প্রেক্ষাপট
সাফি ইরফাত জেবিন ইভা
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৩ ১৪:০৮ পিএম
অলঙ্করন : প্রবা
দেশে এখন
শিক্ষিত বেকার সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। মোট জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ এখন শিক্ষিত বেকার
নামে পরিচিত। যারা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাবে দিন দিন
হারিয়ে ফেলেছে তাদের মানসিক বল এবং উঠে দাঁড়ানোর চিন্তাশক্তি। স্নাতক ও
স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি পেলেও দেশে ভালো চাকরির নিশ্চয়তা নেই।
উচ্চশিক্ষায় দুর্দান্ত ফল অর্জনকারীদের মধ্যে ২ থেকে সাড়ে ৩৪ শতাংশ বেকার। আবার
যারা চাকরি পান, তাদের ৭৫ শতাংশেরই বেতন ৪০ হাজার টাকার নিচে।
উচ্চশিক্ষিত
মেধাবীদের চাকরি, বেতন ও বেকারত্বের এ হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ উন্নয়ন
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখানো হয়েছে, শিক্ষিতদের (এসএসসি,
এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী) এক-তৃতীয়াংশই বেকার। তাদের মধ্যে
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী বেকার বেশি, অর্থাৎ যাদের পেছনে দেশ ও পরিবার
বেশি অর্থ ব্যয় করেছে, তারাই বেশি বেকার। বিআইডিএসের গবেষণা অনুযায়ী, সার্বিকভাবে
শিক্ষিতদের মধ্যে ৩৩ শতাংশের বেশি বেকার। আর এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যারা প্রথম শ্রেণি পেয়েছে, তাদের মধ্যে বেকারত্ব ১৯ থেকে সাড়ে
৩৪ শতাংশ। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি প্রাপ্তদের মধ্যে ৩৪ দশমিক
৪ শতাংশই বেকার। স্নাতক পর্যায়ে এমন মেধাবীদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৮ শতাংশ। এসএসসিতে
জিপিএ-৫ পাওয়া প্রতি তিনজনের একজনই বেকার বসে আছেন। আর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে
জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে ৩১ শতাংশের বেশি বেকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সংজ্ঞা
অনুযায়ী, কাজপ্রত্যাশীদের মধ্যে সপ্তাহে ন্যূনতম এক ঘণ্টা মজুরির বিনিময়ে কাজের
সুযোগ না পেলে বেকার হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশে এমন বেকার ২৭ লাখ।
বিআইডিএসের
গবেষণায় বলা হয়েছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণি পেয়েও অনেকেরই চাকরি মেলে
না। গবেষণায় আরও দেখা যায়, মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে
সম্পূর্ণ বেকার ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এদের ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ সার্বক্ষণিক এবং ১৮
দশমিক ১ শতাংশ পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত বেকার। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর
পাস করা যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১১ দশমিক ২ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এই
হার ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
একজন অশিক্ষিত লোককে যতটা না কথা সহ্য করতে হয়, মানুষের বঞ্চনা শুনতে হয়, তার
চেয়ে হাজার গুণ বেশি কথা শুনতে হয় আমাদের দেশের শিক্ষিত বেকারদের। তাদের প্রায়ই
মুখোমুখি হতে হয় সামাজিক প্রশ্নের। পারিবারিকভাবে একটু সমর্থন পেলেই তারা হয়তো
মানসিকভাবে দৃঢ় হওয়ার অবলম্বন খুঁজে পেতে পারেন। পরিবারের সমর্থন পেলেই তারা হয়তো
আবার নতুন কোনো পথ খুঁজে পান। আমাদের সমাজকাঠামো শিক্ষিত বেকারদের যেভাবে দেখে তা
থেকেই নানা প্রশ্ন ও অবজ্ঞা তৈরি করা হয়। এমনটা মোটেও উচিত নয়। তাদের যদি অবজ্ঞা ও
হেয় করার দৃষ্টি থেকে দূরে রাখা যায় তাহলেই শিক্ষিত বেকাররা নতুন পথ খুঁজবেন। এই
নতুন পথ কী? শুধু চাকরিই প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ নয়। কেউ চাইলে উদ্যোক্তা হতে
পারেন। কেউ চাইলে ব্যবসায়ী হতে পারেন। শিক্ষা অর্জনের যে মূল উদ্দেশ্য তা এখনও
সামাজিক পরিসরে আমাদের অনেকের মধ্যেই জন্মায়নি। তাই এখনই শিক্ষিত বেকারদের
দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করার বিষয়ে ভাবতে হবে। সামাজিক মননে পরিবর্তন আনতে হবে দ্রুত।