× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি: পুনর্বিবেচনা করুন

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী

প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৬ ঘণ্টা আগে

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি:  পুনর্বিবেচনা করুন

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের এই দুর্দিনে গরিব জনগণের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি ও জীবনমান বিবেচনায় না রেখেই গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।

আর পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়িয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে। কোনো রকম চিন্তা-ভাবনা না করে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরপরই আবারও তাড়াহুড়া করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে, যা দেশের জনগণের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর হবে না বরং দুঃখকষ্ট ও দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বলা যায়, এটি সরকারের এক ধরনের জুলুম-নির্যাতন বা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে জনগণের মতামতকে কখনোই গুরুত্ব না দিয়ে বরং উপেক্ষা করে একের পর এক বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। তারা দেশের ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলছে। মূলত সরকার জনগণের দুরবস্থা উপেক্ষা করে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণকে অসহনীয় দুঃখকষ্ট দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বলে রাখা ভালো, বিদ্যুৎ খাত থেকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে, যা দেখার কেউ নেই। এখনও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে সরকার তাদের টাকা দিচ্ছে এটি কত অপচয়।

দুই দুইবার তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরপরই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি বড়ই দুঃখজনক। বরং বিদ্যুৎ বিভাগের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, অপচয়, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ভুল পরিকল্পনা, ক্রয়-বিক্রয়ের প্রকল্পে অর্থ লোপাটের দায় সাধারণ মানুষ বা গ্রাহকদের ওপর সাধারণত চাপানো হয়ে থাকে। একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর। মানুষ কখনোই নতুন সরকারের নিকট পদে পদে দুর্ভোগ আশা করছে না। এতে দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষার পরিবর্তে সেই পুরনো কায়দায় লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষার পথে সরকার হাঁটতে শুরু করছে। ইতোমধ্যে বিইআরসি একটি গণবিরোধী সংস্থায় পরিণত হয়েছে। সংস্থাটি সেবার পরিবর্তে জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করছে। যেকোনো মূল্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে দেশের শিল্প খাত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমনিতে দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যসহ সর্বক্ষেত্রে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জর্জরিত ঠিক তখনই বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পথে নতুন সরকার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারের কাছে মানুষের আবেদন এই আপদকালীন সময়ে বাঁচার সুযোগ দিন। সরকার সব সময় ভর্তুকির দোহাই দিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর অজুহাত খোঁজেÑ ঠিক এবারও তাই। এতে প্রমাণিত হয় যে, আগের ও বর্তমান সরকারের মধ্যে নীতিগত কোনো পার্থক্য দেখছি না। বিদ্যুতের গ্রাহকরা মনে করে শুধু ঘন ঘন বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই বরং এ ক্ষেত্রে চুরি, দুর্নীতি, অপচয়, লুটপাট, সিস্টেম লস, অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চ ব্যয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। বলে রাখা ভালো, বিদ্যুৎ বিভাগে এক বড় সিন্ডিকেট কাজ করে, যা ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকার বা মন্ত্রীরা যেহেতু টেকনিক্যাল লোক না হওয়াতে সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে তারাও হিমশিম খাচ্ছেন।

সরকারকে অনুধাবন করতে হবে এভাবে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেশের গরিব-মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা শোচনীয় হতে বেশি সময় লাগবে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এখনও বাংলাদেশে বিদ্যুতের সংকট যাচ্ছে না এবং যাবেও না। তারপর গ্যাস নেই, তেল সংকট। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। কলকারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ফলে সামগ্রিকভাবে শিল্পজাত পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ঠিকই আবার এটি ছাড়া দৈনন্দিন জীবন শুধু নয়, শিল্প কলকারখানা, ব্যবসা এমনকি অর্থনীতি অচল। লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত বিলের কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। এমনিতে বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো উন্নয়ন বা দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানো দুস্কর।

মানুষের নিত্য দিনের ঘরোয়া ব্যবহার থেকে শুরু করে কলকারখানা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ বিদ্যুতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। সম্পদের অভাব, আর্থিক অসঙ্গতি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব প্রভৃতির কারণে বাংলাদেশে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারছে না। একটি দুষ্টচক্রের কারণে দেশে ঘন ঘন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চালায়। অপরদিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা প্রভৃতির জন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা মোটেও সন্তোষজনক নয়। বিদ্যুৎ সংকট থেকে দেশের মানুষ পরিত্রাণ পেতে চায়।

সরকারকে লোডশেডিং এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার মধ্যে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে জোরদার করা যেতে পারে। আমি দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানাই।

 

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী

১৭, ফরিদাবাদ-গেন্ডারিয়া, ঢাকা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা