আন্তর্জাতিক নারী দিবস
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৮ পিএম
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার মতে, জন্ম নিবন্ধন না থাকলে শিশুর বয়স প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
কন্যাশিশুর জন্ম নিবন্ধনই তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রথম ধাপ—এমনটাই মনে করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রগতির জন্য জ্ঞান’ (প্রজ্ঞা)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, জন্ম নিবন্ধন না থাকলে শিশুর বয়স প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
গণমাধ্যমে শনিবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্বের ঝুঁকি বাড়ায়, তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে এবং সহিংসতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে নিবন্ধন না থাকলে নারী পাচার বা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
প্রজ্ঞা আরও বলেছে, মৃত্যুর পর নিবন্ধন না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নারীর সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে না। এতে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঝুঁকিও বাড়ে।
নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে দাবি
আগামী ৮ মার্চ উদযাপিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬। এ উপলক্ষে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা জানায়, এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”।
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠানটির মতে, আইনগত পরিচয় নিশ্চিত না হলে নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও আইনি ন্যায়বিচার অনেক ক্ষেত্রে অধরাই থেকে যায়। তাই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শতভাগ নিবন্ধনের পথে চ্যালেঞ্জ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। তবে এখনও প্রায় অর্ধেক মানুষ নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে।
বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংশোধন করে পরিবারনির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। এতে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু জন্মের সময়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হতে পারে।
আইন সংস্কারের আহ্বান
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, নারীর অধিকারের সূচনা হয় তার আইনগত পরিচয় থেকে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নারীর অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথও সুগম হবে।