× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সৃজনশীল বাজেট ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ

প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও রূপান্তরকারী দলিল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

একটি দেশের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের খতিয়ান নয়, বরং তা হলো জাতীয় স্বপ্ন ও অর্থনৈতিক দর্শনের এক সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির নানামুখী জটিলতা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে প্রণীত এই বাজেটকে বলা হচ্ছে ‘সৃজনশীল ও দূরদর্শী’। এই বাজেট কেবল সংকট উত্তরণের হাতিয়ার নয়, বরং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক, স্মার্ট ও টেকসই অর্থনীতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উপস্থাপিত এই বাজেট দলিলটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে রয়েছে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায়ের সৃজনশীল কৌশল, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে উৎপাদনশীল খাত ও মানব সম্পদ উন্নয়নে সাহসী বরাদ্দ।


বাজেটের সামষ্টিক কাঠামো ও সৃজনশীলতার দর্শন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল দর্শন হলো ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও সৃজনশীল রূপান্তর’। বিগত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলের বিপর্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলা করে দেশীয় অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির গতিপথে ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের প্রাথমিক লক্ষ্য। এবারের বাজেটের আকার এবং এর অর্থায়নের উৎসগুলোর দিকে তাকালে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। প্রথাগতভাবে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার যে প্রবণতা অতীতে ছিল, সেখান থেকে সরে এসে এবার সৃজনশীল বিকল্প অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাজেটের মোট আকার বিগত বছরের তুলনায় একটি যৌক্তিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দেশের জিডিপির অনুপাতে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। এই বাজেটে সৃজনশীলতার সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে করব্যবস্থার আধুনিকায়নে। করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বৃদ্ধি করা, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর আদায়ের ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধের যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজস্ব নীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

 

সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকসমূহের গভীর বিশ্লেষণ

একটি বাজেটের সাফল্য ও নির্ভরযোগ্যতা নির্ভর করে তার সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন ও তা অর্জনের কৌশলের ওপর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক সূচকসমূহ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিন্যাস করা হয়েছে :

জিডিপি প্রবৃদ্ধি : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক কিন্তু অর্জনযোগ্য এক স্তরে। বিগত দুই বছরের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। উৎপাদনশীল খাত, বিশেষ করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প (MSME) এবং হাই-টেক পার্কগুলোর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ : বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা। ২০২৬-২৭ এর বাজেটে মুদ্রাস্ফীতিকে একটি সহনীয় একক অঙ্কের (Single Digit) ঘরে নামিয়ে আনার কঠোর সংকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে। এজন্য কেবল মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর না করে রাজস্ব নীতিতেও সমন্বয় আনা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে লজিস্টিকস খাতের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়ন : বাজেটের ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে রাখা হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ব্যাহত না হয়। পরিবর্তে, দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ইস্যু, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বন্ড এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নমনীয় শর্তে ঋণ প্রাপ্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

রাজস্ব নীতি ও কর সংস্কারে নতুন উদ্ভাবন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সনাতনী ধারার অবসান ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন ও স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যে এই বাজেটে বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

প্রথমত, ‘স্মার্ট ট্যাক্সেশন’ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কাগজহীন এবং অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। এর ফলে করদাতাদের হয়রানি কমবে এবং রাজস্ব আদায়ের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। দ্বিতীয়ত, করের নেট বা আওতা সম্প্রসারণের জন্য ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করতে সাহায্য করবে। তৃতীয়ত, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে ‘গ্রিন ট্যাক্স ইনসেনটিভ’ বা সবুজ কর রেয়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তাদের জন্য করপোরেট করের হার কমানো হয়েছে। এই সৃজনশীল পদক্ষেপটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের ব্র্যান্ড ইমেজ আরও উজ্জ্বল করবে।

 

এডিপি ও অবকাঠামোগত রূপান্তর

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বরাদ্দের ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ এর বাজেটে ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং ব্যয় বৃদ্ধির যে প্রবণতা ছিল, তা রোধ করতে এবার ‘প্রজেক্ট রেডিনেস’ বা প্রকল্পের প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এবারের এডিপিতে বড় মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সমাপ্ত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে, গভীর সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ (EPZ/EZ) এবং রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রকল্পগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে লজিস্টিকস খরচ কমবে এবং দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহন অনেক দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে, যা সরাসরি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে গতিশীল করবে।

 

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী : মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি

একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্বশর্ত হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতকে আরও শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে নিম্ন-আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা ও ভাতার পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটের সৃজনশীলতা হলোÑ ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ‘জিটুপি’ পদ্ধতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং দুর্নীতি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। এছাড়া, সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় ও বিস্তৃত করতে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের জন্য অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের একটি বড় উৎস হিসেবে কাজ করবে।

 

মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের সুবর্ণ সময় পার করছে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব। এই সত্যকে উপলব্ধি করে বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা সুসজ্জিত করার জন্য বিশেষ তহবিল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি খাতকে চাঙ্গা করতে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ও স্বল্প সুদে ‘স্টার্ট-আপ লোন’ বা নতুন উদ্যোগ ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি কেবল কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং দেশের আইটি রপ্তানি আয়কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

 

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা : টেকসই ও আধুনিক রূপান্তর

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০২৬-২৭-এর বাজেটে কৃষি খাতকে একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ বজায় রাখার পাশাপাশি তার ব্যবহারে সৃজনশীলতা আনা হয়েছে।

প্রথাগত কৃষির পরিবর্তে ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার’ বা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির প্রসারে বাজেটে বিশেষ শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক ছিটানো, আইওটিভিত্তিক সেচব্যবস্থা এবং জলবায়ু সহনশীল উচ্চফলনশীল জাতের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণার জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং অপচয় রোধে কোল্ড চেইন অবকাঠামো ও আধুনিক স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগকে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

 

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য

বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে তৈরি পোশাক (RMG) খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই ঝুঁকি হ্রাস করতে ২০২৬-২৭ এর বাজেটে রপ্তানি বহুমুখীকরণে সুনির্দিষ্ট ও সৃজনশীল রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতো, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল (Light Engineering) খাতকে তৈরি পোশাক খাতের সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধা ও কর প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) সম্পাদনের জন্য বিশেষ লবিং ও নেগোসিয়েশন সেল গঠনের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

 

চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা

একটি চমৎকার বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়, এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সুশাসনের সাথে শতভাগ বাস্তবায়নের ওপর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সামনেও কিছু অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের ওঠানামা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশীয় ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা এই বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে বড় পরীক্ষা হবে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজেটে একটি ‘বাস্তবায়ন ও তদারকি সেল’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রতি তিন মাস পর পর বাজেটের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই বাজেটের সর্বোচ্চ সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব।

সমৃদ্ধির মহাসড়কে বাংলাদেশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হলো সংকট থেকে সম্ভাবনায় উত্তরণের একটি সাহসী ও সৃজনশীল ইশতেহার। এই বাজেট কেবল সংখ্যার মেলবন্ধন নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা। সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকসমূহের বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ, রাজস্ব নীতির আধুনিকায়ন, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিতে দূরদর্শী বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিÑ সব মিলিয়ে এই বাজেট দেশকে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মহাসড়কে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সৃজনশীল বাজেট পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে এক সোনালি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবেÑ এটাই সমগ্র জাতির প্রত্যাশা।


লেখক: শাহাব উদ্দিন মাহমুদ (কলাম লেখক ও শিক্ষাবিদ)


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা