প্রেক্ষাপট
আর কে চৌধুরী
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৪ ০৯:২১ এএম
জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত
কারণগুলো আমাদের জন্য এখন বড় হুমকি। পরিবেশ-প্রতিবেশের সুরক্ষার অভাবও দৃশ্যমান। শিল্পায়ন
ও নগরায়ণের জেরে বিশ্বজুড়েই পরিবেশের সংকট দেখা দিয়েছে। ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। প্রকৃতি
এত বিরাট এবং ব্যাপক আর তার শক্তি এতটাই সর্বপ্লাবী যে, মানুষের সব প্রচেষ্টাই তাতে
খড়কুটোর মতো ভেসে যায়। প্রকৃতির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত-বিপর্যস্ত হয় জ্ঞান-গরিমায়, ধনে-প্রযুক্তিতে
সমৃদ্ধ সব উন্নত দেশও। প্রকৃতির রুদ্ররূপ থেকে রক্ষা পেতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে
হবে। প্রচুর গাছ লাগিয়ে বিস্তৃত বনভূমি গড়ে তুলতে হবে। জলাশয় রক্ষা এবং নতুন জলাধার
সৃষ্টি করতে হবে। দুই হাজার বছরে এমন গরম দেখেনি বিশ্ব। উত্তর গোলার্ধে দূর অতীতের
যেকোনো সময়ের তুলনায় ২০২৩-এর গ্রীষ্ম বেশি গরম ছিল। গবেষণা বলছে, এবারের গ্রীষ্ম গত
বছরের উষ্ণতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এল নিনো আবহাওয়া চক্রের সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু
পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব উত্তপ্ত হতে থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে গবেষকদের ধারণা। এর প্রভাবে
অস্বাভাবিক গরম ও খরা; অসময়ে বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
দাবদাহের প্রচণ্ড
গরমে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গরম বেশি পড়ছে, এটি সত্য
হলেও অন্যান্য বাস্তবতাও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাপ শোষণকারী উপাদানের অভাব ঘটেছে
প্রকৃতিতে। আর এজন্য আমরাই দায়ী। আমরা খাল-বিল নদীনালা ভরাট করেছি। ফলে জলীয় বাষ্পের
ঘাটতিতে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে চলেছে। এ কারণে আরও বেশি করে গরম অনুভূত হচ্ছে। গাছ কেটে
ফেলা আরও একটি আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড। ফলে সুশীতল ছায়ার আধার আমরা হারিয়ে ফেলেছি। বড় সড়কের
পাশের গাছ কেটে ফেলায় পিচঢালা পথ আগুনের মতো তেতে উঠছে সূর্যের আলোয়।
তাপমাত্রা বাড়ছে
প্রকৃতিতে। রাস্তার দুধারে আগের মতো গাছ থাকলে মানুষ গরমে এত বেশি কষ্ট পেত না। গরমের
মধ্যে ঢাকাসহ অনেক জায়গায় লোডশেডিং বেড়েই চলেছে। মানুষ যেখানে ফ্যানের নিচে থেকেও ঘামছেন,
সেখানে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে কতটা কষ্ট পোহাতে হয়, সেটি ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। বিদ্যুতের
অভাবে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। আধুনিক জীবন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
এমনকি গ্রামাঞ্চল। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায় তীব্র গরমে। বিদ্যুৎ বিতরণে সংকট থাকলে
পানির হাহাকারও শুরু হয়। পানি উৎপাদন ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। ঢাকার কয়েকটি এলাকায় তীব্র
পানি সংকটও রয়েছে। প্রয়োজনীয় পানি না পাওয়া গেলে জীবন স্থবির ও বিপন্ন হয়ে পড়ে।
তীব্র গরমের কারণে
নাজেহাল হচ্ছে জনজীবন। তীব্র গরমে দেশব্যাপী হাজার হাজার দিনমজুর কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তীব্র গরমের মধ্যে দেখা দিয়েছে লোডশেডিং। লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন আরও
অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্করাই বেশি কষ্ট ভোগ করে এবং স্বাস্থ্য সমস্যায়
পড়ে থাকে। এ সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা চাই। মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা ও অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড এবং
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে মরুভূমির মতো যে গরম পড়েছে, তা থেকে আগামী দিনগুলোতে রেহাই
পেতে হলে ব্যাপক বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি নিতে হবে। সেই সঙ্গে নদীনালা খাল-বিল সংস্কার
ও পুনরুদ্ধারের জন্যও তৎপর হতে হবে। দখল-দূষণের কবল থেকৈ রক্ষা করতে হবে নদ-নদী ও সব
জলাশয়।