× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাওয়ার ডিভাইডস ইউনিটি

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ১২:৩২ পিএম

পাওয়ার ডিভাইডস ইউনিটি

ক্ষমতা নাকি ঐক্যে ফাটল ধরায়। ‘পাওয়ার ডিভাইডস ইউনিটি’ কথাটির উৎপত্তি সেখান থেকেই। মানে একসময় একটি মহৎকর্ম সাধনের জন্য ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায় কিংবা জাতি ক্ষমতা লাভের প্রশ্নে বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর তার ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভবপর হয় না। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গোটা জাতি ঐকবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছিল মূলত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। এর আগে বিএনপিসহ অপরাপর কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ফললাভ তারা করতে পারেনি। এর প্রধান কারণ, তারা দেশবাসীকে হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পতনের আন্দোলনে ব্যাকভাবে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। যদিও জনসাধারণের বৃহৎ অংশ লীগ সরকার ও তাদের দলীয় কর্মী-ক্যাডারদের উৎপাতে প্রতি মুহূর্তে সরকারের পতন কামনা করত। তবে সক্রিয়ভাবে তারা মাঠে নামেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে পরিবর্তন ঘটে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানাতে রাজনৈতিক দলগুলো দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসতে শুরু করে। এর প্রধান কারণ নির্বিচারে ছাত্রহত্যা। এ ছাত্রদের মধ্যে শিশুরাও ছিল। লীগ সমর্থক সাংবাদিক-কবি আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তার ঐতিহাসিক গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’র এক জায়গায় লিখেছেন- ‘জাগো নাগিনীরা জাগো, জাগো কালবৈশাখীরা/ শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা’। তারই প্রতিফল দেখতে পাওয়া গেল চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে। বাস্তবিক শিশু হত্যার প্রতিবাদেই সবাই জেগে উঠেছিল একযোগে। যা শেখ হাসিনার সরকারের পতন নিশ্চিত করে তোলে। আজ পরিবর্তিত সময়ে বিতর্ক উঠেছে, সে আর্দোলনের পুরোধা কারা ছিল, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে ইত্যাদি। অথচ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বিশাল প্রাপ্তির কাছে এসব বিতর্ক তুচ্ছ। বলা নিষ্প্রয়োজন, আন্দোলনের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে দ্বিধাবিভক্ত করে পতিত স্বৈরশাসকের অনুচরেরা ফিরে আসার অপতৎপরতায় লিপ্ত। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, পতিত শক্তিটির এই গোপন অভিলাষ দলগুলো জেনেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারছে না। এই না পারার কারণ, সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ। একসময় যারা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ন্যূনতম ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, এখন তারা অত্যন্ত ক্ষুদ্র (দলীয়) স্বার্থের কাছে বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে উদ্যত হয়েছে।

 চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নতুন বন্দোবস্তের আওয়াজ কর্ণগোচর হওয়ার পরে যারা আশান্বিত হয়ে উঠেছিলেন, তাদের সে আশা হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যেতে শুরু করেছে। নতুন বন্দোবস্তের সে প্রতিশ্রুতিকে বস্তাবন্দি করে রেখে রাজনীতির নিয়ন্ত্রকরা পুরনো পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন। যেহেতু রাজনীতিকরাই রাজনীতিকে চালিত করেন, তাই রাজনীতিও সে পুরনো পথেই পা বাড়িয়েছে। আমাদের দেশের রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য পরস্পরের প্রতি দোষারোপ। এই দোষারোপের রাজনীতি অতীতে আমাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও ঐকমত্য সৃষ্টি হতে দেয়নি। বরং সময়ে সময়ে তা অনৈক্যের পয়দা করেছে। ফলে বহুল উচ্চারিত জাতীয় ঐকমত্য সোনার হরিণের মতো অধরাই রয়ে গেছে। সদ্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য জাতীয় ঐকমত্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করেছিল। তবে সে কমিশন যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে পারেনি, তা ব্যাখ্যা করে বলার দরকার পড়ে না বোধহয়।

রাজনীতির পুরনো পথে যাত্রার বিষয়টি প্রকটভাবে ধরা পড়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। সেই পুরনো স্টাইলে সরকারি ও বিরোধী দল পরস্পরের দিকে বিদ্বেষের বাক্যবাণ নিক্ষেপ করেছেন। ইতিবাচক আলোচনার পরিবর্তে কে কার থলের বেড়াল বের করে রাস্তায় ছেড়ে দিতে পারে, তারই প্রতিযোগিতা চলেছে। সে সঙ্গে ছিল অসংদীয় শব্দ-বাক্য সহযোগে আক্রমণ-প্রতি-আক্রমণ। সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলকে সরকারেরই অংশ বলে মনে করা হলেও আমাদের দেশে তা কখনোই বিবেচিত হয়নি। বরং সরকার সব সময় বিরোধী দলকে শত্রু জ্ঞান করে তাদের নিধন নির্মূলে সময় শক্তি ব্যয় করেছে। ফলে একটি সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। ফলাফল হয়েছে পরম আরাধ্য গণতন্ত্র রয়ে গেছে শীর্ণকায় ও দুর্বল। আর তা এতটাই দুর্বল যে, তাকে ভূপাতিত করতে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রয়োজন পড়ে না। একটু জোরালো মৌসুমি বায়ুতেই তার কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কথা বলেন না বা বলেননি এমন একজন রাজনীতিকও দেশে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। তবে, তা করতে যে ঔদার্য্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকতে হয়, তার অনুপস্থিতি প্রকট। সবচেয়ে হতাশাজনক হলো, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যারা নতুন রাজনীতি ও নতুন বন্দোবস্তের কথা শুনিয়েছিলেন, তারাও চলতে শুরু করেছেন পুরনো পথেই। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে একে অপরকে নিশ্চিহ্ন-নির্মূল করে দেওয়ার হুমকি আর যাই হোক গণতন্ত্রের চর্চা হতে পারে না।

পাশাপাশি সেই পুরনো পদ্ধতিতে চলছে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত রাখার কসরত। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ ধুয়ো তুলে জাতিকে দুই ভাগে বিভক্ত রেখে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের একাধিপত্যকে নির্বিঘ্ন করতে চেয়েছিল। এখনও আমরা দেখছি, সেই একই তত্ত্ব উপস্থাপন করে জাতিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার’Ñ এই দুই ভাগে বিভক্ত রাখার প্রয়াস। আজকের জামায়াতে ইসলামী যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর উত্তরসূরি তা কে না জানে? পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা শুধু নয়, তারা আল-বদর বাহিনী তৈরি করে একাত্তরে মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। এ অপরাধের গ্লানি দলটিকে চিরকাল বয়ে বেড়াতে হবে সন্দেহ নেই। তবে একদিন যে বিএনপি জামায়াতকে সঙ্গী করে সরকারে গিয়েছে, বর্তমানে তাদেরকে প্রকারান্তরে ‘জাতীয় শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস কতটা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কাজ তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অসঙ্গত নয়।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই, কিংবা চিরশত্রু চিরবন্ধু নেইÑ এ আপ্তবাক্য স্মরণে রাখার পরেও প্রশ্ন করাটা অসমীচীন নয় যে, যখন বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করেছিল, তখন একাত্তরে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে কি তারা জ্ঞাত ছিল না? আমার এসব কথা কাউকে কাউকে বিস্মিত করতে পারে। কেননা, আজীবন জামায়াত-বিরোধী মানুষ হিসেবে পরিচিত একজন যখন এ ধরনের প্রশ্ন তোলে তখন বিস্ময়েরই ব্যাপার। তবে আমি নিজে কী মনে করলাম বা ভাবলাম তা মুখ্য বিষয় নয়। আমার ভাবনা জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এখতিয়ারও আমার নেই। প্রশ্ন একটাই, আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে জামায়াত-বিএনপি কেন পরস্পরের শত্রুতে পরিণত হবে? মনে রাখা দরকার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর শত্রুতা এক বিষয় নয়। সরকার ও বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত এখন যে ভূমিকায় নেমেছে, তা যে দল দুটিকে বিরোধিতা থেকে শত্রুতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেকথা ব্যাখ্যা করে বলার দরকার পড়ে না।

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে ‘রাজনৈতিকভাবে নির্মূল’ করতে হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘নির্মূল’ শব্দটি নেতিবাচক অর্থেই ব্যবহৃত হয়। কেননা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে নির্মূল করা কোনো রাজনৈতিক দলের নীতি বা কর্মসূচি হতে পারে না। তবে চরমপন্থী বা ‘ভূতল’ (আন্ডারগ্রাউন্ড) রাজনীতিতে নির্মূল কর্মসূচি থাকে। চরমপন্থী দলগুলো প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে সশস্ত্র পন্থা অবলম্বন করে। বিএনপি তো সশস্ত্র বা চরমপন্থী কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, যে নিজেদের আদর্শ টিকিয়ে রাখতে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার চিন্তা তাদের করতে হবে। বরং উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচির দ্বারা প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে পরাস্ত করাই তাদের লক্ষ্য হওয়ার কথা। তাহলে কি পনেরো বছর আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ নির্মূল অভিযানে বিপর্যস্ত হয়ে বিএনপিও সে মনোভাব পোষণ করতে শুরু করেছে? মির্জা আলমগীর একজন অত্যন্ত পরিশীলিত রাজনীতিবিদ। ভদ্র রাজনীতিবিদ এবং মার্জিত বক্তব্যদাতা হিসেবে জনগণের মধ্যে তার একটি ভাবমর্যাদা রয়েছে। সাম্প্রতিক ওই উক্তিটি তাই অনেকের কাছেই সমীচীন মনে হয়নি।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে পরস্পরের প্রতি বাক্যবাণ নিক্ষেপে ব্যস্ত। তারা হয়তো বিষয়টি লক্ষ করছে না। তবে দেশবাসী উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। দেশে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তাদের কর্মী-সংগঠকরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে জনগণকে এমন একটি মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যে তারা অচিরেই স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হবে। এমনকি দেশ থেকে পালিয়ে                                                                                                         ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শেখ হাসিনাও হুঙ্কার দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, যে উড়োজাহাজ তাকে হিন্দুস্তানে রেখে এসেছে, সেটাকে পাঠাতে। তিনি সেটাতে করেই নাকি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। দেশে ফিরেই তিনি মামলা, এমনকি ফাঁসিও মোকাবিলা করবেন।

শেখ হাসিনার উক্তিকে কারও কারও কাছে তার চিরাচরিত বাগাড়ম্বর বলে মনে হলেও সচেতন ব্যক্তিরা এর মধ্যে দুর্ভাবনার ছায়া দেখছেন। তারা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষশক্তির মধ্যে দিন দিন যেভাবে দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে পতিত শক্তির অনুপ্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’ আপ্তবাক্যটি স্মরণে রাখা উচিত। জুলাই আন্দোলনের পক্ষশক্তির মধ্যে যদি অনতিক্রম্য দূরত্ব সৃষ্টি হয়, তাহলে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে উদিত হওয়া সম্ভাবনার সূর্য কালো মেঘে ঢাকা পড়তে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, আওয়ামী লীগ যদি সহসাই রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পায়, তাহলে সেটা বিএনপি-জামায়াত কারও জন্যই শুভ হবে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম বদরুদ্দোজা চৌধুরী তার বক্তৃতায় প্রায়ই একটি উপমা দিতেনÑ ‘সুন্দরবনের একটি বাঘ যদি লোকালয়ে এসে বলে, এখন থেকে আমি রক্ত-মাংস কিছুই খাব না, শুধু লাবড়া খাব, তা যেমন বিশ্বাসযোগ্য নয়, তেমনি আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, তাও বিশ্বাসযোগ্য নয়’। সুতরাং ‘বুঝহে সুজন, যে জানো সন্ধান’। 


মহিউদ্দিন খান মোহন

সহকারী সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা