× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাতীয় ঐক্যই দেশের শক্তিশালী হাতিয়ার

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৮ পিএম

জাতীয় ঐক্যই দেশের শক্তিশালী হাতিয়ার

দেশের চরম সংকটকালে সরকারি ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত রাখল। বৃহস্পতিবার মহান জাতীয় সংসদে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল, কীভাবে সংঘাতের হাওয়া ঘুরে সমঝোতার পথে এগোয়। বলা যায়, এক বিরল সংস্কৃতির যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এই নতুন ধারার সৃষ্টি করলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উল্লেখ্য, দেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় এদিন সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে ফ্লোর নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। প্রস্তাবে তিনি যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা যৌক্তিক। কারণ এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।

সারা বিশ্বে এখন এই সমস্যাটি ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা প্রস্তাব দিয়েছিলেন সংকট নিরসনে আমরা সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করতে পারি। এমন প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানান সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানও।

এ কথা সত্য যে, দেশে জ্বালানি সংকট আজ একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং আমদানি-নির্ভরতার কারণে এই সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সংসদে উত্থাপিত ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ প্রস্তাবটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক আহ্বান নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে সম্মিলিত দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। উল্লেখ্য, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, উন্নত সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশগুলো জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে এমন এক রাষ্ট্রীয় চর্চার দিকে প্রবেশ করল আমাদের দেশ। বলে রাখা ভালো, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও যার প্রবর্তন হতে যাচ্ছে।

সংসদ দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান। এখানে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক মতবিরোধ থাকতেই পারে। সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু যখন বিষয়টি জাতীয় সংকটÑ বিশেষ করে, জ্বালানির মতো জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত তখন সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যের পথে হাঁটাই শ্রেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রস্তাব সেই বাস্তবতার প্রতিই ইঙ্গিত করে।


এ কথা সত্য, বর্তমান জ্বালানি সংকটের ফলে দেশে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কৃষিতে সেচ ব্যয় বাড়ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল সরকারের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সমগ্র জাতির সম্মিলিত উদ্যোগ। সংসদে সকল দলের অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক আলোচনা এই সংকট উত্তরণের পথ আরও সুগম করতে পারে।


ঐক্যবদ্ধ সংসদ মানে শুধু রাজনৈতিক সহমত নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ। যেমনÑ জ্বালানি খাতে অপচয় রোধ, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন। এসব বিষয়ে যদি দলমতনির্বিশেষে ঐকমত্য গড়ে ওঠে, তাহলে দেশের জন্য তা হবে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। অতীতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। সংসদে যৌথভাবে নজরদারি ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং কার্যকর সমাধানও নিশ্চিত হবে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনীতিকে যেন সংকটের হাতিয়ার না বানানো হয়। জ্বালানি সংকট কোনো দলের একার ব্যর্থতা বা সাফল্যের বিষয় নয়Ñ এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা, যার প্রভাব আমরা সবাই ভোগ করছি। তাই এখানে দোষারোপের রাজনীতি নয়, প্রয়োজন সমাধানমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। তাই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে যদি সত্যিকার অর্থে একটি ঐক্যবদ্ধ সংসদ গড়ে ওঠে, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য জাতীয় সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।


আমরা বলতে চাই, জ্বালানি সংকট বর্তমান সময়ে কীভাবে মেটানো যায়, কীভাবে জনদুর্ভোগ লাঘব করা যায়Ñ সেই বিষয়টি সরকার-বিরোধী দল সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। কারণ এই ধরনের সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর ভূমিকা থাকেÑ তা জনগণ লক্ষ করে। এখানে সরকার বা বিরোধী দল কারও দায় ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা বলতে চাইÑ সংঘাত নয়, শান্তি ও সহযোগিতাই সংকট সমাধানের পথ। এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সংসদ যদি সেই ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে এই সংকটটি দ্রুত কাটিয়ে ওঠা শুধু সম্ভবই নয়Ñ টেকসই উন্নয়নের পথও সুদৃঢ় হতে বাধ্য।

 

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা