× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাম ও ডেঙ্গুর যৌথ আক্রমণ

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬ ১৪:৩৫ পিএম

হাম ও ডেঙ্গুর যৌথ আক্রমণ

দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি এক দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

একদিকে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও তদজনিত কারণে মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গুও নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে, যা সারা দেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সংক্রামক এই দুই রোগের একযোগে বিস্তার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। টিকাদানের আওতা কমে গেলে বা টিকা গ্রহণে অনীহা দেখা দিলে দ্রুত এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত জ্বর, সর্দিকাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি হামের প্রধান লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রায় সারা বছরই এর প্রাদুর্ভাব ঘটছে। তবে বর্ষাকালে এর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার এর মূল কারণ। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সামান্য অবহেলা থেকেও বড় ধরনের ডেঙ্গু সংকট তৈরি হতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ ও শক সিনড্রোম রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।

গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিনই বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সরকারি হিসাবেই হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজারের কাছাকাছি এবং মারা গেছে ৬২৮ শিশু। এরই মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। জানা গেছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৭ জেলাতে এখন ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৬ জন। মারা গেছে ৬ জন। চলতি বছরের মাসভিত্তিক সংক্রমণের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছেÑ জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে তা একটু কমেছিল, ৩৫৩ জন। কিন্তু এপ্রিলে বেড়ে ৬৪০ জন ও মে মাসে ৭১৪ জন আক্রান্ত হয়। তবে চলতি জুন মাসের প্রথম সাত দিনেই ৫৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহতার ইঙ্গিত বহন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গুর সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সজাগ রয়েছে এবং মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও শুরু করেছে।

জানা গেছে, ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ বেড ফাঁকা রাখা, পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় এবং চিকিৎসকের ফি না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কারও বাসার ছাদ বা আশপাশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে এবং সেখানে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে পূর্বের ন্যায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাও চলবে। অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশারের মতে, বৃষ্টির পানি বিভিন্ন জায়গায় জমে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। তবে বৃষ্টি না হলেও ঢাকা শহরে এডিস মশা থাকবে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলবাযু পরিবর্তনের সঙ্গে এডিস মশাও তার অভিযোজন শক্তি বাড়াচ্ছে।

আমরা জানি, হাম ও ডেঙ্গু উভয়ই প্রতিরোধযোগ্য রোগ। হামের ক্ষেত্রে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রতিটি শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করতে হবে। যারা কোনো কারণে টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে টিকাদানের ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ও গুজব দূর করা যায়। এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।

একইভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা কিংবা আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মশকনিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সম্ভাব্য রোগীর চাপ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত ওষুধ, পরীক্ষার সরঞ্জাম মজুদ, রোগ শনাক্তকরণ ও তথ্য সংগ্রহের সুব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত না করা হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

এ কথা সত্য যে, দুটো রোগের সংক্রমণই অবহেলা, অসচেতনতা, সময়মতো প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, জনসচেতনতা সৃষ্টি, টিকাদান কর্মসূচির জোরদার বাস্তবায়ন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এই দ্বৈত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব। আজকের কার্যকর পদক্ষেপই আগামী দিনের নিরাপদ জনস্বাস্থ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা