প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৮ পিএম
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৮ পিএম
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যায়। তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় সাতাশি হাজার কোটি টাকা।
তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ থেকে ই-সিগারেট ও বিক্রয়স্থলে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের ধারা বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনগুলো এই দুইটি ধারা পুনরায় বহাল রাখার দাবি জানায়।
সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা), ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ডরপ, নারী মৈত্রী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, পিপিআরসি, তাবিনাজ ও প্রজ্ঞা।
তাদের দাবি, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এগুলো তরুণদের নিকোটিন আসক্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
তারা আরও জানায়, বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্যের প্রকাশ্য প্রদর্শন শিশু ও কিশোরদের তামাক ব্যবহারে আকৃষ্ট করে এবং ব্যবহার বাড়াতে প্রভাব ফেলে।
সংগঠনগুলোর মতে, এই দুইটি ধারা বাদ দিলে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দুর্বল হবে এবং তামাক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন আরও সহজ হয়ে উঠবে। এটি তামাক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার বিষয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জনস্বার্থে এই দুইটি ধারা অবিলম্বে পুনরায় যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য ও তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষা দিতে সংকীর্ণ ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যায়। তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় সাতাশি হাজার কোটি টাকা। এমনকি এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের চেয়ে এই ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি।
বর্তমানে দেশের ৩৫ দশমিক তিন শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন।
এই পরিস্থিতিতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন না হলে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে।