর্থিত 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট', প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের 'সম্প্রীতির ঐক্য', গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত 'শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম'।
আংশিক প্যানেল দিয়েছে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ এবং ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ। এ ছাড়া অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।

এদিকে, জাকসু নির্বাচন উপলক্ষ্যে মীর মশরারফ হোসেন হল গেট এবং প্রান্তিক গেট ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গেট ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রকার ভাসমান দোকান, টারজান পয়েন্টের দোকান, পুরাতন পরিবহন চত্ত্বর সংলগ্ন দোকান, নতুন কলা ভবন সংলগ্ন মুরাদ চত্বরের দোকান, প্রান্তিক গেইটের উত্তর পাশের কাপড়ের মার্কেট ও গেটের সব দোকান এবং প্রধান গেট সংলগ্ন সব দোকান আগামীকাল ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
সকল আবাসিক হলের অভ্যন্তরে ক্যান্টিন ও দোকান খোলা রাখা এবং পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখার জন্য বলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা হতে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগ (নিরাপত্তা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট) ব্যতীত সকল প্রকার মোটর সাইকেল চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। এই সময়ে শুধু মাত্র শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাকার স্টিকার এবং নির্বাচন কমিশনের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে।

আজ সকল স্টাফ বাস প্রান্তিক গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবশে করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।
জাকসু নির্বাচনে ২৫ পদে ১৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ছবি: আরিফুল আমিন।