নুসরাত জাহান (এ্যানি)
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
প্রতীকী ছবি
খেলার মাঠে দৌড়ানোর বয়সে আজ অনেক শিশুই আতঙ্ক নিয়ে বড় হচ্ছে। যে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, পুতুল আর রঙিন স্বপ্ন, সেই হাতই আজ নির্যাতনের ভয় আঁকড়ে বাঁচতে শিখছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের একের পর এক ঘটনা পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসে “শিশুদের কী অপরাধ?”
সম্প্রতি শিশু রামিসার মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু যেন সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু রামিসা একা নয়। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা অমানবিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কেউ স্কুলে যাওয়ার পথে, কেউ প্রতিবেশীর ঘরে, আবার কেউ নিজের পরিচিত মানুষের কাছেই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাস্তবতা হলো, এখন শিশুরা আর কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা তাদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক ঘটনায় দেখা যায়, অপরাধীরা পরিচিত হওয়ায় পরিবারগুলো ভয় বা সামাজিক চাপে মুখ খুলতে পারে না। ফলে অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
প্রতিটি নির্যাতনের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ হয়, মানববন্ধন হয়, বিচার দাবিতে স্লোগান ওঠে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষোভও স্তিমিত হয়ে যায়। অথচ একটি শিশুর জীবনে সেই ক্ষত কখনো মুছে যায় না। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক ট্রমা তাদের সারাজীবন তাড়া করে বেড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কঠোর শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষার চর্চা এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যকর সামাজিক ব্যবস্থা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
একটি শিশু কখনোই নির্যাতনের শিকার হওয়ার জন্য জন্ম নেয় না। তাদের পৃথিবী হওয়ার কথা নিরাপদ, সুন্দর ও স্বপ্নময়। কিন্তু আমরা যদি সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে সভ্যতার বড় বড় দাবি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আজ সমাজের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের একটাই প্রশ্ন “শিশুদের কী অপরাধ?”
লেখক: শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ।