× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দায়িত্বশীল ও মুক্ত গণমাধ্যমের প্রত্যাশা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ১৫:২২ পিএম

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬ ১৫:২৪ পিএম

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসটির প্রাতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের রূপরেখা: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা রক্ষায় গণমাধমের স্বাধীনতা’। বাংলাদেশ ও বিশ্ব বাস্তবতায় এবারের প্রতিপাদ্যের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ কম। কেননা, সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের শক্ত অবস্থান অপরিহার্য। যুগে যুগে সব অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আওয়াজ তুলেছে। নির্যাতিত ও অধিকারহারা মানুষদের প্রতিবাদী হতে, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ হতে সাহস জুগিয়েছে। তাই গণমাধ্যম সব সময় অত্যাচারী, শোষক ও মানবতাহরণকারী গোষ্ঠীর রোষের শিকার হয়েছে। তারপরও গণমাধ্যম তার সোচ্চার কণ্ঠ কখনও ম্রিয়মাণ করেনি। শত বাধাবিপত্তি, জুলুম-নির্যাতনের মুখেও গণমাধ্যম তার অব্স্থানে অটল থেকেছে। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুক্ত গণমাধ্যমের অপরিহার্যতার কথা পুনরুল্লেখের প্রয়োজন পড়ে না। এ যাবৎ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে গণমাধ্যম জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এজন্য ক্ষমতাসীন সরকারের নিপীড়ন-নিষ্পেষণের শিকার হতে হয়েছে অনেক সংবাদ মাধ্যমকে। তারপরও সংবাদ মাধ্যম অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও গণমানুষের পক্ষে দৃঢ়তার সঙ্গেই অবস্থান করেছে। তবে হাল আমলে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এখন গণমাধ্যম বিভক্ত হয়ে পড়েছে নানা কোটারিতে। দেশে সংবাদ মাধ্যমের সংখ্যা বিগত পঞ্চাশ বছরে বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু সাংবাদিকতার মান কিংবা সংবাদ মাধ্যমের পেশাগত উৎকর্ষতা কতটুকু সাধিত হয়েছেÑ এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ২৭৭টি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে। এসব দৈনিকের কয়টি গ্রহণযোগ্য সে এক বিরাট প্রশ্ন। তার ওপর রয়েছে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর তাঁবেদারি করে আখের গোছানোর ধান্দা। ফলে দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যম এখন অনেকটাই কল্পনার বিষয়বস্তু হয়ে পড়েছে। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা অনুসারে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ হলো রাষ্ট্রের মূল তিনটি অপরিহার্য স্তম্ভ। এগুলোর ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে রাষ্ট্রের কাঠামো। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদ মাধ্যমকে বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। অর্থাৎ গণমাধ্যমও রাষ্ট্রের একটি অন্যতম স্তম্ভ। বলা হয়ে থাকে, যে দেশে গণমাধ্যম যতটা শক্তিশালী, সে দেশের গণতন্ত্র তথা রাষ্ট্র ততটা শক্তিশালী। কেননা, রাষ্ট্র কাঠামোর বাইরে থেকে গণমাধ্যম জনমতকে সংগঠিত করে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে থাকে। তবে যেসব গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠতাকে প্রাধান্য না দিয়ে ক্ষমতাধরদের মনোরঞ্জনে ব্যাপৃত থাকে, তাদের দ্বারা বরং রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

গণমাধ্যমের সঙ্গে দায়িত্বশীলতার প্রশ্নটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যম তার পেশাগত দায়িত্ব এমনভাবে পালন করবে, যেন তার ভূমিকা কখনোই দেশ ও গণমানুষের বিপক্ষে না যায়। অর্থাৎ গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে, জনগণের প্রত্যাশা সেটাই। কিন্তু অতীতে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমকে সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে দেখা যায়নি। গণমাধ্যম যদি দায়িত্বশীলতা বর্জন করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর তল্পিবাহক হয়ে পড়ে, তাহলে দেশ ও জাতির জন্য তা ভয়ানক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কেননা, গণমাধ্যমের অন্ধত্ব সরকার তথা রাষ্ট্র পরিচালকদের সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে। এর ফলে সরকার ভুল পথে ধাবিত হতে পারে, যা একটি দেশকে বিপর্যয়ের খাদের কিনারায় উপনীত করতে পারে। 

দুর্ভাগ্যজনক হলো, এসব জানা সত্ত্বেও আমাদের দেশের সরকারগুলো স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রতিবাদী গণমাধ্যমের চেয়ে তোষামোদি ও চাটুকারদের অধিক পছন্দ করে, প্রশ্রয় দেয়। ফলে সময়ে সময়ে ক্ষমতাসীনদের তল্পিবাহক কিছু সংবাদকর্মী ও সংবাদ মাধ্যমকে অতিশয় ক্ষমতাধর হয়ে উঠতে দেখা যায়। সদ্য বিগত সময়ে আমরা সেটা প্রত্যক্ষ করেছি। সংবাদ মাধ্যমের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে সরকারের মনোরঞ্জনে ব্যাপৃত থাকতে দেখা গেছে অনেককে। সরকারের গুণকীর্তনে এরা ছিল বিভোর। চোখের সামনে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর অত্যাচার-অবিচারের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেও তারা হয়েছিল ‘চোখ থাকিতে অন্ধ’। সরকারপ্রধানের স্তবগানে এরা এতটাই মশগুল ছিল, কখন তারা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে তা নিজেরাই টের পায়নি। ফলে রাজনীতির মৌসুমি বায়ু যখন দিক পরিবর্তন করল, তখন ওইসব গণমাধ্যম নামের জয়ঢাকগুলো ক্ষুব্ধ জনতার রোষ-কবলিত হলো। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন যেমন রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের জন্য একটি শিক্ষা, তেমনি যেসব গণমাধ্যম বা গণমাধ্যমকর্মী ক্ষমতাসীনদের তল্পি বহন করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে লিপ্ত হয়, তাদের জন্যও সতর্কবার্তা। 

সংবাদ মাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। সমাজের সঠিক ও স্বচ্ছ চিত্র এতে উঠে আসবে, প্রতিফলিত হবে, এটাই কাম্য। যে চিত্র সরকার, বিরোধী দল এবং নাগরিকদের সচেতন করে তুলবে। সংবাদ মাধ্যমের সে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন স্বাধীনতা। যাতে ভয়মুক্ত পরিবেশে তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে। তবে কোনো স্বাধীনতাই সীমাহীন হতে পারে না। স্বাধীনতার অপব্যবহার করে অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর তৎপরতা কাম্য নয়। এজন্য প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা। সরকার আরোপিত সেন্সর নয়, প্রয়োজন সেলফ সেন্সর। রাষ্ট্রকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করতে পারে দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যম। আজ মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সেটাই প্রত্যাশিত।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা