× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুধু দাম বাড়ানোই সমাধান নয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ১৫:২৯ পিএম

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬ ১৬:০১ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

তেল, এলপি গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি ও খুচরা দুই স্তরেই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনাধীন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পৃথকভাবে এই প্রস্তাবগুলো বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। মঙ্গলবার কয়েকটি দৈনিকে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত সোমবার এই প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠানো হয়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা আইন অনুসারে পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তী ধাপে গণশুনানি শেষে কমিশন বিদ্যুতের নতুন দর নির্ধারণ করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী (জুন) মাস থেকে নতুন দাম কার্যকর হতে পারে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫.৫০ টাকা বেশি। ফলে ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। এরই মধ্যে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। এমনিতেই এলএনজি, কয়লা ও তেলের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলছে। পাশাপাশি অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যয়ের চাপ আরও বাড়াচ্ছে। সার্বিক বাস্তবতায় চলতি বছরও বিদ্যুৎ খাতে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি গুনতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সঠিক মনে হলেও জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা বৈকি। জ্বালানি খাতের আর্থিক চাপ, আমদানি নির্ভরতা এবং ডলারের সংকটÑ এসব যুক্তি দেখিয়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নতুন নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই মূল্যবৃদ্ধি কি সমস্যার জুতসই সমাধান, নাকি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির পথ? এ কথা সত্য, দেশের বিদ্যুৎ খাত দীর্ঘদিন ধরেই কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছে। রয়েছে পতিত সরকারের আমলে এই অহেতুক ব্যয় ও দুর্নীতির নানা চিত্র। কাগজে-কলমে উৎপাদন সক্ষমতা দেখানো হলেও তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। ফলে সিস্টেম লস, অপচয় এবং অদক্ষতা এখনও বড় সমস্যা। এই অদক্ষতার দায় ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দিয়ে বারবার দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। আরেকটা বিষয়, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো মানে খুচরা পর্যায়ে তার সরাসরি প্রভাব পড়া। এতে শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতÑ সব জায়গাতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে, যা ইতোমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের জন্য নতুন করে দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, সরকার ভর্তুকি কমানোর যুক্তি তুলে ধরছে। সত্যিই ভর্তুকি একটি বড় আর্থিক চাপ। কিন্তু ভর্তুকির কাঠামো সংস্কার না করে সরাসরি দাম বাড়ানো সহজ কিন্তু দূরদর্শী পদক্ষেপ নয়। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলো সমাধান না করলে এই চাপ কমবে না। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এখনও আশানুরূপ বাড়েনি। সৌর ও বায়ুশক্তির মতো বিকল্প উৎসে বিনিয়োগ বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমানো সম্ভব হতো। কিন্তু এই খাতে নীতিগত ও বাস্তব অগ্রগতি ধীর। ফলে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা থেকেই যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

আমরা মনে করি, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে সরকারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রথমত, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিস্টেম লস কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য উৎসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সর্বোপরি, জনগণের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ কেবল একটি পণ্য নয়Ñ এটি অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ভিত্তি। তাই এর মূল্য নির্ধারণেও প্রয়োজন সংবেদনশীলতা, দূরদর্শিতা এবং ন্যায়বিচার। আমরা মনে করি, বারবার মূল্যবৃদ্ধির সহজ পথ বেছে না নিয়ে, খাতটির ভেতরের দুর্বলতাগুলো আগে দূর করা হোক। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনস্বার্থ, সামাজিক প্রভাব এবং বিকল্প সমাধানগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা