× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বার্ধক্য বোঝা নয়, সম্পদ জেনেভার বিশ্বমঞ্চে আলোকবর্তিকা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার

সহিদুল আলম স্বপন

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ১৭:৪৭ পিএম

আপডেট : ২২ মে ২০২৬ ১৭:৫৭ পিএম

বার্ধক্য বোঝা নয়, সম্পদ জেনেভার বিশ্বমঞ্চে আলোকবর্তিকা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহর জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দফতর, রেড ক্রসের জন্মভূমি এবং বিশ্বের কূটনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই শহরটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আসছে। এই পবিত্র মাটিতে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘‘হেলদি লংজিভিটি ওয়ার্কস্ট্রিম’’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে যখন একজন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ দৃঢ় ও আবেগময় কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন , ‘‘Aging should not be viewed as dependency; aging should be recognised as contribution.’’ তখন পুরো হলভর্তি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে এক গভীর আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সেই মানুষটি হলেন ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, মানবতার নিবেদিত প্রাণ কণ্ঠস্বর, অসহায় শিশু ও মায়েদের অধিকারের দীর্ঘদিনের সংগ্রামী এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ।

এই একটি মুহূর্তে বাংলাদেশ শুধু একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নয়  একটি মানবিক দর্শনের গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়; এটি একটি জাতির বিবেকের জয়।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: মানবসভ্যতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ : আমরা এখন মানব ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। বিজ্ঞান ও চিকিৎসার অগ্রগতির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে  কিন্তু দীর্ঘ জীবন মানেই সুখী ও সুস্থ জীবন নয়। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা দুই বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে  যা আজকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলো এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চাপ বহন করবে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে, বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে দুজন মানুষ ৬০ বছর বয়সে পদার্পণ করছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন হবেন ষাটোর্ধ্ব। এই সংখ্যাগত পরিবর্তন শুধু স্বাস্থ্যসেবার উপর চাপ তৈরি করছে না এটি অর্থনীতি, শ্রমবাজার, সামাজিক কাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় নীতির মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

এই প্রেক্ষাপটে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘‘হেলদি লংজিভিটি’’ উদ্যোগটি কেবল একটি স্বাস্থ্যনীতির আলোচনা নয় এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সামগ্রিক রোডম্যাপ। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারের উপস্থিতি ও বক্তব্য তাই কেবল একটি অংশগ্রহণ নয় এটি একটি ঐতিহাসিক অবদান।

ডা. জিয়া এর আগে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন পেশাদার, যিনি এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩৫টি দেশে টেকসই স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও উন্নয়ন বিষয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। তিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন ডিসি কার্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন, যেখানে তিনি জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু ডা. হায়দার শুধু একজন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ নন। তিনি একজন মানবতাবাদী দার্শনিক, যিনি সংখ্যা ও পরিসংখ্যানের আড়ালে মানুষের মুখ দেখতে পান। তাঁর প্রতিটি বক্তব্যে, প্রতিটি গবেষণায় এবং প্রতিটি নীতিসুপারিশে মানুষের মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্নটি সবার আগে আসে। জেনেভার মঞ্চে তার বক্তব্য ছিল সেই একই মানবিক দর্শনের আরেকটি শক্তিশালী প্রকাশ।

তিনি শুধু বাংলাদেশের সমস্যার কথা বলেননি  তিনি বিশ্বের কাছে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে বার্ধক্য সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সুযোগ  যদি আমরা সঠিক নীতি, সঠিক বিনিয়োগ এবং সঠিক মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাই।

 বাংলাদেশের বাস্তবতা: সংকট ও সম্ভাবনার দ্বৈরথ : বাংলাদেশ এতদিন তার ‘‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’’ বা তরুণ জনগোষ্ঠীর সুবিধা নিয়ে গর্ব করেছে। পোশাক শিল্প, রেমিট্যান্স এবং তরুণ শ্রমশক্তির উপর ভর করে বাংলাদেশ বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু এই সাফল্যের গল্পের আড়ালে একটি নীরব পরিবর্তন ঘটে চলেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি বয়স্ক নাগরিক রয়েছেন। আগামী ২৫ বছরে এই সংখ্যা তিন থেকে চার কোটিতে পৌঁছাবে। অর্থাৎ প্রতি ছয়জন বাংলাদেশির মধ্যে একজন হবেন ষাটোর্ধ্ব। এই পরিবর্তনের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত?

সত্যি কথা বলতে, আমরা এখনও যথেষ্ট প্রস্তুত নই। যৌথ পরিবার ব্যবস্থার ভাঙন, দ্রুত নগরায়ন এবং কর্মসংস্থানের সন্ধানে অভিবাসনের ফলে অনেক বয়স্ক মানুষ আজ সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শিকার। একসময় যে বৃদ্ধ বাবা-মা পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন, আজ তারা অনেক সময় পরিবারের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া একাকী মানুষ।

ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটের কোনো বস্তিতে গেলে দেখা যাবে  বৃদ্ধ মা একা ঘরে বসে আছেন, ছেলে গার্মেন্টসে কাজ করছে, বউ শিশু নিয়ে ব্যস্ত। গ্রামে গেলে দেখা যাবে  বৃদ্ধ বাবা একা জমি দেখছেন, তার সন্তানরা বিদেশে বা শহরে। এই চিত্র কেবল একটি পারিবারিক সমস্যার প্রতিফলন নয় এটি একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দলিল।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও হতাশাজনক। বাংলাদেশে জেরিয়াট্রিক বা বার্ধক্যকালীন চিকিৎসাসেবা এখনও অত্যন্ত সীমিত। বয়সজনিত রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডিমেনশিয়া ও অস্টিওপোরোসিসের জন্য কাঠামোগত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘমেয়াদি সেবাকেন্দ্র অপ্রতুল, প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সংখ্যা নিতান্তই অপর্যাপ্ত। সরকারি হাসপাতালে বয়স্ক রোগীরা প্রায়ই সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হন। আর বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় এতটাই বেশি যে তা অনেক পরিবারকে সরাসরি দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

দৃষ্টিভঙ্গির বিপ্লব; বোঝা নয়, সম্পদ : ডা. হায়দারের বক্তব্যের সবচেয়ে বিপ্লবী দিকটি ছিল দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের আহ্বান। তিনি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বয়স্ক মানুষেরা সমাজের বোঝা নন; তারা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জীবন্ত ভাণ্ডার। এই কথাটি শুনতে সহজ মনে হলেও এর গভীরতা অপরিসীম। আমাদের সমাজে বিশেষত শিল্পায়িত ও নগরায়িত সমাজে — প্রায়ই বয়স্কদের অকেজো বা পুরনো হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক যিনি ৩৫ বছর শিক্ষকতা করেছেন, একজন অভিজ্ঞ কৃষক যিনি মাটির ভাষা বোঝেন, একজন দক্ষ কারিগর যিনি হাতের কাজে অসাধারণ এঁরা প্রত্যেকে দশকের পর দশক ধরে যে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন, তা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে লেখা নেই।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। জাপানে আজ ৭০ বছর বয়সী মানুষ প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়স্করা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সিঙ্গাপুরে ‘‘সিলভার ওয়ার্কফোর্স’’ নামে একটি বিশেষ কর্মসংস্থান কার্যক্রম রয়েছে যেখানে ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা সক্রিয়ভাবে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। এই মডেলগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক নীতি ও পরিবেশ পেলে বয়স্ক জনগোষ্ঠী দায় নয়, সম্পদ হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও মানবিক মর্যাদার ত্রিভুজ : ডা. হায়দার তার বক্তব্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করেছেন  সুস্থ বার্ধক্য কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, এটি অর্থনীতি, শ্রমবাজার, সামাজিক সংহতি ও মানবিক মর্যাদার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। চিন্তা করুন যদি বাংলাদেশের তিন কোটি বয়স্ক নাগরিক সুস্থ, সক্রিয় ও উৎপাদনশীল থাকেন, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের ব্যয় কমবে। যদি তারা অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে গাইড করতে পারেন, তাহলে দেশের মানবসম্পদের মান বাড়বে। যদি তাঁরা কমিউনিটি সেবায় অংশ নিতে পারেন, তাহলে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হবে। আর যদি তাঁরা মর্যাদার সাথে বাঁচতে পারেন, তাহলে পুরো সমাজের নৈতিক ভিত্তি মজবুত হবে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ডা. হায়দার পুষ্টি কার্যক্রম, ডিজিটাল সাক্ষরতা, আর্থিক শিক্ষা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা এবং অভিযোজিত কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন। এগুলো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয় এগুলো একটি সমন্বিত জাতীয় দর্শনের অংশ।

স্বপ্ন থেকে বাস্তবতায় করণীয় : ডা. হায়দারের দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বাংলাদেশকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, জাতীয় বার্ধক্য নীতির আধুনিকায়ন। বাংলাদেশের বিদ্যমান জাতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ নীতিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে। শুধু কাগজে নীতি লিখলে হবে না  বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জেরিয়াট্রিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ।জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বার্ধক্যকালীন বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করতে হবে।

তৃতীয়ত, কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা কেন্দ্র।প্রতিটি ইউনিয়নে এমন কেন্দ্র থাকতে হবে যেখানে বয়স্করা শুধু সেবা পাবেন না, বরং নিজেরাও অবদান রাখতে পারবেন। এই কেন্দ্রগুলো হবে জ্ঞান আদান-প্রদান, সামাজিক মেলামেশা ও উৎপাদনশীল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু।

চতুর্থত, ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি।বয়স্কদের জন্য বিশেষ ডিজিটাল সাক্ষরতা কার্যক্রম, মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করতে হবে যাতে তারা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকতে পারেন।

পঞ্চমত, সামাজিক মনোভাব পরিবর্তন।শিক্ষা পাঠ্যক্রম, গণমাধ্যম এবং সামাজিক প্রচারণার মাধ্যমে বয়স্কদের প্রতি সম্মান ও মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

একটি জাতির বিবেকের জয় : ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার জেনেভার মঞ্চে শুধু একটি বক্তৃতা দেননি  তিনি একটি সভ্যতার বিবেককে জাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, একটি জাতির সত্যিকারের অগ্রগতি পরিমাপ করা হয় সে জাতি তার সবচেয়ে প্রবীণ ও দুর্বল মানুষদের সাথে কেমন আচরণ করে তা দিয়ে।

তার কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি কথা ছিল দশকের অভিজ্ঞতা, গভীর গবেষণা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার ফসল। তিনি প্রমাণ করেছেন যে বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের দার্শনিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ উঠে আসতে পারেন  যারা শুধু নিজের দেশের কথা নয়, সমগ্র মানবজাতির কথা ভাবেন।

বার্ধক্য জীবনের সমাপ্তি নয় এটি জীবনের একটি সোনালি অধ্যায়। সেই অধ্যায়কে সম্মানজনক, সুস্থ, উৎপাদনশীল ও অর্থবহ করে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের সরকার, সমাজ, পরিবার এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের।

ডা. হায়দার আমাদের সেই পথ দেখিয়েছেন। এখন আমাদের সংকল্প নিতে হবে আমরা সেই পথে হাঁটব। কারণ যে জাতি তার বয়স্কদের সম্মান করতে জানে, সেই জাতিই ইতিহাসে অমর হয়।

লেখক : সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট ও কবি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা