× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬

শান্তিময় ভবিষ্যৎ হোক মুক্ত গণমাধ্যমের অঙ্গীকার

এ এইচ বজলুর রহমান

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম

আপডেট : ০৩ মে ২০২৬ ২০:৫৯ পিএম

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ এমন একসময়ে এসেছে, যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রশ্ন নয়। এটি এখন মানবাধিকার, উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং তথ্যের অখণ্ডতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ এমন একসময়ে এসেছে, যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রশ্ন নয়। এটি এখন মানবাধিকার, উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং তথ্যের অখণ্ডতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মানুষ প্রায়ই বলে, যুদ্ধে সত্যই প্রথম বলি হয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় আরও নির্মম। সত্যের আগেই বলি হন সেই সাংবাদিকরা, যারা সত্য তুলে ধরতে নিজেদের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলেন। শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, যেখানেই ক্ষমতা জবাবদিহিতাকে ভয় পায়, যেখানেই দুর্নীতি আলোকে ভয় পায়, যেখানেই অন্যায় প্রশ্নকে ভয় পায়, সেখানেই সাংবাদিকতা বিপন্ন হয়।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ এমন একসময়ে এসেছে, যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রশ্ন নয়। এটি এখন মানবাধিকার, উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং তথ্যের অখণ্ডতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ বছরের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য, ‘Shaping a Future at Peace : Promoting Press Freedom for Human Rights, Development and Security’, আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়তে হলে স্বাধীন, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই প্রতিপাদ্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটি একদিকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ডিজিটাল তথ্যপ্রবাহ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভুয়া তথ্য, অনলাইন হয়রানি, গণমাধ্যমের আর্থিক সংকট এবং সাংবাদিক নিরাপত্তার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফলে আজকের প্রশ্নটি খুব সরল : আমরা কি এমন একটি তথ্যব্যবস্থা চাই, যেখানে সত্য নিরাপদ থাকবে, নাকি এমন একটি পরিবেশ মেনে নেব, যেখানে ভয়, অপপ্রচার ও ক্ষমতার সুবিধা সত্যকে নিয়ন্ত্রণ করবে?

বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেন্সরশিপ, নজরদারি, আইনি হয়রানি, অনলাইন হামলা, অর্থনৈতিক চাপ এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধাঞ্চলে সাংবাদিক হত্যার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বহু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের শুধু সংবাদ সংগ্রহের কারণে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বড় অংশই তদন্ত ও বিচারের বাইরে থেকে যায়। এই দায়মুক্তি শুধু সাংবাদিক সমাজের জন্য নয়, পুরো মানবসভ্যতার জন্য অগ্রহণযোগ্য। কারণ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধ বিচারহীন থাকলে সমাজে বার্তা যায়, সত্য বলার মূল্য জীবন দিয়েও দিতে হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রথম স্তম্ভ হলো শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। অনেক সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে সাংবাদিকতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে স্বাধীন সাংবাদিকতাই প্রকৃত নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যম দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাজারে অনিয়ম এবং স্থানীয় মানুষের বঞ্চনা সামনে আনে। এগুলো রাষ্ট্রকে দুর্বল করে না; বরং রাষ্ট্রকে নিজের ভুল দেখার সুযোগ দেয়।

উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনায় অবকাঠামো, রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির কথা বেশি আসে। কিন্তু উন্নয়নের আরেকটি মৌলিক শর্ত হলো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য। একটি দেশ যখন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জলবায়ু অর্থায়ন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের পথে এগোয়, তখন তার গণমাধ্যম পরিবেশও অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার অংশ হয়ে ওঠে। বিনিয়োগকারী শুধু রাস্তা, বন্দর ও বিদ্যুৎ দেখেন না; তারা দেখেন আইন কতটা পূর্বানুমানযোগ্য, প্রতিষ্ঠান কতটা জবাবদিহিতামূলক, তথ্য কতটা স্বাধীন এবং সমাজে সমালোচনার জায়গা আছে কি না।

এ কারণেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে রাষ্ট্রবিরোধী ধারণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বাধীন সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নয়। বরং দুর্নীতি, অদক্ষতা, মিথ্যা তথ্য, অবিচার ও অপশাসনকে আড়াল করাই রাষ্ট্রের জন্য বেশি ক্ষতিকর। সংবাদ মাধ্যমের কাজ সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলা নয়; জনস্বার্থের সত্যকে দৃশ্যমান করা। তবে সংবাদ মাধ্যমেরও আত্ম-সমালোচনা দরকার। পেশাগত মান, তথ্য যাচাই, নৈতিকতা, ভুল সংশোধন, মালিকানা স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থের দায়বদ্ধতা ছাড়া মুক্ত গণমাধ্যমের দাবি পূর্ণতা পায় না।

দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যের অখণ্ডতা। বাংলাদেশের মানুষ এখন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও রেডিওর পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, মেসেজিং অ্যাপ এবং নানা অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে তথ্য নেয়। এই পরিবর্তন নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। আজ অনেক ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম সম্পাদকীয় বিচারবোধের জায়গা দখল করছে। কোন তথ্য নাগরিকের সামনে যাবে, কোন সংবাদ ভাইরাল হবে, কোন সত্য চাপা পড়ে যাবে, তা অনেক সময় প্রযুক্তি প্লাটফর্মের অস্বচ্ছ নকশার ওপর নির্ভর করছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই বাস্তবতাকে আরও জটিল করেছে। কৃত্রিম ছবি, ভুয়া ভিডিও, ডিপফেক, বট-চালিত প্রচারণা এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট এখন নির্বাচন, সামাজিক সম্পর্ক, সংখ্যালঘু অধিকার এবং জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব ঝুঁকি। ভুল তথ্য শুধু সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে না; কখনও কখনও সংবাদকক্ষকেও ভুল তথ্যের অনিচ্ছাকৃত বাহকে পরিণত করে। ফলে তথ্য যাচাই, উৎসের নির্ভরযোগ্যতা, ডিজিটাল ফরেনসিক দক্ষতা এবং সংবাদকক্ষের যাচাই প্রটোকল এখন আর অতিরিক্ত দক্ষতা নয়; এগুলো সাংবাদিকতার মৌলিক শর্ত।

এই পরিস্থিতিতে সমাধান শুধু আইন নয়। আইন দরকার, কিন্তু আইন যদি অস্পষ্ট, দমনমূলক বা ক্ষমতার সুবিধামতো ব্যবহারের সুযোগ রাখে, তাহলে সেটি তথ্যের অখণ্ডতা রক্ষা না করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দরকার মানবাধিকারভিত্তিক ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা, প্লাটফর্ম জবাবদিহিতা, অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা, ডেটা সুরক্ষা, স্বাধীন তথ্য যাচাই এবং সর্বোপরি গণমাধ্যম ও তথ্য-সাক্ষরতা। নাগরিককে শুধু তথ্য গ্রহণকারী নয়, তথ্য যাচাইকারী হিসেবেও সক্ষম করতে হবে।

তৃতীয় স্তম্ভ হলো, গণমাধ্যমের আর্থিক টেকসইতা, বহুমাত্রিকতা ও অন্তর্ভুক্তি। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বড় সংকট শুধু স্বাধীনতার নয়; টিকে থাকারও। বিজ্ঞাপন বাজারের সংকট, ডিজিটাল প্লাটফর্মের প্রভাব, মালিকানার ঘনত্ব, রাজনৈতিক ও করপোরেট চাপ, স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের দুর্বলতা এবং সাংবাদিকদের অনিশ্চিত কর্মপরিবেশ গণমাধ্যমকে চাপে রেখেছে। একটি সংবাদকক্ষ যদি আর্থিকভাবে দুর্বল থাকে, সাংবাদিক যদি ন্যায্য বেতন না পান, স্থানীয় গণমাধ্যম যদি বিজ্ঞাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে স্বাধীনতা কাগজে থাকলেও বাস্তবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোতে আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক ও পেশাগত চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ন্যায্য লাইসেন্সিং, স্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নীতি, সাংবাদিক সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি, বিশ্বাসযোগ্য আত্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সংবাদকক্ষে নারী-পুরুষ সমতা, কমিউনিটি ও আদিবাসী গণমাধ্যমের সহায়তা এবং গণমাধ্যম-সাক্ষরতাকে সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা জরুরি। এগুলো শুধু গণমাধ্যম নীতির বিষয় নয়; এগুলো গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন নিরাপত্তার অংশ।

বাংলাদেশ ২০২৫ সালের World Press Freedom Index-এ ১৬ ধাপ এগিয়ে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪৯তম অবস্থানে এসেছে। এই অগ্রগতি ইতিবাচক, কিন্তু ১৪৯তম অবস্থান কোনো স্বস্তির জায়গা নয়। এটি বরং মনে করিয়ে দেয়, পথ এখনও দীর্ঘ। প্রকৃত অগ্রগতি মাপতে হবে কয়েকটি বাস্তব প্রশ্ন দিয়ে : সাংবাদিক কি ভয় ছাড়া প্রশ্ন করতে পারছেন? স্থানীয় সাংবাদিক কি রাজনৈতিক চাপের বাইরে রিপোর্ট করতে পারছেন? নারী সাংবাদিক কি নিরাপদে নির্বাচনী মাঠে যেতে পারছেন? সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উপকূলীয় মানুষ, শ্রমিক এবং তরুণদের কণ্ঠ কি সংবাদে যথাযথ স্থান পাচ্ছে?

সাংবাদিক নিরাপত্তা এখন বাংলাদেশের জন্য জরুরি অগ্রাধিকার। নির্বাচনী সময়, স্থানীয় বিরোধ, জমি দখল, পরিবেশ ধ্বংস, দুর্নীতি, শ্রমিক অধিকার, সংখ্যালঘু নির্যাতন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। শারীরিক হামলা, মামলা, ডিজিটাল নজরদারি, অনলাইন হয়রানি, চরিত্রহনন, হ্যাকিং এবং নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। সাংবাদিক যদি মাঠে যেতে ভয় পান, তাহলে নাগরিকও নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে বঞ্চিত হন।

আইনগত পরিবেশ নিয়েও সতর্ক থাকা দরকার। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও নাগরিকের স্বাধীনতাকে মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না। যে আইন অপরাধ দমনের জন্য তৈরি, সেটি যেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সমালোচনা বা জনস্বার্থের তথ্য প্রকাশকে ভয় দেখানোর উপকরণে পরিণত না হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে আইনের ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং আইন যেন ন্যায়সঙ্গত, স্পষ্ট, প্রয়োজনীয় এবং মানবাধিকারসম্মত হয়, তা নিশ্চিত করা।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি বাস্তব কাজের তালিকা তুলে ধরে। প্রথমত, সাংবাদিক নিরাপত্তার জন্য জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার, যেখানে পুলিশ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সংবাদ মাধ্যম মালিক, সাংবাদিক সংগঠন, নারী সাংবাদিক নেটওয়ার্ক ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করবে। দ্বিতীয়ত, অনলাইন ও অফলাইন হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতা যত দীর্ঘ হয়, ভয় তত প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে ওঠে।

তৃতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানবাধিকারভিত্তিক নীতি দরকার। শুধু কনটেন্ট অপসারণ যথেষ্ট নয়। জানতে হবে, কোন অ্যালগরিদম ঘৃণা বাড়ায়, কোন প্লাটফর্ম ভুয়া তথ্য থেকে লাভ করে, কোন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন অস্বচ্ছ এবং কোন ডেটা ব্যবহার নাগরিকের গোপনীয়তা ভঙ্গ করে। চতুর্থত, গণমাধ্যম ও তথ্য-সাক্ষরতাকে শিক্ষা, যুব কর্মসূচি, কমিউনিটি রেডিও, স্থানীয় সরকার এবং নাগরিক প্রশিক্ষণের অংশ করতে হবে। ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ হলো সচেতন নাগরিক।

পঞ্চমত, গণমাধ্যমের আর্থিক টেকসইতা নিয়ে জাতীয় আলোচনা প্রয়োজন। স্বাধীন গণমাধ্যম বাজারের দয়ায় বাঁচতে পারে না, আবার রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলেও স্বাধীনতা দুর্বল হয়। দরকার স্বচ্ছ বিজ্ঞাপন নীতি, স্থানীয় গণমাধ্যম সহায়তা, জনস্বার্থ সাংবাদিকতা তহবিল, কমিউনিটি মিডিয়া সহায়তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অনুদান এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য শ্রম অধিকার। ষষ্ঠত, নারী, তরুণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় ভাষাভাষী মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম যদি শুধু কেন্দ্রের কণ্ঠ বহন করে, তাহলে তা জাতীয় বাস্তবতার অর্ধেকই দেখায়।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি একটি নীতি-আহ্বান। শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চাইলে স্বাধীন, বহুমাত্রিক, নিরাপদ ও টেকসই গণমাধ্যম দরকার। কাগজে স্বাধীনতা নয়, বাস্তবে স্বাধীনতা। শহরকেন্দ্রিক সংবাদ নয়, স্থানীয় মানুষের কণ্ঠ। প্রযুক্তির ঝলক নয়, তথ্যের সততা। আইন নয় শুধু, ন্যায়বিচার। উন্নয়ন নয় শুধু, জবাবদিহিতামূলক উন্নয়ন।

বাংলাদেশ যদি এই উপলক্ষকে সংস্কারের সুযোগ হিসেবে নিতে পারে, তাহলে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ একটি স্মারক দিবসের বাইরে গিয়ে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, সামাজিক আস্থা এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন সূচনা হতে পারে। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানে সাংবাদিকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়। এটি নাগরিকের জানার অধিকার, রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ রক্ষার মৌলিক শর্ত।


এ এইচ এম. বজলুর রহমান

ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যের অখণ্ডতা ও ডিজিটাল গণতন্ত্রবিষয়ক নীতি-পরামর্শক এবং এএমআর বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা