সম্পাদকীয়
সম্পাদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৩ ১২:৪৬ পিএম
আলু, ডিম
ও দেশি
পেঁয়াজের মতো
কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয়
পণ্যের লাগামহীন
দামের পরিপ্রেক্ষিতে
সরকার কিছু
দিন আগে
এগুলোর দাম
নির্ধারণ করে
দিয়েছিল।
কিন্তু প্রতিদিনের
বাংলাদেশসহ অন্য
সংবাদমাধ্যমে এরপর
ইতোমধ্যে বহুবার
খবর প্রকাশিত
হয়Ñ এসব
পণ্য বিশেষ
করে ডিম-আলু নির্ধারিত
দামে তো
নয়ই, উপরন্তু
আরও অধিক
দামে বিক্রি
হচ্ছে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশে
প্রকাশিত ভিন্ন
আরেকটি প্রতিবেদনে
এও জানা
গিয়েছিল, ডিম-আলুর বাজার
নিয়ন্ত্রণ করে
মুষ্টিমেয় গুটিকয়েক
অসাধু ব্যবসায়ী,
এই অবস্থার
পরিপ্রেক্ষিতে সরকার
ডিম আমদানির
অনুমতি দেয়। কিন্তু
এখনও কোনো
ডিম দেশে
আসেনি।
৩১ অক্টোবর
প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত
আরেকটি প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে,
চাহিদার চেয়ে
২২ লাখ
মেট্রিক টন
বেশি মজুদ
থাকার পরও
অস্বাভাবিক হারে
বাড়ছে আলুর
দাম।
এ অবস্থায়
বাজার নিয়ন্ত্রণে
সরকার আলু
আমদানির অনুমতি
দিয়েছে।
৩০ অক্টোবর
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
হয়, দেশে
আলু উৎপাদন
ও সরবরাহ
পর্যাপ্ত থাকা
সত্ত্বেও যৌক্তিক
কারণ ছাড়াই
অস্বাভাবিক দামে
বাজারে আলু
বিক্রি হওয়ায়
সরকার আমদানির
সিদ্ধান্ত নেয়।
ইতঃপূর্বে
এই সম্পাদকীয়
স্তম্ভেই আমরা
বলেছি, ধারাবাহিক
তিন মেয়াদের
এই সরকারের
অনেক অর্জনের
সামনে বড়
অনার্জন হয়ে
দাঁড়িয়েছে বাজার
নিয়ন্ত্রণ করতে
না পারা। বাণিজ্য
মন্ত্রণলায়ের সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে যা
বলা হয়েছে,
তা আমাদের
বিস্মিত না
করে পারে
না।
এই সম্পাদকীয়
স্তম্ভে ইতঃপূর্বে
আমরা এও
বলেছি, বাজার
নিয়ন্ত্রণে সরকারের
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল
সব পক্ষের
ব্যর্থতার সুযোগ
নিচ্ছে অসাধু
মহল, যে
মহলটি সিন্ডিকেট
হিসেবে বহুল
পরিচিত।
সরকারের দায়িত্বশীল
মহলের অনেকেও
ইতোমধ্যে বহুবার
সিন্ডিকেটের কারসাজির
কথা স্বীকার
করেছে।
আলুর বাজার
নিয়ন্ত্রণ করতে
না পারা
এবং স্বার্থান্বেষী
মহলের তুঘলকি
কাণ্ডের বিষয়টি
প্রকারান্তরে বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে উঠে
এসেছে।
গত দেড়
মাস আগে
পনের কোটি
ডিম আমদানির
অনুমতি দেওয়া
হলেও এখন
পর্যন্ত একটি
ডিমও আমদানি
হয়নি।
এমন প্রেক্ষাপটে
আলু আমদানির
অনুমতি দেওয়া
সত্ত্বেও কতটুকু
এর সুফল
দৃশ্যমান হবে,
এ নিয়ে
সঙ্গত কারণেই
প্রশ্ন থেকে
যায়।
যে ১৫
প্রতিষ্ঠানকে ডিম
আমদানির অনুমতি
দেওয়া হয়েছিল,
কেন তারা
তা আমদানি
করতে পারেনি,
এর জবাবদিহি
প্রয়োজন।
পনের কোটি
ডিম আমদানি
হলে ডিমের
বাজারে স্থিতিশীলতা
ফিরে আসত।
কিন্তু
আলুর বিষয়টি
একটু ভিন্ন। আলুর
মজুদে ঘাটতি
নেই, অথচ
কোন কারণে
আলুর দাম
ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী,
এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়কেই দিতে
হবে।
‘উৎপাদন ও
সরবরাহ পর্যাপ্ত
থাকার পরও
যৌক্তিক কারণ
ছাড়াই অস্বাভাবিক
দামে বাজারে
বিক্রি হচ্ছে
আলু’Ñ বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের এমন
অসহায়ত্বমূলক বক্তব্য
কোনোভাবেই জবাবদিহির
ঊর্ধ্বে থাকতে
পারে না। আমাদের
অভিজ্ঞতায় আছে,
দাম নির্ধারণ
করে দিয়ে
ভালো ফল
পাওয়া যায়
না।
কারণ, মুক্তবাজার
অর্থনীতির বাজার
কাঠামোতে অসংখ্য
প্রান্তিক বিক্রেতা
প্রায় একই
ধরনের পণ্য
উৎপাদন ও
বিক্রি করে
এবং অনেক
ক্ষেত্রেই নিজেদের
মধ্যে কোনো
সমিতি না
থাকায় বাজারে
দামের ওপর
কোনো নিয়ন্ত্রণ
থাকে না। আলুর
ভরা মৌসুমে
পনের-কুড়ি
টাকা কেজি
দরে আলু
বিক্রি হয়েছেÑ
এমন অধ্যায়
খুব দূর
অতীতের নয়। কিন্তু
ক্রমাগত সিন্ডিকেটের
অদৃশ্য হাত
শক্তিশালী হয়ে
ওঠায় কতিপয়
কোল্ডস্টোরেজের অসাধু
মালিক এবং
ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে
নিজেদের পকেট
ভারি করার
অপপ্রক্রিয়া চলে
আসছে ব্যবস্থাপনায়
গলদের কারণেÑ
এ কথাও
আমরা এই
সম্পাদকীয় স্তম্ভেই
লিখেছিলাম।
ডিম ও
দেশি পেঁয়াজের
ক্ষেত্রেও বিষয়টি
প্রায় একইরকম। উচ্চ
মূলস্ফীতি সমাজে
বৈষম্যের ছায়া
ক্রমাগত গাঢ়
করছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ
বাজারে মূল্যস্ফীতি
শুধু যে
আন্তর্জাতিক বিদ্যমান
পরিস্থিতির কারণেই
ঊর্ধ্বমুখী, সব
ক্ষেত্রে তা
সত্য নয়। আমরা
দেখেছি, যেসব
নিত্যপণ্য আমাদের
আমদানি করতে
হয় না,
বাজারে সেসব
পণ্যের দামও
অসাধুদের ইচ্ছেমাফিক
বাড়ে।
এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে
সঙ্গতই বড়
প্রশ্ন হয়ে
দাঁড়িয়েছে, সংশ্লিষ্ট
দায়িত্বশীল মহলগুলো
অভ্যন্তরীণভাবে কী
ভূমিকা রাখছে
যাতে নিত্যপণ্যের
ঊর্ধ্বগতির অভিঘাত
থেকে মানুষ
স্বস্তি পেতে
পারে? আমরা
মনে করি,
অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপগুলো
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণÑ
এ ব্যাপারে
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ
সংশ্লিষ্ট সব
পক্ষকে যথাযথ
ব্যবস্থা নেওয়ার
দায়ও তাদেরই
নিতে হবে। ডিম
আমদানি না
হওয়ার কারণটি
খতিয়ে দেখে
যথাযথ ব্যবস্থা
নেওয়ার পাশাপাশি
আলুর পর্যাপ্ত
মজুদ থাকা
সত্ত্বেও সংকটের
কারণ কী,
তাও খতিয়ে
দেখে প্রতিবিধান
নিশ্চিত করতে
হবে।
বাজারের নাটাই
সরকারের সংশ্লিষ্ট
দায়িত্বশীল মহলের
হাতে রাখতেই
হবে।