× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দাবদাহের কবলে প্রকৃতি ও মানুষ

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০৮ পিএম

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যখন মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, তখন দেখা দিয়েছে হঠাৎ বর্ষণে মাঠে পেকে আসা ধানের সর্বনাশের শঙ্কা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যখন মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, তখন দেখা দিয়েছে হঠাৎ বর্ষণে মাঠে পেকে আসা ধানের সর্বনাশের শঙ্কা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে জনজীবনে সৃষ্ট অসহনীয় পরিবেশ ও শঙ্কার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে যখন মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, তখন দেখা দিয়েছে হঠাৎ বর্ষণে মাঠে পেকে আসা ধানের সর্বনাশের শঙ্কা। বর্তমানে দেশের এক বিরাট অংশজুড়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তার প্রভাবে পুড়ে যাচ্ছে ফসলের প্রান্তর। এই অবস্থার অবসান হতে পারে বর্ষণে। অবশ্য তা নির্ভর করে প্রকৃতির মর্জির ওপর। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অচিরেই ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

এ ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে আরেক বিপদ। ফসল কাটা শ্রমিকের অপ্রতুলতার ফলে সময়মতো তা সম্পন্ন করা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। অন্যদিকে চাহিদামতো জ্বালানি না পেয়ে উক্ত অঞ্চলের কৃষকগণ পড়েছেন বিপাকে। জ্বালানির অপ্রতুলতার কারণে কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিন পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাকা ফসল কেটে গোলায় তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি হারভেস্টর মেশিন দিনে ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমির ধান কাটা সম্পন্ন করতে সক্ষম। এজন্য দৈনিক প্রয়োজন ১২০ থেকে ১৫০ লিটার ডিজেল। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তারা খোলাবাজার থেকে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছে। ফলে ফসল কাটার হারও অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ গতিতে ধান কাটা চলতে থাকলে শেষ হওয়ার আগেই বর্ষণ শুরু হয়ে যাবে। তখন হবে নতুন বিপদ। 

প্রকৃতির ওপর মানুষের হাত নেইÑ এটা সত্যি। তবে প্রাকৃতিক দুযোগ-দুর্বিপাকে করণীয় সম্পর্কে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা গেলে মানুষের দুর্ভোগ যেমন কমে আসে, তেমনি ক্ষয়ক্ষতিও কমে যায় বহুলাংশে। বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি আমাদের দেশের ফি বছরের ঘটনা। এসব প্রতিরোধ বা প্রতিহত করার উপায় মানুষের হাতে নেই। তবে এসবের বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া মানুষের সাধ্যের বাইরে নয় এবং তা জরুরিও বটে। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমরা তা কখনোই নেই না। দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময় কী কী সতর্কতা বা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। কিন্তু পরে আর কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় না। পুনরায় যখন আবার একই দুর্যোগে পতিত হই, হুঁশ ফেরে তখনই। এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর। ফলে সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। 

দ্বিতীয় খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ভেতরের পৃষ্ঠায়। শিরোনামÑ ‘নিত্যপণ্যের দামের আঁচে পুড়ছে ক্রেতা’। শিরোনামটি যর্থার্থ সন্দেহ নেই। কেননা, যারা নিয়মিত বাজারে যান, তারা এই মূল্য-দাবদাহ অনুভব করতে পারছেন। গত এক সপ্তাহে প্রতিটি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় শাকসবজি, মাছ-মুরগি সবকিছুর দাম এখন উৎক্ষিপ্ত মিসাইলের ন্যায় ঊর্ধ্বাকাশমুখী। ফলে সীমিত ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে ভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা সাধারণের পক্ষে তার নাগাল পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে হঠাৎ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারমূল্যে। তবে পরিবহন খরচ যে পরিমাণে বেড়েছে, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি ঘটেছে তার চেয়ে অনেক বেশি। সরকার জ্বালনি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে নির্ধারিত হারে। সে অনুযায়ী পরিবহন ভাড়াও নতুন করে নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু তার প্রভাবে বাজারে পণ্যমূলের লাগামহীন উল্লম্ফন গ্রহণযোগ্য না হলেও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই। 

তা ছাড়া আমাদের দেশের পণ্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের চেয়ে ‘বাজার সিন্ডিকেটে’র ক্ষমতা অনেক বেশি। এই সিন্ডিকেট এক অদৃশ্য শক্তি। এদের চোখে দেখা যায় না, তবে তাদের প্রভাব অনুভব করা যায়। তারা এতটাই শক্তিশালী যে, সরকারও তাদের সহজে ঘাটাতে চায় না। বরং সরকারের আচরণে এসব সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া বা সমীহ করার বিষয়টি অনেক সময় প্রকটভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী বর্তমানে ভোজ্যতেলের যে কৃত্রিম সংকট চলছে, তার পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেটের কালো হাত। এই কৃত্রিম সংকট মূল্যবৃদ্ধির কূটকৌশলের অংশ বলে মনে করেন অভিজ্ঞজনেরা। বিভিন্ন সময়ে সিন্ডিকেট ভাঙা বা দমনের বিষয়ে কথা বলা হলেও অশরীরী এই কাঠামোটিকে স্পর্শ করতে পারেনি কোনো সরকার। বরং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী সিন্ডিকেটের কাছে সরকারের অসহায়ত্বের কথা অকপটে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছিলেন। 

বলাটা অযৌক্তিক হবে না, দুই ধরনের দাবদাহে দেশবাসী এখন অতিষ্ঠ। একদিকে প্রচণ্ড খরতাপে তেষ্টানো দায় হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে দ্রব্যমূলের আগুনে জীবন হয়ে উঠেছে যন্ত্রণাদায়ক। এই দুই দাবদাহ থেকে কবে, কীভাবে জনজীবন মুক্তি পাবে সেটাই চিন্তার বিষয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা