× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপির নেতাকর্মীদের করণীয়

খায়রুল কবির খোকন

প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম

আপডেট : ১১ মে ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম

বিএনপির নেতাকর্মীদের করণীয়

২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পরে রাষ্ট্রের আঠারো কোটি মানুষের দায়িত্ব বর্তেছে নবগঠিত বিএনপি সরকারের ওপর। এ গুরুদায়িত্ব পটালনে সরকার ও দলের কর্মীবাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনীতিতে পুরানো হলেও সরকারপ্রধান হিসেবে এটাই তার প্রথম দায়িত্ব পালন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি এমন এক সময়ে বাংলাদেশ নামের যানটির স্টিয়ারিং হুইল ধরেছেন, যখন তার সামনের পথ এবড়োথেবড়ো, খানাখন্দে পরিপূর্ণ। সে সাথে রয়েছে হিমালয়তুল্য সংকট। এই সংকট অতিক্রম করে বাংলাদেশকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাফল্যের সূর্য স্পর্শ করতে যে দৃঢ় মনোবল থাকা দরকার, তারেক রহমানের তা রয়েছে, দেশবাসী তা বিশ্বাস করে।  মাত্র দুই মাসঅিতিক্রান্ত হয়েছে তারেক রহমান সরকারের। এরই মধ্যে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সরকারপ্রধানের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং তার বাইরে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উদ্ভূত প্রয়োজনীয়তাকে রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিতে দেখা ও বিবেচনা করার মাধ্যমে তিনি জনমনে আশার সঞ্চার করতে পেরেছেন- এটা অস্বীকার করা যাবে না। কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে দৈনন্দিন পরিশ্রম করছেন তা নিঃসন্দেহে একজন রাজনীতিকের দৃঢ় মনোবল, দক্ষতা ও সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আর এখানেই বাংলাদেশের জনগণ আশাবাদী হয়ে উঠেছে। 

আরও পড়ুন: যেদিকে তাকাবেন সেদিকে শুনবেন নাই, নাই, নাই: ফখরুল

সরকারে এখন বিএনপি। কথাটি ঘুরিয়েও বলা যায়- দেশে এখন  বিএনপির সরকার। একটি সরকার তখনই সফলতা লাভ করে, যখন তার দল এবং সাধারণ জনগণ তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়। অর্থাৎ জনগণের সহযোগিতা ব্যতিরেকে কোনো সরকার সফল হতে পারে না। আর সাধারণ মানুষকে সরকারকে সহযোগিতার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারে দলের নিবেতিপ্রাণ নেতাকর্মীরা; যাদের সিংহভাগ সরকারের বাইরে অবস্থান করে। ফলে এ মুহূর্তে বিএনপির মধ্যম ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি। সাধারণ দৃষ্টিতে এই ব্যাপারটি গণমানুষের তথা বিএনপি নিম্ন-পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সামান্য-রুটিন কর্মকাণ্ডের তৎপরতা হিসেবে গণনার বাইরে থেকে যাচ্ছেÑ এটা সহজ-স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এক্ষেত্রেই মধ্যম-স্তরের ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাপক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে অবিলম্বে, এর কোনো বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হচ্ছে, আমরা বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী প্রচণ্ড পরিশ্রমে নতুন সরকারের দুই মাসের অধিককাল সময়েও তেমন একটা সক্রিয় কর্মকাণ্ড সফল করতে বিশাল সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক তৎপরতায় এগিয়ে আসতে পারিনি। পরিত্যক্ত ফ্যাসিবাদের লুকানো শত্রুরা চারদিকে ভয়ংকর ষড়যন্ত্র নিয়ে সক্রিয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয়-গ্রহণকারী পতিত শাসক শেখ হাসিনা ও তার বশংবদরা নতুন সরকারের বিরুদ্ধে সব অপকর্ম চালানোর কাজে সদা তৎপর। তার সমর্থনে আছে রাষ্ট্র-লুটের বিপুল টাকা। এসব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বিএনপি সরকারকে সামনে এগোতে হলে জনসমর্থনকে সহযাত্রী করার বিকল্প নেই। জনগণকে সরকারের অনুগামী করার কাজে আমরা বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা কতটুকু দায়িত্ব পালন করছি- এ আত্মজিজ্ঞাসার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। আত্মজিজ্ঞাসা মানেই আত্মসমালোচনা। আর আত্মসমালোচনা সবসময় সাফল্যের পথকে পরিষ্কার করে।  

আমাদের কর্মকাণ্ডের সাফল্যের লক্ষ্যেই অনুপুঙ্খ আত্মসমালোচনা করা দরকার। আমাদের নিচের স্তরের নেতাকর্মীদের ভুলগুলো সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া দরকার। সেই অনুসারে নতুন উদ্যোগে, নতুন আয়োজনে আমাদের বিএনপির মধ্যস্তরের নেতা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে নতুন নতুন কর্মসূচির সমাবেশ ও সংগঠন দরকার। এখন অবধি আমাদের দলের নিচের পর্যায়ে আমরা সেই বিশাল আয়োজন করার উদ্যোগটাই নিতে পারিনি। এই বাস্তবতা কাউকে দোষারোপ করার জন্য নয়, এটাই হচ্ছে প্রকৃত আত্মসমালোচনা। এটা থেকে বেরিয়ে আসবে চমৎকার বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির আসল মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার নতুন অ্যাকশন প্ল্যান।

মধ্য-স্তরের ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যেসব কাজে জরুরিভাবে মনোযোগী হতে হবে:Ñ

১. প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক খালকাটাসহ সব কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা অবধি যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় ইউনিটগুলোকে স্থানীয় উদ্যোগে সক্রিয় করা ও সর্বক্ষণ সক্রিয় রাখা।

২. গ্রাম পর্যায় অবধি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি বিধান এবং তা অব্যাহত রাখা, অপরাধ দমনে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে সহযোগিতা দানে প্রতিটি বাড়ি (আবাসিক) ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ইত্যাদি শিক্ষালয়) ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ভেতরে আনা।

৩. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে দুর্বলতা, অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে সন্ত্রাসীরা পুরো ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অ্যালার্ট কার্যক্রমেও ধরা পড়েছে। এদেরকে সামাল দেওয়া আমাদের বাহিনীগুলোর একক কাজ হতে পারে না, তা করতে গেলে অনেক জঙ্গি হামলা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে। বিএনপি মধ্য-স্তরের ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক নজরদারি অতি জরুরি।

৪.  শেখ হাসিনা ও তার সঙ্গী-স্বজনদের লাখ লাখ কোটি টাকা নিরাপদ করার অপচেষ্টা অবিরাম চলমান। এসব অপকর্ম ঠেকাতে হবে বিএনপির মধ্য-স্তরের ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে থেকে এইসব মাফিয়া-ডাকাতদের লুটের টাকাসহ ধরিয়ে দেওয়া এবং তাদের গডফাদার অপকর্মের খুন, নারী-ধর্ষণ সব অপরাধের নমুনাসহ প্রমাণাদি জোগাড় করে দিতে হবে। এই কাজে শুধু পুলিশ ও এই বাহিনীর তৎপরতা একেবারেই সন্তোষজনক নয়, কোনোদিনই তা সম্ভব হবে না, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণেই পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সীমিত তৎপরতা চলবেÑ বাস্তবসম্মত কারণেই।

৫. দেশবাসী সব বাড়ির পরিবারগুলোর সদস্যদের বেশিরভাগের, এমনকি অনেক পরিবারে শতভাগ সদস্যের পর্যাপ্ত শিক্ষা-দীক্ষা ও বিজ্ঞানচেতনা প্রযুক্তি-জ্ঞান ও ভাবনা না থাকায় পারিবারিক সদস্যদের সাধারণ স্বাস্থ্য-সচেতনতাও প্রায় শূন্য বা শূন্য-অবস্থানের কাছাকাছি। বিএনপির নেতাকর্মীদের যারা অন্তত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্তর অবধি শিক্ষার্থী এবং পর্যাপ্ত বিজ্ঞানচেতনা জ্ঞান আছে তাদের প্রতিবেশী প্রতিটি পরিবারের দরকারে অবিরাম স্বাস্থ্য-সচেতনতা শেখাতে হবে।

৬. সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিএনপির এক লাখ কর্মী নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করবেন প্রতিদিন সাড়ে ৫ ঘণ্টা পুলিশের সাথে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের নেতৃত্বে। বিনিময়ে তারা প্রতিদিন নিদিষ্ট পরিমাণ টাকা মূল্যের খাবার ও পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানি পাবেন। তাতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে যাবে। একইভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অ্যাডিস মশা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনায় এক লাখ স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী সারা দেশে একই সুবিধা পেয়ে শিক্ষকদের নেতৃত্বে কাজ করবেন। বিএনপি এক্ষেত্রে ‘দলবাজি’ না-করে কর্মকাণ্ডটি সম্পাদন করে দিতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড বিএনপিকে বহুদূর নিয়ে যাবে সাফল্যের পথে, গণমানুষ বিএনপির পাশে থাকবে সারাক্ষণ।

দেশবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর আস্থাশীল দুটি কারণে। এক. তিনি বহন করছেন দু’জন সফল রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের উত্তরাধিকার। দুই. তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন এদেশের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের ইতিহাস। যদিও বলা হয়ে থাকে ইতিহাসের শিক্ষা এই যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। তবে আমরা মনেপ্রাণেই বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে এ আপ্ত্যবাক্যের প্রতিফলন ঘটবে না। কতনি পিতা শহীদ জিয়াউর রহমান ও মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে যাবেন, জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে।


খায়রুল কবির খোকন

জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব   

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা