× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্মরণ

শিল্পাচার্যের অনন্য সৃষ্টি

মালিহা আফরোজ মিশু

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৩ ০৯:৫৩ এএম

অলঙ্করন : সংগৃহীত

অলঙ্করন : সংগৃহীত

ছোটবেলা থেকেই কলকাতা আর্ট স্কুলে পড়ার স্বপ্নটা আঁকড়ে ধরেছিলেন জয়নুল আবেদিন। আর্ট স্কুলের প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি একবার ময়মনসিংহের বাড়ি থেকে কলকাতা পালিয়ে গেলেন। সেখানে ধর্মতলায় দুটো কমলা কেনা কেন্দ্র করে দোকানদারের সঙ্গে বচসা। দোকানদার সুযোগ পেয়ে দু ঘা লাগিয়ে দিলেন। শান্তশিষ্ট জয়নুল আবেদিন ভীষণ আঘাত পেয়েছিলেন মনে। শিয়ালদহ স্টেশনে বিনা টিকিটে রেলে চড়ে বাড়ি ফিরে এলেন। ফেরার পরও ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ কমল না। ক'দিন পর ধর্মতলার অভিজ্ঞতাও ভুলে গেলেন। ছেলের ছবি আঁকার ঝোঁক সাব-ইনস্পেক্টর বাবা ভালোভাবে নিতে পারেননি। বাবা তাকে প্রায়ই ধমকান। মা অভাবের সংসারের অনটনের কথা বোঝান। নয় সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। তাকে সংসারের জন্য ত্যাগ করেই বাঁচতে হবে। কিন্তু তিনি তার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে পারেননি। মনের ভেতর আর্ট কলেজে পড়া স্বপ্নটা ঠিকই টিকে থাকে।

তখন যেন আর্ট কলেজে পড়া বিলাসিতারই নামান্তর। জয়নুল অবস্থা বোঝে। কিন্তু তার ইচ্ছে সেখানেই পড়বেন। অবশেষে তার জেদের কাছে হার মানেন মা। নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলের পড়ার ব্যবস্থা করেন। ভর্তি হলেও থাকা- খাওয়ার ব্যবস্থা হয়নি। কলকাতায় পৌঁছে তাই জয়নুলের আশ্রয় ওয়েলেসলি স্কয়ার পার্কের বেঞ্চে রাত যাপন আর পরের দিন আর্ট স্কুলে যাওয়া। এক সাক্ষাৎকারে জয়নুল আবেদিন বলেছিলেন, ‘পার্কে থাকতে হতো। কিন্তু সবচেয়ে কষ্টকর ছিল পার্কে ভোর হওয়ার পর শতরঞ্জি বাঁধা তোশকটা বগলে নিয়ে কোথায় রাখব কোথায় রাখব করে নিত্যনতুন জায়গার সন্ধান।' তারপর কয়েকটি বছর আর্থিক অসঙ্গতিতেই তার বেঁচে থাকা। আর্ট কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করায় কলেজের অধ্যক্ষ নিয়ম ভেঙে তার জন্য মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থাও করেছিলেন। জয়নুল আবেদিন ছাত্রাবস্থাতেই শুরু করলেন শিল্পের জগতে কাজ।

তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্মের ধরনকে বদলে দেয়। গ্রামবাংলার রোমান্টিক নিসর্গ শিল্পী পরিণত হলেন এক দুর্দান্ত বিদ্রোহী ব্যক্তিত্বে। তারপর থেকে সারা জীবনই বিক্ষুব্ধ থেকেছেন। দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার পরপরই জয়নুল তাদের ময়মনসিংহের বড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। সেখানেও দুর্ভিক্ষের যে মর্মান্তিক দৃশ্য তা সহ্য হলো না তার। আবার কলকাতায় ফিরে এলেন তিনি। অমানবিক পরিস্থিতির মানবিক নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে রইলেন। রাত-দিন শুধু কলকাতার দুর্ভিক্ষের সেসব অমানবিক দৃশ্যাবলির স্কেচ করতে শুরু করলেন। দুর্ভিক্ষের বাজারে আর্টের উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় তিনি বেছে নিলেন শুধু কালো কালি আর তুলি। শুকনো তুলিতে কালো চীনা কালির টানে স্কেচ করতে থাকেন অতি সাধারণ সস্তা কাগজের ওপর, ব্যবহার করতেন কার্টিজ পেপার। সাধারণ স্বল্পমূল্যের এসব অঙ্কনসামগ্রী ব্যবহার করে তিনি যে শিল্প সৃষ্টি করলেন, তাই পরিণত হেেলা অমূল্য সম্পদে। দেশভাগের পর শিল্পাচার্য ফিরলেন ঢাকায়। তিনি তার চিত্রকর্মের ধাঁচ বদলে ফেললেন।

পঞ্চাশের দশকে লোকশিল্পের মোটিফ নিয়ে ছবি আঁকা শুরু করলেন। পাশাপাশি পূর্ববাংলার মানুষ, পশুপাখি, প্রকৃতি নিয়ে তেলরস্তু, জলর এবং টেম্পেরায় নিজস্ব একটি ধরন গঠন করে কাজ করতে লাগলেন। লোকশিল্পের প্রভাবে তার আকার দিক এবং বাস্তবধর্মী অন্য ধরনটিতে ভিন্নতা থাকলেও একই শিল্পীর আঁকা ব্যাপারটি ঠিকই প্রতিষ্ঠিত ছিল। এরপর সত্তরের ঘূর্ণিঝড় আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধও তাকে নানাভাবে আলোড়িত করে। স্বাধীনতার পর শিল্পচর্চা সংগঠনের কাজে যুক্ত হন তিনি। স্বপ্ন দেখেছিলেন কারুশিল্প জাদুঘরের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে সংবিধানের অঙ্গসজ্জার দায়িত্ব দেন। বাংলাদেশের চিত্রকলা কিংবা পূর্ববঙ্গের চিত্রকলার জনক বলে পরিচিত জয়নুল আবেদিনের ৪৬তম প্রয়াণ দিবস আজ। তার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা