× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১৪:৩৩ পিএম

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬ ১৫:১৪ পিএম

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন

দেশের গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গত পরশু বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই কমিশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম কার্যক্রম একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আসবে এবং সাংবাদিকদের প্রতি সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। ‘জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রধান সহযাত্রী স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সভাপতিত্ব করছিলেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে, যা বাংলাদেশেও বিদ্যমান। অতীতে গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এখন সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

সরকারের যে সদিচ্ছার কথা তথ্যমন্ত্রীর বরাতে জানা গেল, তা অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। কেননা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি আমাদের দেশে বহুল আলোচিত হলেও কার্যত তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সে সাথে এ লক্ষ্যে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবিও অনেকবার উচ্চারিত হয়েছে। গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল। তবে বাস্তবে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি। বলা যায়, তা আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবেই রয়ে গেছে। এটা অবশ্যই স্বীকার্য যে, একটি সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবে আমাদের দেশের গণমাধ্যম জগতে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। একদিকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারি প্রশাসনযন্ত্রের উদ্যত খড়গের ভয়, অন্যদিকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অপব্যবহার। এর ফলে সংবাদের অবাধ প্রবাহ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে কিছু ব্যক্তির দৌরাত্ম্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি প্রশানের আমলা-আমাত্যরা গণমাধ্যম বা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে তথ্যের অবাধ প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। অথচ রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে তথ্য জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। কিন্তু সংবাদকর্মীরা সরকারি অফিস-আদালতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইলে তা পায় না। বরং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীর নাজেহাল হওয়ার বহু ঘটনা ইতঃপূর্বে ঘটেছে। প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তার এই ঢাকঢাক-গুড়গুড় ভাব সঙ্গত কারণেই সন্দেহের উদ্রেক করে। ‘অফিসিয়াল সিক্রেসি’র অজুহাতে তারা সত্য ধামাচাপা দিয়ে জনগণকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। 

অন্যদিকে বিধিবদ্ধ নীতিমালা না থাকায় অখ্যাত সব পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, আইপি টিভি, ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদির সাংবাদিক পরিচয়দানকারী একদল লোকের কর্মকাণ্ড রীতিমতো দুর্বৃত্তপনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরা রাজধানীসহ সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের গণমান্য ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় লিপ্ত রয়েছে। মাঝেমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব ভুয়া সাংবাদিক আটকের খবর জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে তাদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়নি। এসব সাংবাদিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকগণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রসঙ্গক্রমে একটি কথা অবশ্যই বলা দরকার, দেশে ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত সংবাদপত্র এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিভিশন-বেতারের সংখ্যা নির্ণয় সম্ভব হলেও আইপি টিভি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। হাতে একটি সেলফোন নিয়েই অনেকে সাংবাদিক বনে যাচ্ছেন। সংবাদ বা তথ্য প্রচারে তাদের কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। ফলে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য প্রচারের প্রাবল্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এ অরাজকতার অব্সান হওয়া জরুরি। 

বর্তমানে দেশের প্রকৃত সংবাদকর্মীরা ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছেন, এ কথা বলা বোধ করি অত্যুক্তি হবে না। একদিকে তাদের সরকারি প্রশাসন ও সমাজের প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু মোকাবিলা করতে হয়, অপরদিকে মালিকপক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও সতর্ক থাকতে হয়। তদুপরি সংবাদকর্মীদের রুটিরুজির ক্ষেত্রে বিরাজ করছে সীমাহীন নৈরাজ্য। আবার সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন নীতিমালায়ও রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। সম্প্রতি তথ্য ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বিজ্ঞাপন বণ্টনের যে ক্রম তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে অনেক সার্কুলেশনহীন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার নাম ওপরের দিকে স্থান পেয়েছে। অথচ মানসম্পন্ন ও দেশব্যাপী প্রচারিত অনেক পত্রিকার নাম নিচের দিকে স্থান পেয়েছে। তালিকা প্রণয়নে এ অনিয়মের পেছনে নানারকম কাহিনীর কথা শোনা যায়। 

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য আমাদেরকে আশ্বস্ত করে এজন্য যে, একটি বিধিবদ্ধ কমিশন থাকলে এ ধরনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হতে পারে। যেহেতু তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেনÑ সরকার গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, সহযাত্রী হিসেবে বিবেচনা করবে, তাই আমরাও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রায়নে সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের যে অপরিহার্যতা, তা যদি বর্তমান সরকার অনুধাবন ও তৎপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়, তাহলে অনেক সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব। 

আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সরকারের এ প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করি। সে সঙ্গে প্রত্যাশা থাকবে, এ কমিশন যেন গতানুগতিক বা ঠুঁটো জগন্নাথ না হয়ে আক্ষরিক অর্থে একটি স্বাধীন কমিশন হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা