ইমেইল থেকে
আশরাফুল আজম খান
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৭ পিএম
পরীক্ষা হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার অতি ক্ষুদ্র ও সাধারণ একটি অংশ। এক বছর বা নির্দিষ্ট একটা সময় শেষে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখলো বা প্রান্তিক যোগ্যতাগুলো অর্জন করলো তা যাচাই করার একটা পদ্ধতিমাত্র। তবে নিঃসন্দেহে সে পদ্ধতি হতে হবে ত্রুটিমুক্ত, নিরপেক্ষ, নির্ভরযোগ্য বা নকলমুক্ত। নকলের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর যে প্রচেষ্টা বা মনোভাব লক্ষ করা যাচ্ছে তাকে যে কেউ সাধুবাদ জানাবেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, কাজে, ভাষণে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার যেন প্রধান ও একমাত্র সমস্যা নকল।
আসলে তা নয়। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা গভীরে। এর গুণগত মানের দিকে তাকালে এ সংকটের গভীরতা উপলব্ধি করা যাবে। বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষার অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠলেও এর মানের দারুণ অবনমন ঘটেছে। শিক্ষা হয়ে পড়েছে সার্টিফিকেটসর্বস্ব। অনার্স বা ডিগ্রি পাশ করেও সপ্তম শ্রেণির প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না আমাদের ছেলেমেয়েরা। এ পরিস্থিতিতে কেবল নকল ঠেকালেই যে শিক্ষা ব্যবস্থা রোগমুক্ত হবে তা মোটেও ঠিক নয়।
শিক্ষার রোগ সারাতে হলে
শুরু করতে হবে গোড়া থেকে। ফিরিয়ে আনতে হবে শিক্ষাব্যবস্থা ইমিউন সিস্টেম।
স্বাধীনতার দীর্ঘ সময়ে একটা টেকসই বা দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষানীতি নেই আমাদের। যে সরকার
ক্ষমতায় আসে তাদের মতো করে এক একটা নীতি শিক্ষায় চাপিয়ে দেয়। বারবার পরীক্ষা
পদ্ধতি ও কারিকুলামের পরিবর্তন, শিক্ষার সাথে কাজের সম্পর্কহীনতা, শিক্ষাজীবন শেষে
বেকারত্বের গ্লানি বা চাকরি না পাওয়া, শিক্ষাপ্রশাসনে রাজনীতির অতিরিক্ত প্রয়োগ,
প্রশিক্ষিত ও মানসম্মত শিক্ষকের অভাব, শিক্ষকতার পেশায় মেধাবীদের না আসা,
শিক্ষকদের নিম্নবেতন ও নিম্ন সামাজিক মর্যাদা, অভিভাবকদের দারিদ্র্য ও
শিক্ষাব্যয়ের বৃদ্ধি, বাজেটের অপর্যাপ্ততা, পদে পদে দুর্নীতি সর্বোপরি একটি অভিন্ন
জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে না পারা শিক্ষার মোটাদাগের সংকট।
বাংলাদেশের
শিক্ষাব্যবস্থার একটি প্রধান সমস্যা অভিন্ন, সার্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক
শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে না পারা। এ শিক্ষাব্যবস্থা সাধারণ, মাদরাসা, ইংলিশ
মিডিয়াম, ইংরেজি ভার্সন, ক্যাডেট ইত্যাদি নানা ধারায় বিভক্ত। ফলে জাতীয় জীবনে এই
বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলার বিষফল আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে। তাই এসব সমস্যার সমাধান এড়িয়ে
কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বা বডি ক্যামেরা লাগিয়ে নকলের দাফন কাফন ও জানাযা
দিলেও কাজের কাজ হবে না। দরকার কম্প্রেহ্যান্সিভ এপ্রোচ। আরো বিস্তৃত ও গভীর
ভাবনা।
আশরাফুল আজম খান
শিক্ষক, ঢাকা