× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়

সুমাইয়া সিরাজ সিমি

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০১ পিএম

সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড কিংবা অলিগলিতে প্রতিদিনই জমে থাকে নানা ধরনের বর্জ্য। কোথাও প্লাস্টিকের স্তূপ, কোথাও খাবারের উচ্ছিষ্ট, আবার কোথাও গৃহস্থালির ময়লা দিনের পর দিন পড়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তার একপাশ দিয়ে মানুষ ও যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে, আর অন্যপাশে জমে থাকা আবর্জনা পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধময়।

এই অবস্থায় পথচারীদের নাক চেপে পথ চলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এমন বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেÑ এই অবস্থার জন্য দায়ী কে? আমরা নাগরিকরা, নাকি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ?

আমাদের আচরণের দিকে তাকালে বিষয়টির একটি বড় অংশ স্পষ্ট হয়ে যায়। আমরা অনেকেই খুব স্বাভাবিকভাবে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলি। রাস্তার মাঝখানে, ফুটপাতে, ড্রেনের পাশে কিংবা খালি জায়গায় যেখানেই সুবিধা পাই, সেখানেই ময়লা ফেলে দেই । রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পানির বোতল ফেলে দেওয়া, খাবারের প্যাকেট ছুড়ে ফেলা, কিংবা বাসার ময়লা এনে রাস্তায় ফেলে রাখা এসব যেন আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যেন রাস্তা আমাদের ব্যক্তিগত ডাস্টবিন। এই অভ্যাসটি এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে অনেকেই এটিকে ভুল বলেই মনে করেন না। একটি শহরের রাস্তা কখনোই ময়লা ফেলার জায়গা হতে পারে না। এটি শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি একটি শহরের পরিচয় বহন করে। একটি শহরের পরিচ্ছন্নতা তার নাগরিকদের সচেতনতা ও সভ্যতার প্রতিফলন। অথচ আমরা নিজেরাই সেই পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছি আমাদের অসচেতন আচরণের মাধ্যমে।

তবে পুরো দায় যদি শুধুই নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটিও হবে অন্যায়। কারণ বাস্তবতা হলোÑ দেশের অনেক শহরে এখনও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই। কোথাও ডাস্টবিন থাকলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না, ফলে উপচে পড়ে ময়লা। অনেক এলাকায় নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই বাধ্য হয়ে কাছের রাস্তার পাশেই ময়লা ফেলে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এই ঘাটতি এবং পরিকল্পনার অভাব সমস্যাটিকে আরও তীব্র করে তুলছে।

কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসেÑ ডাস্টবিনের অভাব কি আমাদের দায়মুক্ত করে দেয়? বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও মানুষ তা ব্যবহার করে না। কয়েক কদম হাঁটার চেয়ে তারা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই ময়লা ফেলে চলে যেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই মানসিকতা বদলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরের বাজার এলাকায় গেলে দেখা যায়, দোকানিরা দোকান পরিষ্কার করে সেই ময়লা সরাসরি রাস্তায় ফেলে দেয়। পথচারীরাও একইভাবে চলতে চলতে ময়লা ফেলে যায়। দিনের শেষে রাস্তা হয়ে ওঠে আবর্জনার স্তূপ, আর সেখান থেকে ছড়ায় অসহ্য দুর্গন্ধ। এই দুর্গন্ধ শুধু অস্বস্তির কারণ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।

তাহলে সমাধান কোথায়? প্রথমত, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর ও আধুনিক উদ্যোগ নিতে হবে। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে, যাতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ময়লা ফেললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, নাগরিকদের নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। ডাস্টবিন না পাওয়া গেলে ময়লা কিছু সময় নিজের কাছে রাখা খুব কঠিন কিছু নয়। বরং এটি একটি দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।

পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক প্রয়োজন। আমরা যদি এখনই আমাদের অভ্যাস পরিবর্তন না করি, তাহলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই সময় এসেছে নিজেদের প্রশ্ন করারÑ আমি কি আমার শহরকে পরিষ্কার রাখতে দায়িত্বশীল? কারণ রাস্তা কখনোই ডাস্টবিন নয়Ñ এটি আমাদের চলার পথ, আমাদের সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু আমরা যদি আমাদের অভ্যাস পরিবর্তন না করি, তাহলে সেই রাস্তা ধীরে ধীরে ডাস্টবিনেই পরিণত হবে। আর তখন দায় কার, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়াটাই হবে আরও কঠিন।

 

সুমাইয়া সিরাজ সিমি

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা