প্রেক্ষাপট
ফয়সাল আহমেদ
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৩ ১৩:২৫ পিএম
অলঙ্করন : প্রবা
২০৪১ সালের মধ্যে
‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর সাক্ষী হবে দেশের মানুষ। সবখানেই এখন এই স্বপ্নের গল্প। নবম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ
বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই লক্ষ্যে এসপায়ার টু ইনোভেটÑ
এটুআই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাগুলোকে আরও সহজলভ্য এবং দক্ষ করে তোলার
মাধ্যমে সেবা প্রক্রিয়াগুলোকে সহজ করা এবং আমলাতন্ত্রের জটিলতা কমানোর কাজ শুরু করে।
তারপর থেকে সরকার কর সংগ্রহ, পাসপোর্ট এবং ভিসা প্রদান, জমি নিবন্ধন এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ
বিভিন্ন জনসেবাকে ডিজিটালাইজ করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
ডিজিটাইজেশনের
মূল কাজগুলোর একটি দেশের নাগরিকদের ডিজিটালি নানা সুবিধা দেওয়া এবং শারীরিকভাবে ধকল
নেওয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩১৬টি এজেন্সি এবং
৩৭টি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত ২০৮৭টি ডিজিটাল সেবাগুলোয় সময়, খরচ এবং যাতায়াত গণনা করেছে
এটুআই। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থাগুলো দ্বারা
প্রদত্ত ২০৮৭টি অনন্য ডিজিটাল সেবা থেকে ৫.৮ বিলিয়নেরও বেশি সেবা সরবরাহ করা হয়েছে।
সরকারের ডিজিটাইজেশন প্রচেষ্টার কারণে সেবাগ্রহীতারা ১৯ বিলিয়ন দিন, ২১.৬ বিলিয়ন
ডলার অর্থ এবং ১২.৭ বিলিয়ন যাতায়াত-শ্রম বাঁচিয়েছে। প্রাক-ডিজিটালাইজেশন অবস্থার
তুলনায় সরকারের বিদ্যমান ডিজিটালাইজেশন এবং সেবা সহজীকরণ প্রচেষ্টা ৭৩% সময়ে, খরচে
৬৯% এবং সেবাগ্রহীতার যাতায়াত সংখ্যা ৮৫% সাশ্রয় করেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলে সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন। ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াগুলো
স্বয়ংক্রিয় করে এবং কাগজপত্র কমিয়ে, ডিজিটালাইজেশন সরকারি সেবাগুলো সহজ এবং দ্রুততর
করেছে, যা তাদের দক্ষতা এবং উত্পাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেছে এবং ধারাবাহিক অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। ডিজিটালাইজেশন ব্যবসা করার সময় এবং খরচ কমাতে
সাহায্য করেছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
পরে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে। তবে
দেশে সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বিশেষ করে প্রান্তিক জনগণের ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে
ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলোÑ পাবলিক সার্ভিসের
ডিজিটালাইজেশনে ডেটার গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাইবার হুমকি থেকে ব্যক্তিগত
ডেটা রক্ষা করা এবং ডিজিটাল সিস্টেমগুলো সুরক্ষিত করা প্রয়োজন। সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন
থেকে প্রাপ্ত লাভ ধরে রাখতে, বাংলাদেশকে ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে
হবে এবং সারা দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে। ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য,
সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই
সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা যাতে সমাজে সুষ্ঠুভাবে মানুষ
পেতে পারেন, সে জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সেবা তৈরিতে মনোযোগ বাড়াতে হবে। দেশের
এই ডিজিটাল রূপান্তরকে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের পরিকল্পনা
হাতে নিয়েছে সরকার। প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনের প্রতি দৃঢ়প্রতিশ্রুতি
প্রদর্শন, ক্রমাগত বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে
পৌঁছাতে পারে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
·
ডাটা
সমন্বয় কর্মকর্তা, এসপায়ার টু ইনোভেটÑ এটুআই