প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১৭ পিএম
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত ও কয়েকশ আহত হয়েছেন। ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভূমিকম্পে উদ্বেগ ও আতংকে আছে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকম্পের শুরু থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) কাজ করছে।
ইতোমধ্যে শতাধিক রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, আহতদের হাসপাতালে নেওয়াসহ নানা জরুরি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে সংস্থা দুটি। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ঢাকাসহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে।
সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম বলেন, ভূমিকম্পে হতাহতদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুরু থেকেই বিপর্যস্ত মানুষকে সহায়তা করছে এবং কর্তৃপক্ষকে জরুরি তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করছে। আমরা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নজরে রেখেছি এবং প্রয়োজনে সেবা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
এছাড়া এই দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র (ইওসি) চালু করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা দল প্রস্তত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বিশেষ করে পুরান ঢাকা, নরসিংদী এবং নারায়নগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ (আরসিওয়াই) স্বেচ্ছাসেবীরা ।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, এ ভূমিকম্প বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিসমিক ঝুঁকির স্মরণ করিয়ে দেয়, বিশেষত ঢাকার মতো জনবসতিপুর্ণ শহরে। আমরা আইএফআরসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পাশে দাঁড়িয়েছি। একসঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সহায়তা করছে। আইএফআরসি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে এবং সরকারি তথ্য ও নির্দেশনা মেনে চলা; বিষেশত ভবন ও অবকাঠামোগুলোতে দৃশ্যমান ফাটল বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করা ও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছে।
ভূমিকম্পের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎস নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়, যা ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পের কম্পন ঢাকা ও নরসিংদীসহ চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, বগুড়া, বরিশাল, পটুয়াখালী ও মৌলভীবাজার এলাকায় অনুভূত হয়েছে।