× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্থানীয় সরকারে এমপিদের একক আধিপত্য নয়

মতিলাল দেব রায়

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১০ পিএম

সংবিধান ও আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সংবিধান ও আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নিজ সংসদীয় আসনের উপজেলা পরিষদে বসার জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নামে এমপিদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা করছে সরকার। সম্প্রতি সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। গত ২৪ এপ্রিল প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের দেশে এমপিদের এখতিয়ার-বহির্ভূত কাজে হস্তক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিনের। সিদ্ধান্তটি নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিলেও স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ উপজেলা পরিষদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতা ও যে সুযোগ রয়েছে সেটা বাধাগ্রস্তের আশঙ্কা তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। কারণ সংসদ সদস্য নিজ এলাকায় তার ক্ষমতা প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন। যেকোনো কাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও বিরোধ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

সচেতন মহল মনে করে, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য কক্ষ রাখা হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দুর্বল হবে। এমপিদের খবরদারির আরও ব্যাপকতা বাড়তে পারে। স্থানীয় সরকারে তাদের ক্ষমতা বা প্রভাব বিস্তারের জন্যই করা হচ্ছেÑ এমন ধারণাকে আরও পোক্ত করবে। এমনিতেই সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। অতীতে দেখা গেছে, এমপিরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করেন। উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থা দুর্বল থাকার কারণ দুটি। একটি হচ্ছে সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপ, দ্বিতীয়টি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ। এসব প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিদের শাসন নেই, জনপ্রতিনিধিরা কার্যত সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শাসিত। এ কথা সত্য যে, সরকার ও তৃণমূলের মধ্যে সংযোগের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রয়েছে। সংসদ সদস্যরা উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হয়ে কথা বলতেই পারেন। কিন্তু অতীতে প্রায়শই দেখা গেছে, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্তরের চেয়ারম্যানদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপ ও আমলাদের নিয়ন্ত্রণ। 

উল্লেখ করা যায়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) মূল দায়িত্ব হলো আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং সরকারের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। সংবিধান ও প্রচলিত সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী একজন এমপির ভূমিকা মূলত জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই তারা উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন, যা কাঙ্ক্ষিত নয় এবং গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা স্থানীয় উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু যখন এমপিরা এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন, তখন নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা বাধাগ্রস্ত হয়।

দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, প্রকল্প নির্বাচন থেকে শুরু করে ঠিকাদার নিয়োগ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনতা খর্ব হয় এবং প্রকৃত জনস্বার্থের পরিবর্তে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থ প্রাধান্য পায়। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা কমে যায়, দুর্নীতি বাড়ে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এ ধরনের হস্তক্ষেপ স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের মূল দর্শনের পরিপন্থী। একটি কার্যকর গণতন্ত্রে ক্ষমতার সুষম বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দিলে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত। এই সংসদের সদস্যরা, যারা এমপি (মেম্বার অব পার্লামেন্ট) হিসেবে পরিচিত, তাদের মূল সাংবিধানিক কাজ হলোÑ আইন তৈরি করা, সংশোধন করা এবং রাষ্ট্রীয় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া। তবে বাস্তবতা হলো, নীতি নির্ধারণের চেয়ে স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক খবরদারিতেই এমপিরা বেশি মগ্ন থাকেন। একইভাবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ২৫ বছর বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। সাংবিধানিকভাবে একজন এমপি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা মূলত দেশের আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংসদে কাজ করেন এবং নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে দেশের বার্ষিক বাজেট ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় অনুমোদন এবং তা যাচাই-বাছাই করেন এই এমপিরা। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের তথ্য মতে, একজন এমপির প্রধান দায়িত্ব হলোÑ সংসদে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, বিতর্ক এবং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতামত দেওয়া এবং নিজ এলাকার মানুষের দাবি, সমস্যা ও প্রত্যাশা সংসদে তুলে ধরা তার অন্যতম কাজ।

সংবিধানের ৭৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে দেওয়া কোনো বক্তব্য বা ভোটদানের জন্য কোনো এমপির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যায় না। এই সাংবিধানিক সুরক্ষার ফলে সংসদে তারা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পেলেও অনেক সময় তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দেশের জরুরি অবস্থায় এমপির ভূমিকা হচ্ছেÑ যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থায় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা করা এবং নিজ এলাকায় ত্রাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার অন্যতম দায়িত্ব। অতীতে এমন অভিযোগও রয়েছে, অনেক এমপি তাদের মূল কাজ ভুলে গিয়ে স্থানীয় শাসন ও উন্নয়নে বেশি জড়িয়ে পড়ছেন। যদিও স্থানীয় উন্নয়নের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমপিদের খবরদারি দেখা যায়। বিশেষ করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক নিয়োগ এবং স্থানীয় সালিশি ব্যবস্থায় এমপিদের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এমপিদের মূল কাজ যে আইন ও নীতি প্রণয়ন, সংশোধনÑ সেই কাজটিই তারা সবচেয়ে কম করেন বলে অভিযোগ শোনা যায়।

একজন সংসদ সদস্যের হাতে সরাসরি পুলিশকে গ্রেপ্তারের আদেশ বা সরাসরি কাউকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষমতা সংবিধানে নেই, তবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি পুলিশকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। সংসদ সদস্যের হাতে থাকা কিছু টুলস অত্যন্ত শক্তিশালী। এর মধ্যে অন্যতম হলো : 

১. ডিও লেটার : একজন এমপি যখন কোনো কাজের জন্য সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন, তাকেই ডিও লেটার অর্থাৎ ডেমি অফিসিয়াল বা আধা-সরকারি চিঠি বলে। এর মাধ্যমে এমপিরা বদলি বা প্রকল্প অনুমোদনে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন।  

২. টিআর ও কাবিখা : টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের বরাদ্দ কোথায়, কতটুকু যাবে এবং কারা সুবিধা পাবেন, তা মূলত এমপির অনুমোদনেই নির্ধারিত হয়। 

৩. সামাজিকক সুরক্ষা : বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা ভিজিডি কার্ড কারা পাবেনÑ সেই তালিকা তৈরিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এমপির চূড়ান্ত প্রভাব থাকে। 

৪. উপদেষ্টা পদ : পদাধিকার বলে তিনি উপজেলা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা, যা তাকে স্থানীয় প্রশাসনে খবরদারির সুযোগ দেয়। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমপিরা এবং শিক্ষক নিয়োগে প্রভাব রাখতে পারেন। 

৫. চাকরিতে নিয়োগ : সংসদ সদস্যরা সরাসরি কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন না। তবে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক সরকারি ও বে-সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় (বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে) এমপির সুপারিশ বা প্রভাব একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। 

সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংবিধান অনুযায়ী একজন এমপির প্রধান কাজ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন, সংশোধন এবং রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন করা। সরাসরি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন তার কাজ না হলেও, নিজ এলাকার জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা ও কাজের তদারকি করা তার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাস্তবে একজন এমপি এলাকার প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। পদাধিকার বলে উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হওয়ায় এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে কর্তৃত্ব থাকায় স্থানীয় প্রশাসনে তার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে। 

এমপিদের এমন হস্তক্ষেপের ফলে কয়েকটি নেতিবাচক দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথমত, স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, বরং এমপির নির্দেশনা অনুসরণ করতে বাধ্য হন। এতে গণতন্ত্রের বিকেন্দ্রীকরণ ব্যাহত হয় এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে। দ্বিতীয়ত, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অনেক সময় স্থানীয় চাহিদার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাস্তবায়িত হয়। ফলে প্রকৃত প্রয়োজন উপেক্ষিত থেকে যায় এবং উন্নয়নের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তৃতীয়ত, এ ধরনের আধিপত্য স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব ও বিভাজন সৃষ্টি করে। উপজেলা চেয়ারম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এমপির মতবিরোধ দেখা দিলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। এতে জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

সংবিধান ও আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবে যদি এমপিরা এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন, তাহলে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। বরং এতে জনগণের আস্থা কমে যায় এবং স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমি মনে করি, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও সীমা নির্ধারণ করে আইন প্রয়োগ করতে হবে, যাতে তারা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ থাকেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সংসদ সদস্যদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। এতে করে স্থানীয় সরকার-ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। এমপিদের উচিত তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করাÑ যেমন আইন প্রণয়ন, বাজেট বিশ্লেষণ, নীতি নির্ধারণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। 

আমি মনে করি, দেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য। তাই এমপি ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে, কিন্তু তা যেন কখনোই আধিপত্য বা হস্তক্ষেপে পরিণত না হয়। প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে গণতন্ত্র হবে শক্তিশালী এবং জনগণ পাবে তাদের প্রাপ্য সেবা।


মতিলাল দেব রায়

কলাম লেখক ও সমাজ সংগঠক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা