× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার নারী

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৭ পিএম

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে, নারীদের ব্ল্যাকমেইল করা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে, নারীদের ব্ল্যাকমেইল করা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজে অপরাধপ্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে, নারীদের ব্ল্যাকমেইল করা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নানাভাবে একদল দুষ্টপ্রকৃতির মানুষ এ অপকর্মটি করে চলেছে। গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর এক খবরে বলা হয়েছে, এ ধরনের একটি অপরাধী চক্রের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ফোর্সটির গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নানা উপায়ে নারী, বিশেষত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণী-কিশোরীদের ছবি সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করে আসছিল। দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর গত রবিবার ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এদের আটক করে র‌্যাব। এ সময় চক্রটির সদস্যদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে দেড় লাখেরও বেশি নারীর নগ্ন ও স্পর্শকাতর ছবি আটক করা হয়। র‌্যাব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সাইবার অপরাধ সম্পর্কে প্রকাশিত খবরকে গুরুত্ব দিয়ে তারা অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। চক্রটি মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে টার্গেট নারীদের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে তা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে আসছিল। সামাজিক মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত ডিভাইস হ্যাক করে শত্রুতাবশত বা সম্পর্কের অবসানের পর সংগৃহীত ছবি ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করত। 

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন নতুন নয়। সমাজের কিছু দুষ্টলোক কখনও এককভাবে, কখনও সংঘবদ্ধভাবে এ অপরাধ করে চলেছে। প্রেমিক-প্রেমিকার আবেগঘন মুহূর্তের ছবি কিংবা গোপন কোনো বিশেষ ছবি হাতিয়ে নিয়ে তারা এ অপরাধকর্ম সম্পাদন করে থাকে। কখনও আবার নারীদের দিয়ে ফাঁদ পেতে পুরুষদের নগ্ন ছবি ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে থাকে। সাইবার ক্রাইম নামে পরিচিত এই অপরাধটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে একটি অত্যন্ত সক্রিয় চক্র। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সমাজের অন্য অপরাধীরাও। তারা শিকার ধরে এনে ছবি তোলে। আর সাইবার ক্রিমিনালরা তা সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়। 

মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নানাবিধ অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে। কয়েক বছর আগে ‘জিনের বাদশাহ’ নামে একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। এরা গভীর রাতে ফোন করে সরলমনা মানুষদের নানারকম ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। এই চক্রের কয়েকজন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছে। পাশাপাশি মানুষ সচেতন হয়ে ওঠায় চক্রটি এখন আর তেমন সক্রিয় নয়। তবে সাইবার বুলিং অপরাধটির অবসান এখনও হয়নি। 

সাধারণত নারীরাই এই অপরাধের শিকার হন বেশি। তারা কখনও প্রলোভনে পড়ে, কখনও প্রেমিকরূপী পুরুষটিকে বিশ্বাস করে অন্তরঙ্গ ছবি তুলে থাকেন। আবার তাদের অজান্তে এ ধরনের ঘনিষ্ঠতার ছবি ক্যামেরাবন্দি করে থাকে অপরাধীরা। পরে সম্পর্ক ভেঙে গেলে বা ইচ্ছা করে ভেঙে দিয়ে ওই ছবি দেখিয়ে চলে ব্ল্যাকমেইলিং। এই সাইবার ক্রাইমের শিকার অনেক নারী সামাজিক বিড়ম্বনার কারণে আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। নগণ্য সংখ্যক ক্ষেত্রে এ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হলেও বহুসংখ্যক ক্রিমিনাল কেন অবাধে বিচরণ করছে। 

বিগত সরকার সাইবার ক্রাইম রোধকল্পে আইন করেছিল। কিন্তু সে আইন অপরাধীদের বিরুদ্ধে যতটা না ব্যবহার হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে। ফলে আইনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা সংশোধন করা হলেও তা সরকারের গণমাধ্যম কর্মীদের নির্যাতনের হাতিয়ারই রয়ে গেছে। সচেতন মহলের মতে, সাইবার অপরাধ দমনের জন্য এমন একটি আইন প্রণয়ন দরকার, যা প্রকৃত অপরাধীদের দমনে সরকার, তথা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করতে পারবে। তবে সাংবাদিক বা নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার চেষ্টা করছে দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। এ পরিবর্তন আনতে হলে দেশে সক্রিয় অপরাধ চক্র ভেঙে তছনছ করে দিতে হবে। শরীরে রোগ জীবাণু জিইয়ে রেখে যেমন সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা যায় না, তেমনি সমাজের বিভিন্ন স্তরে অপরাধী ও অপরাধ চক্রকে সক্রিয় রেখে সুস্থ সমাজের কল্পনা করা যায় না। 

একটি সময় ছিল, যখন আমাদের দেশে অ্যাসিড সন্ত্রাস ব্যাপক রূপ পরিগ্রহ করেছিল। আর সে অ্যাসিড সন্ত্রাসের মূল টার্গেট ছিল নারী। আশির দশকে অ্যাসিড সন্ত্রাস দমনের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে সর্বোচ্চ শস্তি নির্ধারণ করে আইন করার পর সে সন্ত্রাস কমে আসে। বর্তমানে যে সাইবার ক্রাইম চলছে, বিশেষ করে নারীদের যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তা দমনের জন্য তেমন একটি আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা সচেতন মহল অনুভব করছে। তবে সে আইনের যাতে অপব্যবহার না হয়, সেজন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থাও থাকতে হবে। সমাজ থেকে সবধরনের অপরাধ নির্মূলে যে সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার, সরকারকেই তা নিতে হবে। অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলে দেশকে মানুষের বসবাসযোগ্য রাখতে সরকারের কঠোরতার বিকল্প নেই।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা