× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

সময়ের দাবি হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সাইফুল হক মোল্লা দুলু

প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৬ ঘণ্টা আগে

সময়ের দাবি হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওরভূমি শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়; এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

প্রতি বছর দেশের মোট বোরো ধানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে হাওরাঞ্চল থেকে। অথচ এই অঞ্চল এখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবকাঠামোগত পশ্চাৎপদতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে নানা সংকটে জর্জরিত। ফলে হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং এই অঞ্চলের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র ‘হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক প্রত্যাশা নয়, বরং জাতীয় প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

প্রতি বছর অকালবন্যা, পাহাড়ি ঢল এবং নদীভাঙনের কারণে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বোরো মৌসুমে ফসল ঘরে তোলার আগেই অনেক সময় হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু কৃষকের স্বপ্নই ভেঙে পড়ে না, দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে। কারণ হাওর উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকার- এসব বিষয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কাজ করলেও তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। একটি পৃথক হাওর মন্ত্রণালয় এই সমন্বয়হীনতা দূর করে একটি একক পরিকল্পনার আওতায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান হাওরাঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩৫টি জেলা নিয়ে একটি পৃথক হাওর মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও হাওরকেন্দ্রিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। এসব প্রস্তাব ও মতামত প্রমাণ করে যে, বিষয়টি এখন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকার ইতোমধ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের জন্য সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে প্রশ্ন হলো, এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য কি বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো যথেষ্ট? অতীত অভিজ্ঞতা বলে, বিচ্ছিন্ন প্রকল্প ও খণ্ডিত উদ্যোগ দিয়ে হাওরের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি নিবেদিতপ্রাণ প্রতিষ্ঠান, যার একমাত্র দায়িত্ব হবে হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ সংরক্ষণ।

হাওরাঞ্চলের সমস্যা শুধু কৃষিতে সীমাবদ্ধ নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার সুযোগের ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব এখানকার মানুষের জীবনমানকে পিছিয়ে রেখেছে। বর্ষাকালে অনেক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় এসব সমস্যা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। হাওর বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্যভাণ্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি প্রতিবেশব্যবস্থা। এখানে রয়েছে অসংখ্য দেশীয় মাছের প্রজাতি, পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত চাপের কারণে এসব সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনাও এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। একটি পৃথক মন্ত্রণালয় পরিবেশ সংরক্ষণ, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশে সমন্বিত নীতি বাস্তবায়ন করতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অঞ্চলের জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদাহরণ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনায় একটি বিশেষায়িত মন্ত্রণালয় গঠন অযৌক্তিক নয়। বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অংশ হওয়া উচিত।

হাওর বাংলাদেশের খাদ্যভাণ্ডার, জলাভূমির প্রাণকেন্দ্র এবং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস। এই অঞ্চলের উন্নয়ন মানে শুধু হাওরবাসীর উন্নয়ন নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই সময়ের দাবি হলো, হাওর উন্নয়নকে প্রকল্পভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের করে এনে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও স্থায়ী কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। আমরা মনে করি, হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এবং এই অনন্য অঞ্চলের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই স্বতন্ত্র হাওর মন্ত্রণালয় গঠনের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সময় এসেছে।

 

সাইফুল হক মোল্লা দুলু

সাংবাদিক 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা