× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

সরকারিভাবে পাহাড়ে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় হলেও সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার বিদ্যুৎ ও ওয়াসার লাইন সংযোগ রয়েছে এসব পাহাড়ে। ফলে পাহাড়ে বসতি স্থাপনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুভংকরের ফাঁকিতে পর্যবসিত হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরকারিভাবে পাহাড়ে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় হলেও সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার বিদ্যুৎ ও ওয়াসার লাইন সংযোগ রয়েছে এসব পাহাড়ে। ফলে পাহাড়ে বসতি স্থাপনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুভংকরের ফাঁকিতে পর্যবসিত হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামস্থিত পাহাড়ে অবৈধ বসতির খবর নতুন নয়। আইন ও সরকারি প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে তাদেরই নাকের ডগায় হাজারো পরিবার বসবাস করে সেখানে। সরকারিভাবে পাহাড়ে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় হলেও সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার বিদ্যুৎ ও ওয়াসার লাইন সংযোগ রয়েছে এসব পাহাড়ে। ফলে পাহাড়ে বসতি স্থাপনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুভংকরের ফাঁকিতে পর্যবসিত হয়েছে। গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রধান প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের পাহাড় ঘিরে বসতি-বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণের হোতাদের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী নগরীর মতিঝর্ণা থেকে ফয়ে’স লেক, বিজয়নগর থেকে আকবর শাহ্ পর্যন্ত ২৬টি পাহাড় এখন দখলদার কবলিত। প্রতিটি পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি। এসব অবৈধ বসতিকে কেন্দ্র করে পাহাড়গুলোতে পাকা সড়ক, বিদ্যুৎ এবং ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ লাইনেরও সংযোগ রয়েছে। এই অবৈধ বসতি গড়তে প্রত্যক্ষ মদদ জোগাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র, যারা রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট। আর এসব অবৈধ দখলদারত্বে নেতৃত্ব ও দেখভাল করত আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখন তাদের স্থলে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মুখচ্ছবি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। বলা নিষ্প্রয়োজন, এটা বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রেরই প্রতিচ্ছবি। মুখ বদলায়, মানুষ বদলায়, দখল অপরাধ চলমান থাকে পূর্ববৎ। 

এটা অনেকটাই ওপেন সিক্রেট যে, পাহাড়ের এসব অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিবছর ওই চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। রাজনৈতিক এ চক্রটির সঙ্গে যে সরকারি প্রশাসনের সম্পৃক্তি রয়েছে, তা না বললেও চলে। তা নাহলে অবৈধ বসতিতে যাতায়াতের পাকা সড়ক, বিদ্যুৎ লাইন ও ওয়াসার মতো ইউটিলিটির সংযোগ থাকার কথা নয়। এসব সংযোগও যে বৈধ নয় তা না বললেও চলে। আর এসব সংযোগ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা যে পকেট ভারী করছেন, তা সহজেই অনুমেয়। ফলে প্রতিনিয়ত পাহাড়ে বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে প্রচারণা চলানো হলেও এর কোনো প্রতিফলন বাস্তবে ঘটছে না। 

এসব পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে বসতি স্থাপন করার জন্য নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন এবং পাহাড় কাটা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, অপরিকল্পিতভাবে বৃক্ষ নিধন ও পাহাড় কাটার ফলে মাটি আলগা হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এর ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। গত ১৯ বছরে এ ধরনের দুর্ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানির কথা প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৭ সালের ১১ জুন তেমনি এক মর্মান্তিক পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছে ১২৭ জন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের সংখ্যা ২৬। ২০১৪ সালে এরকম ১১টি পাহাড়ে বসবাস করত ৬৬৬টি পরিবার। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৫৮টি। চলতি বছরে নতুন করে জরিপ হয়নি। তবে এ সংখ্যা যে আরও বেড়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন অবৈধ হলেও এর কোনো বিরাম নেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু অবৈধ পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি স্থাপনের কোনো পরিবর্তন নেই। বর্ষা মৌসুম এলে জেলা প্রশাসন পাহাড় থেকে বসতি উঠিয়ে নেওয়াসহ নানা নির্দেশনা দিয়ে প্রচার চালালেও অবস্থা থাকে যথাপূর্বং তথা পরং। কখনও কখনও চালানো হয় উচ্ছেদ অভিযান। কিন্তু তা কেবল লোক দেখানো। অভিযান শেষে অবৈধ দখলদাররা আবার থিতু হয় সেই পাহাড়েই। একই দিনে প্রতিদিনের বাংলাদেশ অপর এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানের চিত্র। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটে সেখানকার বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষের। পার্বত্য এসব জেলার অধিকাংশ এলাকা পাহাড়বেষ্টিত। এসব পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী মানুষ শিকার হচ্ছে দুর্ঘটনার। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ও তৎসংলগ্ন এলাকার নদীভাঙন ও অন্যান্য কারণে ভিটেমাটিহারা পরিবারগুলো আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে এলে স্থানীয় দুষ্কৃতকারীরা তাদের পাহাড়ে অবৈধ বসবাসের সুযোগ করে দেয়। গাছ কেটে জঙ্গল সাফ করে ও পাহাড় কেটে সমান্তরাল করে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বদলে ওই চক্র হাতিয়ে নেয় রাশি রাশি টাকা। 

প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষার জন্য যেমন পাহাড় সংরক্ষণ প্রয়োজন, তেমনি গৃহহীন পরিবারের জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার বিষয়টিও জরুরি। তবে তা হতে হবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বৈধভাবে এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে। কোনো দুষ্টচক্রের অর্থলোলুপতার কারণে দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়াটা বরদাস্তযোগ্য নয়। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসনের কাগুজে নিষেধাজ্ঞা যে এ ক্ষেত্রে কোনো ফল বয়ে আনছে না, তা প্রমাণিত। আমরা মনে করি, ফি বছরের প্রাণহানি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিধ্বংসী এই অপতৎপরতা প্রতিহত করা জরুরি। আর সেজন্য সরকারের পরিবেশ, ভূমি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয়তা আবশ্যক। এসব মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত কার্যক্রম ও পদক্ষেপের মাধ্যমে পাহাড় কাটা ও পাহাড়ে অবৈধ বসতি বন্ধ করার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষা ও মানুষের জীবনহানি রোধ সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা