নুসরাত জাহান (এ্যানি)
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
পরিবেশ দূষণ। ছবি: সাইন্টিফিক আমেরিকান
প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশুদ্ধ বাতাস, নিরাপদ পানি, উর্বর মাটি এবং জীববৈচিত্র্য ছাড়া মানবসভ্যতার টিকে থাকা সম্ভব নয়। অথচ আধুনিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশ আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, নদী দূষণ, বন উজাড় এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় প্রতিনিয়ত আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততার সমস্যা বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার মানুষ এসব দুর্যোগের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং নির্মাণকাজের ধুলাবালুর কারণে বাতাসের মান ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী দূষণও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। শিল্পকারখানার বর্জ্য, পলিথিন ও গৃহস্থালি আবর্জনা নদীতে ফেলার কারণে অনেক নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শুধু পরিবেশ নয়, নদীকেন্দ্রিক জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে বনভূমি ধ্বংস এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বনভূমি কার্বন শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু জনসংখ্যার চাপ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বনাঞ্চল সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বেশি বেশি গাছ লাগানো, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ, বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুধু সরকারের নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। আজ আমরা যদি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল না হই, তাহলে আগামী প্রজন্মকে আরও ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, অথচ সেই প্রকৃতিকেই আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত করছি। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ একটি সুস্থ পরিবেশই পারে নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
লেখক: শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ