মহিউদ্দিন খান মোহন
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ১৩:০৫ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৬ ১৩:৩৩ পিএম
গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ক্ষমতায় আরোহণের প্রেক্ষাপটে সর্বাংশে মিল না থাকলেও ক্ষমতায় থাকার মেয়াদের দিক দিয়ে সামঞ্জস্য রয়েছে। দুজনই টানা তিন মেয়াদে সরকারপ্রধান হিসেবে দোর্দন্ড প্রতাপে দেশ শাসন করেছেন। তবে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল বিস্তর অমিল। দুজনই এসেছিলেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। তবে একজন পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক সে পথ পরিহার করে স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিকে অবলম্বন করে টিকে ছিলেন। অপরজন তিনবারই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় তাদের আরোহণ দুই বছরের ব্যবধানে। একজন ২০০৯ সালে, অপরজন ২০১১ সালে। তবে বিদায় হলো পৌনে দুই বছরের ব্যবধানে। একজন জনরোষে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানে গদিচ্যুত শুধু নয়, দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। অপরজনও জনগণের নীরব রোষের শিকার হয়ে ব্যালটাস্ত্রের আঘাতে ধরাশায়ী হয়েছেন।
সম্মানিত পাঠক, আমি বাংলাদেশের শেখ হাসিনা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাই বলতে যাচ্ছি। এই দুই নারী রাজনীতিবিদ দোর্দণ্ড প্রতাপে
রাজত্ব করেছেন যথাক্রমে স্ব স্ব দেশ ও রাজ্যে। তবে রাজনীতিতে তাদের আগমনের প্রেক্ষাপট
এক ছিল না। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ছিল মমতার। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসেই তার রাজনৈতিক
জীবন শুরু। ১৯৭০-এর দশকে খুবই অল্প বয়সে (জন্ম ১৯৫৫) কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেস (আই)-এর সাধারণ সম্পাদক
ছিলেন। ১৯৮৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর আসনে কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ
চট্টাপাধ্যায়কে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। সে সময় মমতা ব্যানার্জি ছিলেন লোকসভায় সর্বকনিষ্ঠ
সদস্যদের অন্যতম। ১৯৯১ সালে নরসীমা রাও কেবিনেটে মমতা মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া, যুব
কল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত হন। তবে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ১৯৯৭
সালে পদত্যাগ করেন। এরপর গঠন করেন তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯৯৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি
নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেন। এই জোট সরকার গঠন করলে তিনি রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
কিন্তু এনডিএর সঙ্গে মমতার সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি। ২০০১ সালে পশ্চিবঙ্গের রাজ্য বিধানসভা
নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়। তবে নির্বাচনে
ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টকে পরাজিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ২০০৪ সালে মমতা পুনরায় বিজেপির
এনডিএ জোটে ফিরে যান এবং মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন।
নানা উত্থান-পতনের পর ২০০৯ সালের লোকসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস
ভালো ফল করে। পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ১৯টি আসন পায়। ভারতীয়
জাতীয় কংগ্রেসের ৬টিসহ তৃণমূল জোট মোট ২৬টি আসন পায়। অন্যদিকে বামফ্রন্ট ১৫টি এবং বিজেপি
পায় ১টি আসন। মূলত এ নির্বাচনের ফলাফলই মমতাকে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে এগিয়ে দেয়। ২০০৯
সালে মমতা ব্যানার্জি পুনরায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের
রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ
হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামে। এ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। ২৯৪ টি
আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ১৮৪টি এবং জাতীয় কংগ্রেস মিলে ২২৭টি আসন লাভ করে
সরকার গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে বামফ্রন্টের আধিপত্যের অব্সান ঘটে।
২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু
২০২৪ সাল থেকে তার ভাবমূর্তি ক্ষয়রোগাক্রান্ত হয়। তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির
অভিযোগ ছিল সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে, ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে
নানা ধরনের আর্থিক দুর্নীতির খবর চাউর হলে বেকায়দায় পড়েন মমতা। এ সময় তার সরকারের বিরুদ্ধে
ব্যাপক দুর্নীতি ও দলটির নেতাকর্মীদের অপরাধপ্রবণতা পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে বিরূপ করে
তোলে। পাশাপাশি রাজ্য দখলের জন্য নরেন্দ্র মোদির মরিয়া হয়ে প্রচেষ্টা মমতাকে খাদের
কিনারায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। নির্বাচনে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় অবধারিত ধারণা
করা হলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবেÑ এমনটি ভেবেছিলেন অনেকেই। কিন্তু আসন সংখ্যার ব্যবধানের
দিকে তাকালে সে লড়াইয়ের দেখা মেলেনি। বিজেপির চেয়ে প্রায় অর্ধেক আসন কম পাওয়া তৃণমূল
কংগ্রেস তার হারানো রাজত্ব আর কখনও ফিরে পাবে কি না, এ প্রশ্ন এখন জোরেশোরেই উচ্চারিত
হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো চড়াই-উতরাই পার হতে হয়নি
বাংলাদেশের শেখ হাসিনাকে। পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুজনিত পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিতে
আগমনের পথ উন্মুক্ত হয়। ১৯৮১ সালে দলের ঐক্য অক্ষত রাখার তাগিদে ড. কামাল হোসেনের উদ্যোগে
শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী পদে বসানো হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার
উদ্যোগেই ড. কামাল হোসেন দল থেকে বিতাড়িত হন। পরে পৃথক দল গঠন করেন। পিতার উত্তরাধিকার
হিসেবে রাজনীতিতে এসে দলের নেতৃত্বে বসে শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে তার অবস্থান শক্ত করতে
সক্ষম হন। যদিও এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রতিকূলতা তাকে মোকাবিলা
করতে হয়েছে। শেখ হাসিনা রাজনীতিতে এসে ক্ষমতার স্বাদ পান ১৯৯৬ সালে। তবে একচ্ছত্রাধিপতিতে
পরিণত হন ২০০৯ সালে। ২০০৯ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রক্ষমতাকে
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে রূপ দিতে গণতন্ত্রকে পিষ্ট করেন পদতলে। পর পর তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে
প্রহসনে পরিণত করে গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
মমতার ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয়নি। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেটা সম্ভবও
ছিল না। তবে ব্যক্তিগতভাবে সাদামাটা জীবনযাপনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানুষের
মনোযোগ আকর্ষণ করলেও তার স্বজন-পরিজনের কারও কারও দুর্নীতির কারণে তাকে তীব্রভাবে সমালোচিত
হতে হয়েছে। এদিক দিয়েও দুইজনের রয়েছে প্রভূত মিল। শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রী-এমপি,
স্বজন পরিজনদের দুর্নীতির কাহিনী এখন কিংবদন্তিতুল্য।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা তার শাসনক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করতে বেছে নিয়েছিলেন
চরম স্বৈরতান্ত্রিক পন্থা। বিরোধী দলকে নির্যাতনের স্টিমরোলারের নিচে ফেলে পিষ্ট করে
নিশ্চিন্ত হতে চেয়েছিলেন তিনি। সে পথ তাকে দাঁড় করিয়েছিল পৃথিবীর অন্যান্য ফ্যাসিস্ট
শাসকদের কাতারে। বিরোধীদলীয় বিশেষ করে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপির শীর্ষস্থানীয নেতাসহ
সাধারণ কর্মীদেরও রেহাই দেননি। খুন-গুম, জেল-জুলুমের দ্বারা কায়েম করেছিলেন বিভীষিকাময়
পরিস্থিতি। বিনা বিচারে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে বহুসংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে।
গুম করে গোপনে নির্যাতনের জন্য যে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ শেখ হাসিন তৈরি করেছিলেন,
পরবর্তীতে তা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়। বিপুল সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীর সন্ধান আজও
পাওয়া যায়নি। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে ভিন্ন মতাবলম্বীদের। ভিত্তিহীন মামলা
দিয়ে প্রহসনের বিচার করে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিরোধীদের নির্যাতনের ক্ষেত্রে একেবারে কম যাননি।
স্মরণযোগ্য যে, ইন্দিরা পুত্র সঞ্জয় গান্ধীর নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের ক্যাডার-কর্মীরা
এক সময় পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তা এতটাই প্রকট রূপ
নিয়েছিল যে, ১৯৭৬-৭৭ সালে কলকাতার দেয়ালে একটি ছড়া উৎকীর্ণ দেখা যেত- ‘বড়লোকের বেটি
লো, কাঁচাপাকা চুল/ তার বাপের কোটে ছিল লাল গোলাপ ফুল।/ সেই বেটির বেটা লো পাতলা পাতলা
চুল/ দেশজুড়ে দেখিয়ে দিল হলদে শর্ষে ফুল।’ বস্তুত সঞ্জয় গান্ধীর যুব কংগ্রেসের সন্ত্রাসে
ভারতের জনগণ চোখে শর্ষে ফুলই দেখেছিল। আর তারই পরিণামে পরবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসকেও
শর্ষে ফুল দর্শন করতে হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায়
আসে। বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যটির জনগণের জন্য কল্যাণকর অনেক পদক্ষেপ নিলেও যুব ইউনিয়নের
কর্মীদের উৎপাতে জনগণ হয়ে ওঠে বীতশ্রদ্ধ। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিক্ষুব্ধ জনগণ
মুক্তি খোঁজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সময়ে
বামফ্রন্ট জন-আস্থা মোটামুটি ধরে রাখতে পারলেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে ধস নামে।
২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ক্ষমতায়
এসে মমতার সরকারও বিরোধী দলকে দমনের পুরনো পথেই হেঁটেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরোধী
মত দমনের চিত্র রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস ‘মৌষলকাল’-এ।
ক্ষমতার শেষ মেয়াদে এসে মমতাজি অনেকটাই বেপরোয়া ও বেসামাল হয়ে পড়েছিলেন। যার বহিঃপ্রকাশ
ঘটেছে সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে তার বক্তৃতা-ভাষণে। এপারের শেখ হাসিনার মতো ওপারের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খিস্তি-খেউড় করেছেন অবলীলায়। শেখ হাসিনার মতো তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বী
নেতাদের ‘তুই-তুকারি’ করে গালাগাল দিতে দ্বিধা করেননি। তার এ অসহিষ্ণু আচরণ ও শালীনতা
বিবর্জিত কথাবার্তা পশ্চিমবঙ্গের সচেতন ভোটারদের একটি বড় অংশকে গেরুয়া পতাকার দিকে
নিয়ে গেছে।
অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন, এবারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি
কূটকৌশল অবলম্বন করে সাফল্য করায়ত্ত করেছে। এতদিন রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান ভোটাররা
তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিলেও এবার ৯১ লাখ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বিজেপি নির্বাচনে
জয়ের রাস্তা তৈরি করে নিয়েছিল। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের
সময়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাত অঙ্গরাজ্য (সেভেন সিস্টার্স) নিয়ে হুমকি-ধমকি এবং একটি
রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভারতবিরোধী প্রচারণা মোদির বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তারা জনগণকে
বুঝিয়েছে, বাংলাদেশের বৈরী সরকারের ‘ষড়যন্ত্র’ থেকে সেভেন সিস্টার্সকে রক্ষা করা মমতার
তৃণমূলের পক্ষে অসম্ভব। একমাত্র বিজেপি-ই পারে ভারতীয় অখণ্ডত্বের গ্যারান্টি দিতে।
বিজেপির এ প্রচারণায় যে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রভাবিত হয়ে পদ্মফুলে সিল
মেরেছে, ফলাফলে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এদিকে হেরে যাওয়ার পরও মমতা ব্যানার্জি তার গোয়ার্তুমি অব্যাহত রেখেছেন।
বলেছেন, তিনি হারেননি, তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না। অবশেষে
তাকে অব্যাহতি দিয়ে রাজ্যপাল নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথের ব্যবস্থা করেছেন। এখানেও শেখ
হাসিনার সঙ্গে মমতার অদ্ভুত মিল লক্ষ করা যায়। ক্ষমতা শেখ হাসিনাকে এতটাই মোহগ্রস্ত
করে রেখেছিল যে, জনরোষে পতন ও পলায়নের পরেও তিনি নিজেকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি
করেছেন। তার বশংবদরা বলার চেষ্টা করেছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। ইতিহাস অনেক সময়
আইনকানুন সংবিধানের বাইরের অনেক বিষয়কে বৈধতা দেয়। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
মহিউদ্দিন খান মোহন
সহকারী সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ