জিহাদ হোসেন রাহাত
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২০ পিএম
বৈশ্বিক দুরবস্থা, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটসহ নানা কারণে সুখ কমছে দেশের। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখন সবাই অসুখী হওয়ার পথে। তার কারণ, সম্প্রতি বেড়ে গেছে তেল-গ্যাসের দাম। একদিকে ভোক্তারা এসবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেট সফল হওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে মালিক সমিতি। অবশ্য এর আগেই গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, হাজার হাজার লিটার জ্বালানি মজুদের তথ্য। এবার তারাই হয়েছে সফল। যার দরুন দুর্গতি বেড়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের।
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করেছে। অকটেনের দাম ১২০ থেকে এখন ১৪০ টাকায় ঠেকেছে। পেট্রোলের দাম ১১৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩৫ টাকা। বাদ যায়নি কেরোসিনও। ১১২ টাকা লিটারের এই জ্বালানি ১৮ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ সবখানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০-৫০ টাকা। ডিমের দামও হুহু করে আকাশছোঁয়ার অবস্থা। এসব দেখে ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন জাগছে, মুরগি কি পেট্রোল খায়?
সড়ক পরিবহন, জ্বালানি তেল, নৌপরিবহন আর হাহাকার এসব শব্দে যেন বন্দি হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। আর সেই বন্দিদশার গলায় পেরেক মেরেছে গ্যাসের দাম। দুই দফায় দাম বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডার চলতি মাসে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা দাম এর থেকে বেশিÑ সেই অভিযোগ পরিণত হয়েছে পান্তাভাতে।
অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যেন কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশের সুখ। বিগত সরকারের আমল থেকেই বিগড়ে যাওয়া সুখের ধারা এখন কে ফিরিয়ে আনবে? এসব সিন্ডিকেট কে রুখবে? সেই প্রশ্নের উত্তর মেলা বড় দায়। নতুন করে ফের মাথা জাগানো সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি দেশের আপামর জনতা। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সরকারও রয়েছে জিম্মিদশায়।
তেলকে ইস্যু করে মানুষের পেট যত খালি রাখা যায়Ñ এমন প্রতিযোগিতায় নেমেছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট সবপক্ষ। মোদ্দাকথা, সিন্ডিকেট আজ দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। হাল হয়েছেÑ সর্বাঙ্গে ব্যথা, মলম দেব কোথার মতো।
বৈশ্বিক দুরবস্থা, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটসহ নানা কারণে সুখ কমছে দেশের। আর দেশকে এই অসুখী অবস্থায় রাখায়, সরকারের সমালোচনা যে বাড়ছে দিনকে দিন তা আর অনুমান করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অতি দ্রুত সব ধরনের অসাধু চক্রের লাগাম না টানলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তখন কিছুই করার থাকবে না।
জিহাদ হোসেন রাহাত
শিক্ষার্থী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা